৮:৪২ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

ঢাকার দূষণ রোধে সিদ্ধান্ত হচ্ছে

২৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:২২


প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের চারপাশের সড়ক আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে শব্দদূষণমুক্ত ঘোষণা করা হচ্ছে।  ওই দিন থেকে সচিবালয়ের চারপাশ ‘নীরব জোন’ ঘোষণা করবে সরকার।  এর আগে যানবাহনের চালকদের মধ্যে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে।  একই সঙ্গে রাজধানীতে আবর্জনা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

সচিবালয়ে গতকাল সোমবার আন্ত মন্ত্রণালয় সভা শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।  তিনি বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে আপাতত সচিবালয়ের আশপাশ এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত করা হবে।  পরবর্তী সময়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত করা হবে। 

মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ঢাকা শহরের ৪০টি স্থানে রাতে বর্জ্য পোড়ানো হয়।  এটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।  বাতাস দূষিত হওয়ার অন্যতম কারণ এই বর্জ্য পোড়ানো।  সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন এখন থেকে রাতের বেলায় আর বর্জ্য পোড়াতে পারবে না। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ মোহসীন চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক রফিক আহমেদসহ অন্যরা।  গতকালের আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় সাতজন মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁদের একজনও উপস্থিত ছিলেন না।  ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই মেয়রও আমন্ত্রণ রক্ষা করেননি।  এ ছাড়া বায়ু ও শব্দ দূষণের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাতটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদেরও সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।  কিন্তু তাঁরাও কেউ আসেননি।  সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা যোগ দেন। 

বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবেশমন্ত্রী।  এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।  অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলো বন্ধে অভিযান কার্যক্রম জোরালো করা হবে।  ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন বর্তমানে রাস্তাঘাটে পানি ছিটিয়ে দায়িত্ব শেষ করে।  এতে বায়ুদূষণ রোধ হয় না।  আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ঝরনার মতো ওপর থেকে পানি ঢালতে হবে।  এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও কার্যক্রম গ্রহণ করবে।  মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সকাল-বিকাল পানি ছিটাতে হবে।  দুই সিটি করপোরেশন এখন থেকে আর রাতে ময়লা-আবর্জনা পোড়াবে না।  ঢাকায় যেসব অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে, সেখানে নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা বাধ্যতামূলক। ’

মন্ত্রী জানান, এক মাস পর আবার বৈঠকে বসে সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করা হচ্ছে কি না তা দেখা হবে।  কার্যকর না হলে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশসচিব আবদুল্লাহ মোহসীন চৌধুরী বলেন, ‘২০২৫ সালের পর থেকে সরকারি কাজে আর পোড়ানো ইট ব্যবহার নয়।  সরকারি নির্মাণ কাজে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।  প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আজই (সোমবার) প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।  এ বছর সরকারি নির্মাণ কাজে ১০ শতাংশ ব্লক ব্যবহার করতে হবে।  পরের বছর ২০ শতাংশ, তার পরের বছর ৩০ শতাংশ—এভাবে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি নির্মাণ কাজে ইট ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।  তখন শুধুই ব্লক ব্যবহার করা হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে।  বায়ুদূষণের দিক থেকে ঢাকা শহর এখন এক নম্বরে।  এটা সংকটাপন্ন অবস্থা।  আর বায়ুদূষণের পেছনে ৫৮ শতাংশই দায়ী ইটভাটা।  নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও আবর্জনা পোড়ানো দূষণের অন্যতম কারণ।  এখন থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে সরকারের যেকোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ম্লান হয়ে যাবে।  তবে বায়ুদূষণের বিষয়ে মানুষের সচেতনতাও জরুরি।