৮:৪২ এএম, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

'খুলনাঞ্চলের কাঁকড়ার বাজার সরগরম'

০৪ জানুয়ারী ২০২১, ০৮:০৪


করোনা

ভাইরাসের প্রভাব উৎরিয়ে ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে উঠছে কাঁকড়ার বাজার।  বিদেশের বাজারে বাড়ছে চাহিদা।  চার দেশের বাজার ফিরে পেয়েছে বৃহত্তর খুলনাঞ্চলের কাঁকড়া।  চাঙ্গা হয়ে উঠছে চাষিরাও।  চিংড়ি ও সমন্বিত মৎস চাষের পাশাপাশি খাঁচায় কাঁকড়া চাষ আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে।  ফলে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা এখন উজ্জীবীত। 
যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডসহ দেশের বাইরে বেড়েছে সুন্দরবন অঞ্চলের কাঁকড়ার জনপ্রিয়তা।  ফলে বৈদেশিক মুদ্রাও আয় হচ্ছে বেশি।  রোগ-বালাই কম ও দাম বেশি পাওয়ার কারণে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৩ উপজেলায় কাঁকড়ার চাষও বেড়েছে।  চাষিরা জানান, তিনমাস সময়ের মধ্যে পুরুষ ও মহিলা জাতের কাঁকড়া বিদেশে রফতানি যোগ্য হয়।  শৈত্য প্রবাহ ও গ্রীষ্মের দাবদাহে কাঁকড়া মারা যায় না।  প্রতি কেজি চিংড়ি প্রকারভেদে ৭০০টাকা থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কাঁকড়া ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। 
স্বল্প সময়ে বেশি মুনাফা হওয়ায় সুন্দরবন সংলগ্ন বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, কয়রা, রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, শরণখোলা, শ্যামনগর, আশাশুনি কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলায় কাঁকড়া চাষ সম্প্রসারণ হয়েছে।  প্রতিমাসে গড়ে দেড় লাখ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রপ্তানী হচ্ছে।  যে সব দেশে কাঁকড়া রপ্তানী হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য যুক্তরাজ্য। 
মার্চ মাস থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপ বাংলাদেশি হিমায়িত খাদ্য আমদানি বন্ধ করে দেয়।  সে সব দেশে কমপক্ষে ৮০টি অর্ডার বাতিল হয়।  ক্ষতিগ্রস্থ হয় খুলনাঞ্চলের ৫টি হিমায়িত প্রতিষ্ঠান।  এরপর গত ২০ ও ২১ মে আম্পানের আঘাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর, খুলনার কয়রা, বাগেরহাটের মোংলায় কাঁকড়ার খামার ভেসে যায়।  ফলে চাষীরা চরম দূর্দিনে পড়ে।  করোনার পূর্বে খুলনাঞ্চলের উৎপাদিত কাঁকড়া ১৯টি দেশে রপ্তানী হত।  গত বছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও নেদারল্যান্ডে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮ ডলার মূল্যের কাঁকড়া রফতানি হয়।  এতে কিছুটা হলেও হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বস্তি ফিরে আসে। 
কসমস সী ফুডের এমডি মো. মনির হোসেন ইনকিলাবকে জানান, কাঁকড়ার আবার সুদিন ফিরে এসেছে।  ইউরোপের বাজার বন্ধ হলেও জাপানসহ অন্যান্য দেশে গত ৬ মাস ধরে কাঁকড়া রফতানি হচ্ছে।  সেই সাথে দক্ষিণাঞ্চলের কাঁকড়ার মোকামগুলো চাঙ্গা হয়েছে। 
খুলনা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, খুলনা জেলার কয়রা, পাইকগাছা, ডুমুরিয়া, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় গত অর্থ বছরে ২৮ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ৯৮৯ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়েছে। 
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ, দেবহাটা, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় গত অর্থ বছরে ৩০৭ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ২০০ টন কাঁকড়া উৎপাদন হয়।  চিংড়ির চেয়ে কাঁকড়া চাষ লাভজনক হওয়ায় এখানকার চাষিরা কাঁকড়াতে বেশি অর্থ বিনিয়োগ করছে।  স্থানীয় কাকশিয়ালী, কালিঞ্চি, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদ থেকে চাষিরা কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করেন।