১১:১৭ পিএম, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, মঙ্গলবার | | ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

'চাকরির প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা'

১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:১৯


দীর্ঘ দিন ধরে ২ সন্তানের জননীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পচাসারুটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরহাদ আলীর (৪৫) বিরুদ্ধে।  এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী উপজেলার শাখাইল গ্রামের দুখু মিয়ার ছেলে।  এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মো. ফরহাদ আলীসহ ৩ জনকে আসামি করে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাগরপুর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।  মামলাটি বিজ্ঞ আদালত তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল ডিবিকে (দক্ষিণ) দায়িত্ব দেন। 

এদিকে ভুক্তভোগী ওই নারীর সঙ্গে শিক্ষক ফরহাদ আলীর যৌন উত্তেজক আপত্তিকর কথপোকথনের একাধিক অডিও ক্লিপস ভাইরাল হলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের ভারড়া গ্রামের হত দরিদ্র কাঠমিস্ত্রীর স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার সূত্র ধরে মর্জিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন প্রধান শিক্ষক মো.ফরহাদ আলী।  চাকুরী প্রত্যাশীর দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে মুঠোফোনে ও সরাসরি প্রতিনিয়ত শারীরিক মিলনের জন্য কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে।  ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি এলাকার মাতাব্বরদের জানালে, এ নিয়ে একটি গ্রাম্য সালিস বসে।  প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রাম্য সালিসে বসতে রাজি হননি।  গ্রাম্য মাতব্বরদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে তার হীন উদ্দেশ্যে চরিতার্থ করার জন্য বিভিন্নভাবে ওই নারীকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। 

গত ১ নভেম্বর ভোরে প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে ভুক্তভোগীর মর্জিনার বাড়িতে গিয়ে মর্জিনার মুখ চেপে ধরে বিবস্ত্র করে ফেলে কাপড়ের আঁচল দ্বারা ভুক্তভোগী নারীর গলায় ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করে।  ব্যর্থ হয়ে লাঠি দিয়ে মর্জিনার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।  সেসময় তার চিৎকারে মর্জিনার স্বামীসহ আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে এঘটনা কাউকে না জানাতে ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়াসহ নানা ধরণের হুমকি দিয়ে চলে যায়। 

পরে মর্জিনার আত্মীয় স্বজনরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে নাগরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।  এবিষয়ে মর্জিনা গত ৯ নভেম্বর টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাগরপুর আমলী আদালতে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলাটি বিজ্ঞ আদালত সুষ্ঠ্ তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল ডিবিকে (দক্ষিণ) দায়িত্ব দেন।  মামলার পর থেকেই প্রধান শিক্ষক ফরহাদ গ্রামের প্রভাবশালীদের দিয়ে মর্জিনাকে মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে চাপ সৃষ্টি করায় ভুক্তভোগীর পরিবার শঙ্কায় রয়েছে বলে জানা গেছে। 

প্রধান শিক্ষক ফরহাদ আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।  উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক এম এ রউফ বলেন, ‘সভাপতির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলার বিষয়টি আমরা জেনেছি তবে সংগঠন তার ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় নেবে না। ’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.ওবায়দুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ‘মামলাটি বর্তমানে তদন্তের মধ্যে রয়েছে। ’

এ প্রসঙ্গে পচাসারুটিয়া মেহের আলী খান উচ্চ বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটির সভাপতি ডা.তাহেরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়।  যদি স্কুলের ভেতর এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটতো তাহলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।  আর ভিকটিমও আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি।  তবে আমি বিষয়টি শুনেছি ভুক্তভোগী আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। ’