৩:৪৭ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

প্রতিদিনই বাড়ছে অনুপ্রবেশ, বালুখালীতে আশ্রয় পাবে একাংশ, মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন মাল

ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা

০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:১১


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন ও হত্যা-নির্যাতন এড়াতে প্রতিদিন অব্যাহতভাবে আসা রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে।  সীমান্তে কড়াকড়ি উপেক্ষা করে জল ও স্থলসীমান্ত দিয়ে এ অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।  মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বরাত দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বার্তাসংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, কয়েকদিনে বাংলাদেশে ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে।  এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।  

নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের একাংশকে বালুখালী ক্যাম্পে স্থান দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের।  এ পরিস্থিতিতে রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।  রোহিঙ্গা নির্যাতনের জেরে মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ।  

কক্সবাজার সংবাদদাতা শাহ নিয়াজ জানান, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা এড়াতে নাফ নদী পার হয়ে ও বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বানের স্রোতের মতো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে।  বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়।  কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা উখিয়া ও টেকনাফ নতুন অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে হিমশিম খাচ্ছে।  পুরাতন লেদা, কুতুপালং ও বালুখালী এ তিন অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে তিলধারণের ঠাঁই নেই।  তাই এক সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে, কুতুপালং শরণার্থী শিবির সংলগ্ন টেলিভিশন কেন্দ্র এলাকার সরকারি বনভূমিতে এবং স্থানীয় বাংলাদেশীদের বসতবাড়ির আশপাশ ও উঠানে অবস্থান নিয়েছে।  টেকনাফ, উখিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে, পাহাড়ি টিলা ও রাস্তাঘাটে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেয়ার পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যাচ্ছে।  সোমবার রাতে কক্সবাজারে প্রবেশ করার সময় সদর উপজেলার লিংকরোডে একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ রোহিঙ্গাকে আটক করে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের সদস্যরা।  

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, তার হিসাবমতে এক সপ্তাহে ১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।  কুতুপালং এবং নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে তিলধারণের জায়গা নেই।  কুতুপালং, বালুখালী ও লেদা রোহিঙ্গা বস্তি নিয়ন্ত্রণকারী মাঝিরা জানান, তাদের একেক বস্তিতে নতুন করে ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।  নতুন করে থাইংখালীতে একটি বস্তি গড়ে তোলা হয়েছে।  

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রইক্ষ্যং ও পুটিবনিয়া গ্রামে নতুন করে আরেকটি রোহিঙ্গা অস্থায়ী বস্তি গড়ে তোলা হচ্ছে।  ওই এলাকার বিশাল পাহাড় এবং ধান চাষের জমিতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ত্রিপল ও বাঁশ দিয়ে নতুন বস্তি তৈরি করছে।  কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উনটিপ্রাং নামক স্থানে ট্রাকে ট্রাকে রোহিঙ্গারা আসছে।  মহাসড়কের উনচিপ্রাং থেকে রইক্ষ্যং ও পুটিবনিয়ার দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার।  এ ৩ কিলোমিটার সড়কে সকাল থেকে দুপুর অবধি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ, শিশুর ঢল লক্ষ্য করা গেছে।  সংরক্ষিত উখিয়ার টেলিভিশন রিলে সেন্টার সংলগ্ন বিশাল বনভূমিও দুই দিনে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা।  সেখানে নতুন করে বস্তিঘর তৈরি না করলেও খোলা আকাশের নিচে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।  হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবদুল বাসেত বলেন, রইক্ষ্যং ও পুটিবনিয়া মৌজায় চার দিনে কম করে হলেও ৩০ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে।  

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমদ জানান, বৃহত্তর থাইংখালীর বালুখালী ঢালা, হাকিমপাড়া ও তাইজন্যারমার খোলা মৌজায় চার দিনে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা এসেছে।  সোমবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে দুইটি রোহিঙ্গা শিশু মার্শাল নামের একজনকে ধরে কান্নাকাটি করে।  তিনি জানান, ওই দুই শিশুর কাছে কান্নাকাটির কারণ জানতে চাইলে তারা বলে বার্মা (মিয়ানমার) থেকে পালিয়ে এসেছে মামার সঙ্গে।  এখন তারা মামাকেও হারিয়ে ফেলেছে।  পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে মামার সন্ধান পাওয়া যায়।  তিনি জানান, বর্মী সেনারা তার বোনের পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলে এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।  কোনোমতে তার দুই ভাগিনাকে নিয়ে তিনি এখানে পালিয়ে আসেন।  জানা যায়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন।  জেলা শহরের বিভিন্ন উপজেলার যুবসমাজ স্বউদ্যোগে, বিভিন্ন সংগঠন ও এনজিও পক্ষ থেকেও ত্রাণ দেয়া হচ্ছে।  তারপরও রোহিঙ্গাদের মধ্যে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।  

বিডিনিউজ জানায়, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা উখিয়ার বালুখালীতে বন বিভাগের ৫০ একর জমিতে আশ্রয় পাবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ।  মঙ্গলবার তিনি বলেন, গত বছর অক্টোবরে রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শুরু হলে উখিয়ার বালুখালীতে বন বিভাগের কাছে ওই জমি বরাদ্দ চাওয়া হয় মাস ছয়েক আগে।  গত বছর আসা কয়েক হাজার রোহিঙ্গা এরই মধ্যে সেখানে আছে।  নতুন করে যারা আসছে, তাদেরও সেখানে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হবে।  তিনি বলেন, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না থেকে ওই ক্যাম্পের আশপাশে থাকতে বলা হয়েছে।  

