১২:৪৬ এএম, ৮ আগস্ট ২০২০, শনিবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

‘আমার লেখা প্রবন্ধ'

‘জীবন ও সাহিত্য’

২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭:৫৩


‘জীবন ও সাহিত্য’

ম আ সালাম গফফার ছন্দ

সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার বছর বা তারও আগে।  ভাষার জন্ম তথা মানব জীবন উদ্ভবের সাথে সাথে বলতে হবে।  সাহিত্য তাই জীবনের প্রাণ স্পন্দন বা সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের হাসি কান্নার বাস্তব স্মৃতি বিজড়িত ছবি।  যার রস মনের কানায় কানায় শিরা উপ-শিরায় এক কথায় ধমনীতে প্রবাহিত হয়ে তীব্র বেগে সৃষ্টি করে অনাগত হাসি কান্না পূর্ণ অবিমিশ্র শান্তি! যা কোন জাতিই এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারেনা।  সাহিত্য অমর; মানব অতিমানব গণ অমরত্ব লাভ করেন সাহিত্যের পরশে।  যার বৈশিষ্ট্য দু’টি! সক্রিয় আর নিস্ক্রিয়।  সাহিত্য মানব জীবনের জন্ম মৃত্যু, সুখ-দুঃখ হাসি কান্না আর তার সহানুভূতি বয়ে নিয়ে পৌঁছে দেয় যুগান্তের দ্বারে প্রাণে প্রাণে।  তাইত মানব সভ্যতার শেষ থেকে শুরু করে অনাদী কালের বর্বর মানব জাতির কৃষ্টি সৃষ্টির সব কিছুই ইতিহাস দর্শন; সাহিত্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি।  মূলত ইতিহাস কি?

ইতিহাস অর্থ অতীত ঘটনা বা কাহিনী।  আর ঘটনা বা কাহিনী যার মাধ্যমে যুগ যুগান্তরের ঘটনাকে আমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।  সেই সব সুখ দুঃখের ঘটনাবলী জানতে পেরে মন হয়ে ওঠে ভারাক্রান্ত আবার খুশীতে পূর্ণ।  মানুষের কর্ম জীবনের বাস্তব চিত্রই হলো ইতিহাস সাহিত্য। তবে, এ ক্ষেত্রে ইতিহাস সাহিত্য হলেও একে পূর্ণাঙ্গ সাহিত্য বলা চলেনা।  কারণ,ইতিহাস হচ্ছে সাধারণ মানুষের কথা না থাকলেও গুটি কয়েক মানুষের কথা মাত্র।  সাহিত্যের আলোকে জীবন কথাটি বিশ্লেষণ করা আমার মুখ্য উদ্দেশ্য তা পূর্বেই বলেছি। সাহিত্য বলতে কিন্তু শুধু মাত্র গুটি কয়েক রাজা বাদশাহ’র ক্রিয়া কর্ম, সুখ দুঃখ হাসি কান্নার কথা মোটেই না।  সাহিত্য সকল শ্রেণীর মানুষের কথাই বলবে শুধু তাই নয়,বরং সব শ্রেণির মানুষের সুখ দুঃখ হাসি কান্নার বাস্তব চিত্রপূর্ণ দর্শন।  যাকে ইতিহাস বললেও অত্যুক্তি হবে না।  এতে সকল শ্রেণীর মানুষকে খুঁজে পাবে।  সাহিত্যের প্রতিটি চিত্র জীবনের অভিজ্ঞতার প্রতিবিম্ব। 

জীবনের প্রতিটি রন্ধ্রের সিঁড়িতে এর সাথে প্রতিমিল খুঁজে পাবে।  সাহিত্যের আর এক অর্থ জীবন। জীবন অর্থে সৃষ্টির সেরা জীবের মৌলিক ক্রিয়া কর্মের বাস্তব ছবি। এ কারণে সাহিত্যের অপর নাম জীবন।  সাহিত্যের স্রষ্টা মানুষ;পশু জীব জানোয়ার নয়।  পশু জীব জানোয়ারের জীবন থাকলেও প্রাণীর বৈশিষ্ট্য মন্ডিত।  সেরা জীব মানুষ সৃষ্টি কর্তার বিশেষ কৃপায় অনুগ্রাহী।  তাই মানুষ বর্বর পশু নয়।  জ্ঞাণ বিবেক বুদ্ধি আর শ্রেষ্ঠ বাক প্রাপ্ত। মানুষ নিজের বিবেক বুদ্ধি চিন্তা মেধা প্রজ্ঞা আর বিদ্যার সমন্বয়ে জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সক্ষম।  ভাল মন্দ ন্যায় অন্যায়, গ্রহনীয় বর্জনীয় সব কিছুই করতে সক্ষম তাই মানুষ নামে আখ্যায়িত।  সাহিত্যে জীবন বলতে মানব জীবন বলতে চাচ্ছি।  জীবন শুধু যে জগত সংসারের মাঝে অবধুতের মতো খাটবে আর খাবে এ টুকু বলা চলে না। 

