৯:৪৭ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

ব্যক্তিত্ব-যোগ্যতা-বিবেক

১৩ অক্টোবর ২০২০, ০৭:৩০


ইকতেদার আহমেদ

‘ব্যক্তিত্ব’ একজন মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম।  এ বৈশিষ্ট্যটি একজন ব্যক্তির চরিত্রের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সাথে পার্থক্যসূচক; যা সহজেই অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রাধান্য বিস্তারের ক্ষেত্রে সমুজ্জ্বল।  একজন ব্যক্তির পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান, শিক্ষার মান এবং পদমর্যাদাভেদে আচরণ যথাযথ বিবেচিত হলে তিনি ব্যক্তিত্ববান হিসেবে পরিগণিত হন।  তাছাড়া পারিপার্শ্বিক পরিবেশ সুস্থ, সুন্দর ও সাবলীল হলে তা ব্যক্তিত্বের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।  একজন ব্যক্তিত্ববান মানুষ কথা ও কাজে এবং চলনে বলনে সবসময় ধীরস্থির প্রকৃতির হয়ে থাকেন।  ব্যক্তিত্ববান মানুষের আচরণ মার্জিত ও পরিশীলিত হওয়ায় স্থান-কাল-পাত্রভেদে তার গ্রহণযোগ্যতা অন্য যে কারো চেয়ে অধিকতর।  সুশীল সমাজ ও সুধীজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি দিয়ে বিকশিত হয়।  অন্যদিকে সুশীল সমাজ ও সুধীজনে ব্যক্তিত্বহীনের অনুপ্রবেশ ঘটলে সে সুশীল সমাজ ও সুধীজন কলুষিত।  ব্যক্তিত্ববান নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য বিষয়ে সচেতন বিধায় তার দ্বারা অন্যরের অনিষ্ট ও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।  সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সত্যবাদিতা, নিরহঙ্কারিতা প্রভৃতি ব্যক্তিত্ববানকে মহিমান্বিত করে তোলে।  যেকোনো দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামরিক-বেসামরিক প্রশাসন, আইন-আদালত, শিক্ষাজ্ঞান, চিকিৎসাব্যবস্থা প্রভৃতিতে ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির সরব উপস্থিতি ওই দেশকে সব দিক থেকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়। 

‘যোগ্যতা’ কর্মে বহাল একজন ব্যক্তির অধিকার ও গুণের সাথে সম্পৃক্ত।  যেকোনো কর্মজীবীর জন্য যোগ্যতা অর্জন অপরিহার্য।  যোগ্যতা ছাড়া যেকোনো পেশাজীবী বা পদধারীর পেশা বা কর্মে প্রবেশ আইন ও বিধি-বিধান এবং নৈতিকতার পরিপন্থী।  উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন এলোপ্যাথিক চিকিৎসকের ক্ষেত্রে চিকিৎসা পেশায় প্রবেশে ন্যূনতম এমবিবিএস ডিগ্রি এবং এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে সনদ গ্রহণ আবশ্যক।  অনুরূপভাবে একজন আইনজীবীর ক্ষেত্রে আইন পেশায় প্রবেশে ন্যূনতম এলএলবি ডিগ্রি এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ গ্রহণ আবশ্যক।  বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসের যেকোনো ক্যাডার পদে প্রবেশে মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর ডিগ্রির পাশাপাশি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক।  সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়াসহ আন্তঃবাহিনী নির্বাচনী বোর্ড (আইএসএসবি) আয়োজিত পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার পর নিজ একাডেমিতে দু’বছর মেয়াদের প্রশিক্ষণ সাফল্যজনকভাবে সমাপ্ত করা আবশ্যক।  বিচার বিভাগের নিম্নতম পদ সহকারী জজ পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও এলএলবিতে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হওয়াসহ বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন আয়োজিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া আবশ্যক।  এমনকি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ব্যবসাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাইলে ব্যবসা পরিচালনায় পুঁজির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ আবশ্যক।  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ লাভে যোগ্যতা হচ্ছে প্রথমোক্ত দু’টি ক্ষেত্রে স্নাতক এবং বিএড ডিগ্রিধারী হওয়াসহ নিয়োগ পরীক্ষায় সফলতা অর্জন আর শেষোক্ত ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণসহ নিয়োগ পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়া।  বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকে প্রারম্ভিক পদে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হলে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীধারী হওয়াসহ নিয়োগ পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার আবশ্যকতা রয়েছে।  বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিতে নির্বাহী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত সব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীকে প্রাধান্য দেয়া হয়।  সাথে সাথে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ারও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। 

