৬:০৬ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

ফেসুবক গ্রুপ থেকে আয়

০৫ অক্টোবর ২০২০, ১১:০১


ফেসুবক গ্রুপ থেকে আয় করা যায় এই কথা অনেকেই জানি।  তাই, ফেসুবক গ্রুপ খুলে আয় করার চিন্তা এখন অনেকের মাথায় আছে।  আজকের এই লেখা মূলত যারা, ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আয় করতে চায় তাদের জন্য।  আমরা সবাই জানি, ফেসবুক থেকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়।  আর ফেসবুক গ্রুপ থেকে আগের থেকে অনেক বেশি আয় করা সম্ভব।  আয়ের ক্ষেত্র একটি বা দুটি নয়।  ফেসবুক গ্রুপ থেকে আয়ের ক্ষেত্র অসংখ্য।  আপনাকে শুধু সঠিক ক্ষেত্রটি নির্বাচন করতে হবে। 

বিস্ময়কর ব্যাপার হল একটি ফেসবুক গ্রুপ থেকে আপনি অনেক পদ্ধতিতে আয় করতে পারবেন।  ফেসবুক থেকে আয় করার জন্য প্রথমে আপনাকে সঠিক টার্গেট নির্বাচন করতে হবে।  আপনি কাদের জন্য গ্রুপ খুলছেন এবং কি কাজের জন্য গ্রুপ খুলছেন।  যাইহোক, এ নিয়ে সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।  কথা না বৃদ্ধি না করে, মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। 

১. ফেসবুক গ্রুপ মনিটাইজেশন বা সাবস্ক্রিপশন: এটা ফেসবুক ২০১৮ সাল থেকে চালু করে।  ফেসবুকের দাবি, যেহেতু ফেসবুক গ্রুপের এডমিন একটি গ্রুপ বড় করতে অনেক কষ্ট এবং পরিশ্রম করে।  তাই, তারা গ্রুপ থেকে আয় করার অধিকার রাখে।  তবে, ফেসবুক ফ্রিতে আপনাকে এই টাকা দিবে না।  আপনার ফেসবুক গ্রুপ থেকে টাকা পাওয়ার উপায় হল সাবস্ক্রিপশন। 

অর্থাৎ, আপনার যখন একটি বড় গ্রুপ থাকবে তখন আপনি চাইলে সে গ্রুপে সাবস্ক্রিপশন ফিচার চালু করে, প্রতি মেম্বার থেকে মাসিক ০.৯৯ ডলার থেকে ৯.৯৯ ডলার পর্যন্ত চার্জ করতে পারবেন।  এছাড়া, আপনি ডিসকাউন্ট সুবিধাও রাখতে পারবেন।  আর, পেমেন্টের কাজটি ফেসবুকের মাধ্যমে হবে।  সুতরাং, টাকা হারানোর কোন ভয় নেই। 

ফেসবুক গ্রুপ সাবস্ক্রিপশন নিয়ে এই লিংকে ফেসবুক বিস্তারিত বলেছে।  মনে রাখবেন,
মানুষ অযথা আপনার গ্রুপের সাবস্ক্রিপশন নিবে না, এজন্য আপনাকে প্রিমিয়ার এবং প্রয়োজনীয় কন্টেন্ট, লাইভ স্ট্রিমিং, ভিডিও, ইভেন্ট, ওয়েবইউনারের মত গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিতে হবে।  যাতে করে মানুষ আপনার গ্রুপের সাবস্ক্রিপশন নিতে আগ্রহী হয়। 

উদাহরণ স্বরূপ, অনেক খেলোয়াড় তাদের ফেসবুক গ্রুপে খেলার বিভিন্ন কলা-কৌশল ভিডিও আকারে ও লিখে প্রকাশ করে।  আবার, অনেকে মুভি মেকিং, শিক্ষকতা, কন্সাল্টিং, আইন সেবা, ডাক্তারি সেবা দিয়ে থাকে।  এসব কারণে মানুষ তাদের গ্রুপের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে থাকে এই লিংকে এরকম অনেক সফলদের গল্প শেয়ার করেছে ফেসবুক। 

২. পণ্য বিক্রি (ই-কমার্স): ই-কমার্স শব্দটির সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত।  আর ফেসবুকে ই-কমার্সকে বলে এফ-কমার্স।  ফেসবুক গ্রুপ এডমিন চাইলে “buy and sell” গ্রুপ তৈরি করতে পারে।  আর এই ধরণের গ্রুপে পণ্য বিক্রি করার জন্য ফেসবুক বিভিন্ন টুলস এবং ফিচার সরবারহ করে থাকে। 

