২:৩৫ এএম, ৮ এপ্রিল ২০২০, বুধবার | | ১৪ শা'বান ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

আলমপুর বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের বই নিতেও টাকা লাগছে

০২ জানুয়ারী ২০২০, ০৭:৪৭


সরকার বিনামূল্যে বছরের প্রথম দিন প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণের উৎসব করলেও টাকার বিনিময়ে বই দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু শিক্ষকের বিরুদ্ধে।  এ কারণে অনেক শিক্ষার্থী বই না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে বলেও জানা গেছে। 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার আলমপুর বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, গত বছরের পুরাতন বই ফেরত আর নগদ টাকা না দিলে বই মিলছে না কারোই। 

তবে নগদ টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক সকলকে বই দিয়ে দিতে নির্দেশ দেন।  আর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, বই দিতে যদি কোনো প্রকার শর্ত আরোপ করে সেই প্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বছরের প্রথম দিন নতুন ক্লাসের বই নিতে এসেই প্রথমেই হোচট খায় সিরাজগঞ্জের আলমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জানান, গত বছরের পুরনো সব বই ফেরত আর নগদ ২০ টাকা না দিলে কাউকে নতুন বই দেয়া হবে না।  এরপর যে সকল শিক্ষার্থীদের যাদের কাছে নগদ টাকা আছে তাদের প্রথমে তাদের নতুন বই দেয়া হয়।  তবে নতুন বই মিললেও ১৪টি বইয়ের সেট থাকলেও তাদের দেয়া হয়েছে ১০টি।  বাকি ৪টি মিলবে স্কুলের সেশন চার্জ দেবার পর।  আর পুরানো বই ফেরত দেবার পরে।  তাই অনেক শিক্ষার্থীই বছরের প্রথমদিন মনে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। 

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, প্রথমে পুরানো বছরের বই ও টাকা ছাড়া শিক্ষকরা বই দিতে চাইছিলো না।  পরে যাদের কাছে টাকা ছিলো শুধু তাদেরকেই বই দেয়া হয়।  আমরা তো অনেক আনন্দ নিয়ে স্কুলে এসেছিলাম কিন্ত আমাদের কাছে টাকা না থাকার কারণে আমরা খালি হাতে বাড়িতে ফিরলাম। 

আলমপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নগদ টাকা নেওয়ার অস্বীকার করে জানান, কারো কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়নি।  যারা বই পায়নি তাদের সকলকেই বই দিয়ে দেয়া হবে।  

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামীম আরা জানান, বই দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।  দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) এ বি এম রওশন কবীর জানালেন, বিনামূল্যের বই বিতরণে কোনো ধরনের শর্ত আরোপের সুযোগ নেই।  কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 

এই প্রতিষ্ঠানে ৮০০ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে।  বছরের নানা সময় বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেশী টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।  এ বছর জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে ৭০ লক্ষ বই বিতরণ করা হয়।