৬:৪২ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার | | ১ সফর ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

খুলনায় বালু উত্তোলনকারীরা ধ্বংস করছে পরিবেশ!

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৩


খুলনায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালীরা।  এতে হুমকির মুখে পড়েছে নদী পাড়ের বেড়িবাঁধ, ফসলি জমি, ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা।  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় কাজিবাছা নদীতে একটি মাত্র বালুমহালে ইজারা নিয়ে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ঠিকাদার।  বাকি সবই অবৈধ। 

জানা যায়, খুলনার ডুমুরিয়ার সালতা, মরা ভদ্রা, হরি নদী, রূপসার চর মাথাভাঙ্গা, জাবুসা এলাকা, বটিয়াঘাটার আমতলী নদী, কয়রার কপোতাক্ষ নদসহ বিভিন্ন খাল-বিল থেকে মাসের পর মাস বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।  কয়রা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙন আতঙ্ক রয়েছে এলাকায়।  অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। 

বটিয়াঘাটা এলাকার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক নগেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, নদী থেকে বালু উত্তোলনের পর তা পাইপ দিয়ে কৃষি জমি ভরাট করা হচ্ছে।  দূরত্ব ভেদে ২-৩ লাখ টাকার চুক্তিতে জমি ভরাট করা হয়।  নিষেধ করলে ক্ষমতার দাপট ও ভয়ভীতি দেখায়।  একইভাবে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের কথা বলেও নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।  ডুমুরিয়ার জয়খালী বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন করে সাহস-জয়খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। 

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে বালু ভরাটের কাজ করছেন ঠিকাদার।  এতে আশেপাশের স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।  এদিকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বটিয়াঘাটার আমতলী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

বটিয়াঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, নদী-খাল থেকে বালু উত্তোলন ও কৃষি জমি ভরাট বন্ধ করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  লবণচরা ও জিরোপয়েন্টে কয়েকটি এলাকায় প্লট ব্যবসার নামে কৃষি জমিতে বালু ভরাট কাজ বন্ধ করা হয়েছে।  সরকারি বালু মহালের বাইরে নদ-নদী থেকে বালু উত্তোলন করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।