৫:২১ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার | | ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

ধর্ষক আজাদ ধর্ষণের কথা স্বীকার করলো

০৭ জুলাই ২০২০, ০৭:২৫


গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছে সিলেটের কানাইঘাটের ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ আজাদুর রহমান আজাদ।  একের পর এক ঘটনা ঘটালেও তার বিরুদ্ধে কখনোই মামলা হয়নি।  গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তার কুকীর্তির ইতি ঘটতো।  এ কারণেই বেপরোয়া ছিল সে। 
কিন্তু কানাইঘাটের ব্রাহ্মণগ্রামের গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনার পর তার অপরাধ কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হয়েছে।  পুলিশের অভয়ে সাহস করে মামলা করেছেন নির্যাতিতা মহিলা নিজেই।  এদিকে- ধর্ষিতা মহিলাকে সান্ত্বনা দিতে সোমবার তার বাড়িতে ছুটে গেছেন সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।  ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে এসেছেন। 

এ সময় তিনি গ্রামের মানুষকেও আইনে প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানান।  ব্রাহ্মণগ্রাম সিলেটের পরিচিতি এলাকা গাছবাড়ির পাশেই অবস্থিত।  গ্রাম কিংবা পরিবারের বিরোধপূর্ণ অনেক ঘটনায় সালিশের মাধ্যমে শেষ হয়।  পুলিশ জানিয়েছে- ধর্ষক আজাদের পিতা নুর উদ্দিন গ্রামের মাতব্বর।  তিনি সালিশ বিচার করেন।  এ কারণে অতীতে যখনই আজাদ এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তখনই ঘটনাগুলো সালিশের মাধ্যমে শেষ হয়।  কখনো কখনো দেওয়া হয় ধামাচাপা।  এ কারণে বেপরোয়া ছিলো আজাদ।  ব্রাহ্মণগ্রামের গৃহবধূকে সহযোগীসহ ধর্ষণের ঘটনার পর নিজ এলাকাতেই ছিল ধর্ষক আজাদ।  সে ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেয়া চেষ্টা করছিল।  এমনকি ধর্ষিতার স্বামীকেও ম্যানেজ করার চেষ্টা চালায়।  দেয়া হয় হুমকিও।  এসব হুমকির কারণে নিজ থেকে পুলিশের কাছে যাওয়ার সাহস পাননি নির্যাতিতার পরিবার।  কিন্তু ক্রমেই ধর্ষণের ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। 

প্রথমে এলাকা, এরপর উপজেলা এবং পরবর্তীতে সিলেটজুড়ে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।  প্রতিবাদ শুরু করে বিভিন্ন মহল।  ঘটনার ব্যাপকতা আঁচ করতে পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিল ধর্ষক আজাদ।  তখনো মামলা দায়ের হয়নি, কিংবা বাদির খোজ মিলেনি।  সিলেটের পুলিশ সুপার বিষয়টি জানার পর আজাদকে আটক করার নির্দেশ দেন।  তার নির্দেশেই পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে গ্রেপ্তার করে।  আর র‌্যাব গ্রেপ্তার করে ধর্ষক মখনকে।  এদিকে- পুলিশি আশ্বাসে অবশেষে স্বস্তি পায় ধর্ষিতার পরিবার।  আলোচিত এ ধর্ষনের ঘটনায় রোববার রাতে সিলেটের কানাইঘাট থানায় মামলা করেন নির্যাতিত মহিলা।  মামলায় প্রাথমিক ভাবে তিনি ধর্ষক আজাদুর রহমান আজাদ ও মোক্তার হোসেন মখনকে আসামি করেন। 

এদিকে- রাতে কানাইঘাট থানায় রেখে ধর্ষক আজাদ ও মখনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।  পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেই তারা ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার।  আজাদ জানায়- গৃহবধূর দিকে তার নজর ছিলো আগে থেকেই।  সে সুযোগ খুজছিলো।  ঘটনার দিন তার স্বামী না থাকায় সে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।  এরপর মখনও ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে।  ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সে এলাকা থেকে গোয়াইনঘাটের রাধানগর গ্রামে এক আত্মীয় বাড়িতে চলে যায় বলে জানায় আজাদ।  অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে। 

এদিকে, কানাইঘাটন থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা জানিয়েছেন- ‘ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।  আসামিরা ঘটনা স্বীকার করেছে।  তারা সিলেটের আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।  এতেও তারা ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে।  আদালত পরে আজাদ ও মখনকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেন। ’ তিনি বলেন- ‘ধর্ষণের ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। ’

এদিকে- ভয়ে থাকা ধর্ষিতাকে অভয় দিতে গতকাল দুপুরে কানাইঘাটের ব্রাহ্মণগ্রামে যান সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন।  তিনি নিজেই গিয়ে নির্যাতিত মহিলার সঙ্গে কথা বলেন।  উপহার স্বরূপ মৌসুমী ফলও দেন।  এ সময় পুলিশ সুপার ফরিদ সব ধরনের আইনি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।  তার স্বামী কিংবা পরিবারের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে বিষয়টি পুলিশ খেয়াল রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন।  পুলিশ সুপারের কাছে এ সময় অপরাধী আজাদ ও তার সহযোগিতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন ওই মহিলা। 

এদিকে, পুলিশ সুপার এলাকার মানুষের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেন।  এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহবান জানান।  সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন- ‘পুলিশ সুপার মহোদয় নির্যাতিতা ওই মহিলার পাশে দাঁড়িয়েছেন।  তাকে অভয় দিয়েছেন।  বাদী যাতে ন্যায়বিচার পায় এবং তার পরিবারের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে বিষয়টি পুলিশ দেখভাল করবে। ’