৮:৩১ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

'গৃহবধূকে রাতভর ধর্ষণ, ৪ জন গ্রেপ্তার'

১০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৯


কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক গৃহবধূকে রাতভর আটকে রেখে পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।  ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে ১৫দিন পূর্বে।  এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর, শনিবার ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পাঁচজনের নামে থানায় মামলা করলে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  ঘটনাটি ঘটেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার রাজারঘাট এলাকায়। 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আবু বক্কর, কায়ছার আলী, সোবহান আলী লিটন ও মমিনুল ইসলাম।  কিন্তু মামলার মূল আসামী রবিউল ইসলাম পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। 

মামলা ও গৃহবধূর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উলিপুর পৌরসভার বলদিপাড়া গ্রামের ওই গৃহবধূ (২৫) এক সন্তানের জননী।  তার স্বামীর অনুপুস্থিতিতে প্রতিবেশি মোহাম্মদ আলীর পুত্র ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম (৩০) তাদের বাড়িতে আসতেন এবং তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিতেন।  এক পর্যায়ে ওই গৃহবধুকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন রবিউল।  ঘটনার দিন গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে রবিউল ওই গৃহবধূকে নতুন করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মোবাইল ফোনে ডেকে নেন।  এরপর গৃহবধূ তার দেড় বছরের শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে উলিপুর বাজারে রবিউলের সঙ্গে দেখা করেন। 

পরে একটি অপরিচিতি অটোরিক্সাযোগে রবিউল ওই গৃহবধূকে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের রাজারঘাট গ্রামের জনৈক আবু বক্করের (৩৫) ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যান।  সেখানে একটি ঘরে আটকে রেখে জোর পূর্বক তাকে ধর্ষণ করে রবিউল।  এ সময় রবিউলের সঙ্গী ওই এলাকার কায়ছার আলী (৪০), সোবহান আলী লিটন (৪২), মমিনুল ইসলাম (৩৮) ওই গৃহবধূকে রাতভর পালাক্রমে জোর পূর্বক গণধর্ষণ করে।  পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গৃহবধূকে ঘরের মধ্যে একা রেখে তারা সটকে পরেন।  এরপর গৃহবধূ নিরুপায় হয়ে অটোরিক্সা করে চিলমারী উপজেলাধীন তার পিতার বাড়িতে চলে যান। 

গৃহবধূর শ্বশুর নুর ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পর তার ছেলের স্ত্রী বাড়িতে ফিরে আসলে রবিউল পুনরায় তাকে কু-প্রস্তাব দেয়।  এতে ওই গৃহবধূ রাজি না হলে রবিউল গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করার ভয় দেখাতে থাকেন।  এতে গৃহবধূ পরিবারের সকলকে বিষয়টি জানালে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে রবিউলের বিচার চান নুর ইসলাম।  এ ঘটনায় রবিউল ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।  পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শনিবার রবিউল ইসলামসহ ৫ জনের নামে উলিপুর থানায় মামলা করেন। 

এ বিষয়ে ওই এলাকার কাউন্সিলর আনিছুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে বার-বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। 

উলিপুর থানার ওসি (তদন্ত) রুহুল আমীন জানান, গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।  ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।