৪:৩৫ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

পাইকারী চাউলের ব্যবসা শুরুর আইডিয়া

২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:৩৮


চাউল বা চালের ব্যবসা অন্যান্য সব ব্যবসার চেয়ে আলাদা।  বাবা একদিন বলেছিলেন, এমন একটা ব্যবসা করতে চাই, যেন সারা বছরই চলে।  আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসের ব্যবসা? বাবা বললেন চাউলের ব্যবসা এটা এমন জিনিস যা মানুষের সারা বছরই প্রয়োজন হয়।  নিত্য প্রয়োজন হয় এমন পণ্যের ব্যবসা কখনও খারাপ নয়। 

প্রাথমিক প্রস্তুতি: ১. বিভিন্ন জাতের চাল সম্পর্কে জেনে নেয়া।  ২. ভালো পজিশন দেখে দোকান নির্বাচন করা।  সম্ভব হলে বাজারে বা তার আশপাশে।  ৩. বাজারের অন্যান্য চালের দোকানদাররা প্রতি বস্তা/কেজি কত টাকা দরে বিক্রি করছে খবর নেয়া।  ৪. আপনার বাজারের আশপাশে কি ধরনের মানুষ বাস করে জেনে নেয়া। 

মূলধন কত টাকা লাগবে: অনেকেই জানেন এ ব্যবসায় মূলধন তুলনামূলক বেশি প্রয়োজ।  যত বেশি ইনভেস্ট, ততো বেশি প্রফিট।  আপনি যদি এক গাড়ী (৩০০ বস্তা) চাল আনেন আপনার যা ভাড়া লাগবে, ১৫০ বস্তা আনলেও তা লাগবে।  আপনি কি জাতের চাল গাড়ীতে লোড করছেন তার ওপর নির্ভর করে এক গাড়ী চাল আনতে খরচ পড়বে ৭-৯ লাখ টাকার মতো। 

আটাশ, মিনিকেট, গুটি বা অন্যান্য সব ধরনের চাল অল্প অল্প করে নিয়ে এক গাড়ী বা আধা গাড়ী লোড করে আনতে পারবেন।  আর শুরুর দিকে কমপক্ষে ৫০-১০০ বস্তা চাল কিনতে পারেন এরকম সামর্থ থাকতে হবে।  আনুমানিক ১-২.৫ লাখ টাকা। 

কোথা থেকে আনবেন : শুরুর দিকে আমরা বাজারের একজন পাইকার থেকে ২ বস্তা, ৫ বস্তা বা প্রয়োজন মতো অল্প অল্প করে কিনে খুচরা বিক্রি করতাম।  এখন পাবনা থেকে সরাসরি আনি।  ধাপগুলো হলো- ১. প্রথমে চালের মিল থেকে চাল কিনা।  ২. বাজারজাত করার জন্য চটের বস্তা কিনা।  ৪. নিজ খরচে প্রসেসিং মিলে নিয়ে যাওয়া।  ৫. প্রসেসিং মিলে চাল পরিষ্কার করে, ভাঙ্গা চাল আলাদা করে, চালের সাইজ সমান করে, মেপে মেপে ৫ কেজি, ১০ কেজি, ৫০ কেজি বস্তা বানিয়ে নেয়া।  ৬. গাড়ীতে লোড করে দোকানে নিয়ে আসা। 

সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় চাল উৎপন্ন হয়।  আপনার আশপাশ এলাকা থেকেও চাল সংগ্রহ করতে পারবেন।  সাধারণত সারা দেশে কুষ্টিয়া এবং পাবনার চাল প্রসিদ্ধ।  লাভের পরিমাণ: পাইকারী বিক্রি করলে বস্তা প্রতি ২০-১০০ টাকা।  খুচরা বিক্রি করলে ১০০-২০০ টাকা। 

দাম কমলে/বাড়লে লাভ-ক্ষতির হিসাব: সবকিছুতে উত্থান পতন আছে।  চালের ক্ষেত্রে যেটা হয়, দাম বাড়লে বস্তা প্রতি ৪০০/৫০০ টাকা লাভ হয়ে যায়।  আর লস হলে ৫০-১০০ টাকা।  এর মূল কারণ হলো, আড়তদার এবং মওজুদদারদের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ থাকে।  ওনারা দাম হুট করে বাড়ায় কিন্তু কমায় আস্তে আস্তে।