৮:৩৩ এএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৩ রজব ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

নারীরা কমান্ডার হলে পুরুষ সেনারা নির্দেশ মানবে না

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭:৩০


সফলভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করলেও কমান্ডার পদে আসীন হতে পারছেন না ভারতীয় সেনাবাহিনীর নারী অফিসাররা।  শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণেই এমন বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তারা।  কারণ সেনাবাহিনীর পুরুষ সদস্যরা নারী কমান্ডিং অফিসারদের নির্দেশ অমান্য করতে পারে। 

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টকে এ কথা জানায় ভারত সরকারের আইনজীবীরা।  এমন খবর প্রকাশ করেছে দেশটির সংবাদমাধ্যম আন্দনবাজার। 

উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান যখন বিমানযুদ্ধে পাকিস্তানি এফ-১৬ বিমানকে ভূপাতিত করেছিলেন, তার গাইডের দায়িত্বে ছিলেন ফ্লাইট কন্ট্রোলার মিন্টি আগরওয়াল।  কাবুলে হামলাকারী তালিবান জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসকে রক্ষা করেছিলেন মিতালী মধুমিতা।  বীরত্বের জন্য সেবা পদক পেয়েছেন তিনি।  অসমসাহসিকতার জন্য যুদ্ধ সেবা পদক পেয়েছেন মিন্টিও।  কোনো বিষয়ে যে তারা পুরুষ সেনাদের চেয়ে পিছিয়ে নেই, তা নিজেদের কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছন বিমান ও সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরা।  কিন্তু তারপরও কমান্ডারের পদে নারীদের নিয়োগ করা ‘সম্ভব নয়’বলে সুপ্রিম কোর্টে জানায় ভারত সরকারের আইনজীবীরা। 

কেন সম্ভব নয়, তার কারণ হিসেবে ভরত সরকার আদালতকে যা বলেছে, আধুনিক সমাজে সে সব যুক্তি ধোপে টেঁকে না বলে মন্তব্য করেছেন কমান্ডিং অফিসার পদ চেয়ে মামলা করা নারী সেনা অফিসারদের আইনজীবীরা। 

সরকার পক্ষের আইনজীবী আর বালসুব্রহ্মন্যন ও নীলা গোখলে আদালতকে জানান, সেনা অফিসারদের কাজ খুবই কঠোর ও নিয়মানুবর্তী।  অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা, মাতৃত্ব ও বাড়ির কাজে মেয়েদের যে ভাবে ছুটিছাটা নিতে হয়, অফিসার পদে সে সব চলে না।  অফিসারেরা দেশের যে কোনো প্রান্তে বদলি হতে পারেন, নারী পদাধিকারীদের পক্ষে যা অসুবিধার।  তারপরে নারী অফিসারেরা যুদ্ধবন্দি হলে সরকারের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। 

কিন্তু সব চেয়ে বড় যে অসুবিধার কথা জানায়, তা হল— পুরুষ সেনারা মহিলা কমান্ডিং অফিসারদের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করতে পারেন।  অধিকাংশ সেনা সদস্য গ্রাম থেকে আসেন।  সামাজিক দিক দিয়ে শহরের মতো ‘মুক্ত হাওয়া’ গ্রামে বয় না।  সেই সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা সেনারা মহিলা অফিসারের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করলে বাহিনী শৃঙ্খলার সমস্যায় পড়বে। 

এ বিষয়ে মহিলা অফিসারদের আইনজীবী মীনাক্ষী লেখি ও ঐশ্বর্যা ভাট্টি জানান, ২০২০ সালে সমাজের সর্বক্ষেত্রে মেয়েরা পুরুষের সমান দায়িত্ব ও গুরুত্ব নিয়ে কাজ করছেন।  তারা এভারেস্টে চড়ছেন, চাঁদে পা রাখছেন, জঙ্গিবিমান চালিয়ে লড়াই করছেন, রোবট তৈরি করছেন।  পুরুষতন্ত্রের নির্মাণ করা কাঁচের দেয়াল চুরমার করে সকল ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন।  সেখানে এই যুক্তি চলে না। 

ভারত সরকারের এ সব যুক্তি শুনে বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগীর ডিভিশন বেঞ্চও বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, সরকারের উচিত এই মনোভাব বদলানো।  মহিলা অফিসারদেরও সুযোগ দেয়া উচিত। 

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে দেশের সচেতন মহলে।  এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি,বুধবার সরকারের পক্ষের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টকে বলেন, ‘এমন কিছু বলিনি, যাতে মনে হয় পুরুষ সেনারা নারী অফিসারদের নির্দেশ মানবেন না।  পুরুষের সমকক্ষ হতে নারীদের কেন লড়াই করতে হবে? মেয়েদের অবস্থান তো পুরুষদের চেয়ে অনেক ওপরে!’

বিষয়টি নিয়ে এ দিনও শুনানি হয়।  আগামী সপ্তাহে এই মামলার রায় দেয়া হবে বলে জানান বিচারপতিরা।