রইক্ষ্যং ও বালুখালীতে একাধিক অস্থায়ী ক্যাম্প : টেকনাফের প্রধান সড়ক, বেড়িবাঁধ ও বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে রোহিঙ্গা আর রোহিঙ্গা।  স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে।  সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী উখিয়া উপজেলার আনজুমানপাড়া, রহমতেরবিল পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এ রোহিঙ্গাদের বসবাস।  সরেজমিন দেখা যায়, হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টের পাশে মাঠে কয়েক শত রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন যানবাহন থেকে নামিয়ে জমায়েত করে রাখা হয়েছে।  একইভাবে হ্নীলা চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাইমারি স্কুলে এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক শত রোহিঙ্গাকে জড়ো করা হয়েছে।  এ দুই স্থানে বিজিবিকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।  উখিয়ার বালুখালীতে রোহিঙ্গারা স্বউদ্যোগে অস্থায়ী ক্যাম্প এবং টেকনাফের হোয়াইক্যং উঞ্চিপ্রাং-রইক্ষং অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে।  সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে কাঞ্জরপাড়ায়।  এখানে নাফ নদীর পাশে ধান ক্ষেতে কয়েক মাইল এলাকাজুড়েই অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা।  

৩ হাজার ১১৯ রোহিঙ্গা ফেরত : টেকনাফ সংবাদদাতা জানান, টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকালে আটকের পর ৩ হাজার ১১৯ রোহিঙ্গা নারী-পুরষকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।   মঙ্গলবার বিজিবি-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এ এস এম আরিফুল ইসলাম জানান, ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন সীমান্তে অনুপ্রবেশকালে ২ হাজার ৬৭৮ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়।  পরে তাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়।  অপরদিকে নাফ নদী হয়ে অনুপ্রবেশকালে ৪৪১ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষকে আটকের পর মানবিক সহায়তা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।  টেকনাফ কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার লে. জাফর ইমাম সজিব জানান, এসব রোহিঙ্গার মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। 

শাহপরীর দ্বীপে ৩২ দালালকে সাজা : টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহযোগিতা করায় ৩২ দালালকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।  তার মধ্যে একজনকে ১৫ দিনের, তিনজনকে এক মাসের এবং ২৮ জনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম সাজা দেয়া হয়েছে।  টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক এবং টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পৃথকভাবে এ দন্ডাদেশ দেন।   

চমেকে গুলিবিদ্ধ আরও চার রোহিঙ্গা : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মিয়ানমারের মংডুতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বৃদ্ধসহ আরও চার রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।  মঙ্গলবার সকালে তাদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  আহতরা হলেন মিয়ানমারের মংডু এলাকার ওসমানের ছেলে আয়াত উল্লাহ, হোসেন আহমদের ছেলে আরাফাত, সুলতান আহমদের ছেলে আমান উল্লাহ ও সোলাইমানের ছেলে আবদুল গণি।  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, মংডুতে গুলিবিদ্ধ আরও চার রোহিঙ্গা চমেকে ভর্তি হয়েছেন।  তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলির চিহ্ন রয়েছে।   

জিরো পয়েন্টে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বোমা আতঙ্ক : বান্দরবান সংবাদদাতা জানান, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টের বিভিন্ন স্থানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  এক সপ্তাহে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়ে অন্তত চারজন আহত হন।  সর্বশেষ সোমবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরিত হয়ে ফাতেমা নামের এক রোহিঙ্গা নারীর দুই পা উড়ে যায়।  বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  বিজিবি কক্সবাজারের ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছেন।  তিনি বলেন, বাংলাদেশের অংশে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।  স্থানীয়রা জানান, উভয় দেশের জিরো পয়েন্টে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী এসব স্থলমাইন-জাতীয় বিস্ফোরক পুঁতে রাখে।  

মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করল মালদ্বীপ : রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে মালদ্বীপ।  রোববার মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দেয়।  মালদ্বীপের দ্য সান অনলাইন এ খবর জানিয়েছে।  বিবৃতিতে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সহিংসতায় বহু রোহিঙ্গা মুসলমানের মৃত্যু এবং লাখো মানুষের বাস্তুচ্যুতিতে মালদ্বীপ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।  বিবৃতিতে বলা হয়, মালদ্বীপ মনে করে (মিয়ানমারে) রক্তপাত বন্ধে অবশ্যই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।   

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন বন্ধ করুন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী : রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন।  রোববার এক বিবৃতিতে বরিস জনসন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চিকে সতর্ক করে বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তাতে বার্মারই (মিয়ানমার) সুনাম নষ্ট হচ্ছে।  রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করার লক্ষ্যে নিজের ‘অসাধারণ নেতৃত্ব’ ব্যবহার করতে অং সাং সু চির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।  
মিয়ানমারের পথে উদ্ধারকারী জাহাজ : ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়া শরণার্থীদের উদ্ধার কাজে থাকা একটি জাহাজ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে এবার মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা করেছে।  সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিবিসির খবরে বলা হয়, মাইগ্রেন্ট অফশোর অ্যাইড স্ট্যাশন বা এমওএএস নামক ওই জাহাজটি মাল্টার পাশে অবস্থান নিয়ে ভূমধ্যসাগরের শরণার্থীদের ২০১৪ সাল থেকে সহায়তা দিয়ে আসছে।  ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি ভূমধ্যসাগর থেকে বঙ্গপোসাগরে পৌঁছতে তিন সপ্তাহ সময় নেবে।  

২৪ অগাস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনাক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর নতুন করে দমন অভিযান শুরু হয়।  মিয়ানমার সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম এক সপ্তাহে রাখাইনে সহিংসতায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে; পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে ২ হাজার ৬০০ ঘরবাড়ি।  সোমবার ঢাকায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা জানান, তাদের হিসেব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ২৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।  জরুরি ভিত্তিতে তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন।