১:৩৮ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৪ সফর ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ অতঃপর মামলা'

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৭


রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির বিরুদ্ধে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।  এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা নিজে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেন।  বিষয়টি রংপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। 
ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন রনি।  সেই সাথে শিক্ষিকার কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।  পরবর্তীতে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে আপত্তি জানিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি দেখান।  এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে অবশেষে বাধ্য হয়েই থানায় প্রতারণা ও ধর্ষণের মামলা করেন বলে জানান ওই শিক্ষিকা। 

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রশিদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাদী স্কুল শিক্ষিকাকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয়েছে।  এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতি রনির দাবি ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তার শুধু প্রেমের সম্পর্ক ছিল, এর বেশি কিছু নয়।  ওদিকে ছাত্রলীগ নেতা রনি ও ওই স্কুল শিক্ষিকার ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় বিষয়টি রংপুর টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।  ছাত্রলীগ নেতা রনির বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ ওঠায় বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা কর্মীরা।  দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  একপক্ষ বলছে, যেহেতু মামলা হয়েছে সেহেতু আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা হবে।  অপরপক্ষের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ছাত্রলীগ সভাপতি রনির নামে মামলা করা হয়েছে। 

বাদীর আত্মীয়-স্বজনরা ক্ষোভের সাথে বলেন, ধর্ষণ মামলা করা সত্ত্বেও পুলিশ মামলার আসামি  গ্রেপ্তারসহ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।  এব্যাপারে কোতোয়ালি থানার আব্দুর রশিদ বলেন, স্কুল শিক্ষিকার মামলার ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।  মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সিদ্দিকী রনির সাথে তানিয়ার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  রনি তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকা কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং দফায় দফায় ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। 

এরপর বিয়ের কথা বললে রনি টালবাহানা শুরু করেন।  পরে তার বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের চাপা ২০০৯ সালে ১৮ই এপ্রিলে নীলফামারীতে বিয়ে করার জন্য যান এবং নীলফামারী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সজল কুমারের বাসায় ভুয়া কাজী এনে বিয়ে করে বাসর রাত করেন।  রনির হাতে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে ওই এজাহারে আরও উল্লেখ করেন।  বিয়ের পর তাকে শ^শুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বললে টালবাহানা ও সময় পার করেন।  এরমধ্যে রনি ছাত্রলীগের সভাপতি ছয় বছর দায়িত্ব পালন করায় সে যুবলীগের সভাপতি পদ পেতে ২০ লাখ টাকা লাগবে বলে তার কাছে চান।  এতে তানিয়া টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৫ই জুন কেরানীপাড়া বাসায় রাত্রিযাপনকালে জোর করে ধর্ষণ করেন। 

এরপর রনি বলেন- সে তাকে বিয়ে করেনি।  রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান কানন বলেন, অভিযোগ যখন উঠেছে তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।