জগত সংসারের মাঝে জীবনকে স্বচ্ছন্দ গতি স্রোতে চলা এবং আমৃত্যু কর্ম ক্ষেত্রে নিয়োজিত রেখে অতীত বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কর্মের মধ্যে সুখ দুঃখের সাথে সহাবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে, ধৈর্যের সাথে মুকাবেলা করবে।  এর নামই সাহিত্য।  জীবন অনুসরনে সফল হলে সাহিত্য সফল আর বিফল হলে তা বিফল হবে নিঃসন্দেহে।  সফল বিফলের দায় দায়িত্ব যেয়ে পড়বে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জাতির ওপরে।  যার সুফল কুফল দুই ভোগ করবে।  ভবিষ্যৎ বংশধর সাহিত্যের আবাহনে চেপে জীবনকে গড়ে তুলতে প্রয়াস পায়। 

এক্ষেত্রে তাইত সাহিত্যকে জীবন রুপে দেখি। সাহিত্য জীবন হ’তে হলে সাহিত্যের কতক গুলি মৌলিক গুণাগুণ বৈশিষ্ট্য থাকতে হয়। প্রথমত; সাহিত্য হবে সর্ব সাধারণ প্রিয় বা সর্বজনীন সাহিত্য।  যা’সব শ্রেণীর মানুষেরকথাই বলবে।  কোন বিশেষ শ্রেণীর নয়।  দ্বিতীয়ত,সাহিত্যে মানব জীবনের বাস্তবদর্শন থাকতে হবে।  তাহলে সে সাহিত্যকে নিরঙ্কুশ খাঁটি সাহিত্য বলা যাবে।  সাহিত্য সমাজের দীন হীন দরিদ্র থেকে কামার কুমার চাষী তাতী কুলি মজুর মেথর চাঁড়াল এবং ধনী গরীব দুঃখীদের এক কথায় সব শ্রেণীর মানুষের কথা বলবে।  তাহলেই সেটা হবে সত্যিকার জীবন সাহিত্য; সাহিত্য জীবনের ছায়া।  ধর্ম ব্যতিত জীবন যেমন চলতে পারেনা ঠিক তেমনি সাহিত্য ছাড়া জীবনের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেনা।  সাহিত্য হবে অবাধমুখী।  অবাধমুখী সাহিত্য জাতীয় উন্নতির প্রথম সোপান।  সাহিত্যের বিভিন্ন মুখী গতি যা’ জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতিকে দ্রুত ত্বরান্বিত করে।  যে জাতির সাহিত্য যত বেশী ত্বরান্বিত সে জাতি ততো উন্নতিশীল।  বিশ্বের বুকে শিক্ষা সভ্যতায় তারা নিজ নিজ আসনে সমাসীন ও অধিকারে সবল।  তবে সাহিত্য যখন বিভিন্ন মুখী ধারার গতি নিম্ন মুখি করে তখন কোন এক বিশিষ্ট কেন্দ্রিক নিজস্ব সম্পদে পরিণত হয়। তবে আমাদের সাহিত্য ধারা অবশ্য তেমনটি নয়। 

আমাদের সাহিত্য ধারার বিভিন্ন মুখি ধরণ। সাহিত্যিকগণ হচ্ছেন সাহিত্যের দর্পণকার। সাহিত্যিকের কাজ সাহিত্যের ধারাবাহিক ছবিকে সাহিত্যের এ্যালবামে সংগ্রথিত করা।  সাহিত্যিক জীবন যাপন যদি পেশাগত জীবন যাপন রুপে গ্রহন করা হয় তবে সে সাহিত্য পরিপূর্ণতা অর্জনে হয় ব্যাহত।  ফলে,খাঁটি সাহিত্যের মুক্তির পথ রোধ হয়ে পড়ে।  সাহিত্যের জীবন প্রতিবন্ধকতা পেলে তা প্রাণস্পর্শী করতে মনপ্রাণ এক কথায় জীবন দিয়ে ভাল বাসতে হবে।  কালে কালে সাহিত্য জীবনের সাথে পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। সাহিত্য চিরঞ্জীব। মানব সভ্যতার বুকে সাহিত্যের জন্ম।  মানব জীবন থেকেই সাহিত্যের জীবন অঙ্কুরিত। সাহিত্য সুখী সুন্দর জীবনের পরিচায়ক। এ কারণে মানব জাতি তথা জাতীয় জীবন স্পন্দন আপন আপন সুখ-দুঃখ হাসি কান্নার কক্ষ পথ ধরে জগত সংসারে পরিব্যপ্ত। সাহিত্য মানব জীবনের কড়িডোরে যখন কু-সাহিত্য হয়ে দেখা দেয় তখন শিক্ষা সভ্যতা প্রতি পদে পদে হয় লাঞ্ছিত অবহেলিত। উন্নতির পরিবর্তে তাইত নেমে আসে অবনতি।  জাতীয় কর্মকান্ড থমকে পড়ে; জাতীয় স্বত্বা হয়ে যায় খোঁড়া।  জীবনের অস্তিত্বে হুমকির শৈবাল এসে বাসা বাঁধে। সাহিত্য-বিনা জীবন মরুময়। জীবন-বিনা সাহিত্য প্রাণ হীন খাঁচা। সাহিত্য তাই জীবনের দর্পণ! সাহিত্য ও জীবন তাই একসূত্রে গাঁথা। জীবন অস্তিত্বে এর পূর্ণ বিকাশ।