এই ধরণের গ্রুপ খোলার ক্ষেত্রে টার্গেট ভিত্তিক হলে বেশি পরিমাণ পণ্য বিক্রি করা যায়।  যেমন, আপনার যদি ইলেক্ট্রনিক গেজেট বিক্রির টার্গেট থাকে তাহলে, এই রিলেটেড গ্রুপ খুলুন।  আর, এই ধরণের গ্রুপে আবার মেয়েদের কসমেটিকস বিক্রি শুরু করলে আপনার পণ্য বিক্রি হবে না।  কেননা, এখানের বেশির ভাগ গ্রুপ মেম্বার ইলেক্ট্রনিক গেজেটে আগ্রহী। 

৩. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: ফেসবুক গ্রুপ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ভাল প্লাটফর্ম।  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল আপনি বিভিন্ন ই-কমার্স সাইটের পণ্য বিক্রি করে দিবেন।  আর তারা আপনাকে এজন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিবে।  আপনি যে পণ্য বিক্রি করেছেন এটা প্রমাণ করার জন্য আপনি তাদের ওয়েবসাইটে অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্ট খোলার পর, নিদিষ্ট পণ্যের একটি লিংক তৈরি করে দিবে। 

আর ঐ লিংক থেকে যে কিনবে তখন আপনি কমিশন পেয়ে যাবেন।  বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিখ্যাত কিছু অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট Amazon Associates eBay Partner Network ClickBank Walmart ShareASale FlexOffers CJ Rakuten Marketing Avangate Affiliate Network Peerfly

৪. স্পন্সরশীপ বা অ্যাডভার্টাইজ: স্পন্সরশীপ বা অ্যাডভার্টাইজ হল ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আয় করার আরেকটি সহজ উপায়।  আপনার গ্রুপ যখন বড় হবে তখন অনেক কোম্পানি, ইউটিউব বা ওয়েবসাইট মালিক তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য আপনাকে বলবে।  তাদের পণ্য বা সেবা প্রচারের মাধ্যমে আপনি তাদের নিকট টাকা চার্জ করতে পারবেন।  এছাড়া, তাদের কোম্পানির বিজ্ঞাপনও আপনার আয়ের অন্যতম মাধ্যম। 

৫. ব্যবসা প্রচার ও সার্ভিস বিক্রি: আপনার কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে প্রচার-প্রসার করতে পারেন।  অনেকে গ্রুপেরর নামের শেষে Fans বা Club ইত্যাদি শব্দ যুক্ত করে।  এই ধরণের গ্রুপগুলো কাস্টমারের সাথে কোম্পানি বা পণ্যর একটা সম্পর্ক তৈরি করে।  এছাড়া, গ্রুপের মাধ্যমে আপনি সার্ভিস, কোর্স ইত্যাদি বিক্রি করে টাকা আয় করতে পারেন। 

৬. ফেসবুক গ্রুপ বিক্রি: আপনি চাইলে গ্রুপ বড় করে সেটা অন্য জনের নিকট বিক্রি করে দিতে পারেন।  অসংখ্য মানুষ ফেসবুক গ্রুপ কেনার জন্য আগ্রহী।  তাই, ফেসবুক গ্রুপ তৈরি করে এবং মেম্বার বৃদ্ধি করে গ্রুপ বিক্রি করে আয় করতে পারেন। 

৭. ডোনেশন সংগ্রহ: আপনি যখন ফ্রিতে মানুষকে বিভিন্ন সেবা দিবেন।  এতে করে গ্রুপের মেম্বারদের সাতে আপনার সম্পর্ক তৈরি হবে।  তখন আপনি চাইলে, আপনার পরিশ্রম এবং সেবার বিনিময়ে ডোনেশন চাইতে পারেন।  দেশিয় গ্রুপ হলে আপনি নগদ, রকেট, বিকাশ প্রভৃতি মাধ্যমে ডোনেশন নিতে পারেন।  বিদেশি গ্রুপ হলে Paypal, Payoneer, Mastercard ইত্যাদি সহজ মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারেন। 

পরিশেষে: এই লেখাটি পড়ে আপনার কাছে যদি কঠিন মনে হয়।  তাহলে, ফেসবুক মার্কেটিং ফ্রি কোর্স – এই লেখাটি পড়ে নিতে পারেন।  ফেসবুক মার্কেটিং কোর্সটি করে নিলে আপনার নিকট ফেসবুক পানি ভাত মনে হবে।