‘বিবেক’ অর্থ মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি যা দিয়ে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, ধর্মাধর্ম বিচার করা যায়।  বিবেক বলতে আমরা আরো বুঝি পরিণামদর্শিতা, বাস্তব জ্ঞান, আধ্যাত্মিক অথবা অধিবিদ্যক জ্ঞান।  কারো বিবেক লোপ পেলে তার কাছে কোনো অন্যায় বা গর্হিত কাজ বাধা হিসেবে দেখা দেয় না।  একজন ব্যক্তির ওপর বিবেকের প্রভাবের তারতম্যের কারণে মনুষ্যত্বের তারতম্য ঘটে।  মনুষ্যত্ব অর্থ মানবতা।  একজন ব্যক্তির ওপর বিবেকের প্রভাব যত বেশি প্রবলতর হবে; তার মধ্যে মানবতাও ওই মাত্রায় বাড়বে; পক্ষান্তরে বিবেকের প্রভাব ক্ষীণতর হলে মানবতা সেই মাত্রায় কমবে।  ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেকের সুসমন্বিত পরিস্ফুটনে একজন ব্যক্তি নিজ ক্ষেত্রে পরিপূর্ণতা পান।  এ তিন গুণাবলির উপস্থিতি দক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ, জ্যেষ্ঠ ও মেধাবীদের নিজ কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং এরূপ গুণাবলি সম্পন্ন অপরাপর কর্মকর্তার প্রকৃত মূল্যায়নে সহায়তা করে।  কোনো ব্যক্তিত্ববান, যোগ্যতা ও বিবেকবোধ সম্পন্ন কর্মকর্তার পক্ষে কখনো পদোন্নতি ও আকর্ষণীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের ক্ষেত্রে কনিষ্ঠ, অযোগ্য, অদক্ষ, অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার দিয়ে জ্যেষ্ঠ, দক্ষ, যোগ্য, সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠদের উপেক্ষা করার কোনো ধরনের অবকাশ নেই।  কিন্তু নিকট অতীতে সরকারের কতিপয় বিভাগে কনিষ্ঠ, অযোগ্য, অদক্ষ, অসৎ ও দুর্নীতিগ্রস্তদের দ্বারা জ্যেষ্ঠ, দক্ষ, যোগ্য, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও মেধাবীরা অবদমিত হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।  এ সব বিভাগের শীর্ষপদে আসীন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেকের কি বিলোপ ঘটেছে? ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেকের সাথে নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক থাকায় এ সব বৈশিষ্ট্যের অধিকারী শীর্ষ পদধারী বা নির্বাহীর পক্ষে অন্যের প্রতি অন্যায় আচরণ অচিন্তনীয় ও অকল্পনীয়। 

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সরকারি কর্ম কমিশন একজন চেয়ারম্যান ও কিছু সদস্য সমন্বয়ে গঠিত।  সরকারি কর্ম কমিশনের মূল দায়িত্ব প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগদানে উপযুক্ত ব্যক্তিদের মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনা।  কর্ম কমিশন যে সব পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে এর মধ্যে অন্যতম- বিভিন্ন ক্যাডার পদে নিয়োগের নিমিত্তে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) নামক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আয়োজন।  এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে।  এ বাস্তবতায় কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান বা কোনো সদস্যের যোগ্যতা যদি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতার নিম্নতর হয় সে ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেক, নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞানের আলোকে পদে বহাল সমর্থন করে কি না?

অন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সুপ্রিম কোর্ট বা সর্বোচ্চ আদালত আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগসহ একজন প্রধান বিচারপতি ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিচারক সমন্বয়ে গঠিত।  বর্তমানে বিচার বিভাগের নিম্নতম পদ সহকারী জজ।  এ সহকারী জজরা ১ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে পরবর্তী বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।  ১ নভেম্বর, ২০০৭ সালে পূর্ববর্তী এ দায়িত্ব প্রশাসন ক্যাডারভুক্ত সহকারী কমিশনাররা পালন করতেন।  সহকারী কমিশনার পদে নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক থেকে স্নাতক পর্যন্ত সব পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ডিগ্রিধারী হওয়া।  অন্যদিকে ১৯৮৮ সালে পরবর্তী সহকারী জজ পদে নিয়োগ পেতে ন্যূনতম যোগ্যতা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ এলএলবিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ডিগ্রিধারী হওয়া।  এ বাস্তবতায় সর্বোচ্চ আদালতের কোনো বিচারকের যোগ্যতা যদি সহকারী কমিশনার বা সহকারী জজের নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতার নি¤œতর হয়, সে ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেক, নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞানের আলোকে ওই পদে বহাল থাকা সমর্থন করে কি? উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সহজ সরল উত্তর- এ ধরনের কোনো ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের যে কোনোটিতে প্রবেশ ঘটলে তার উচিত হবে নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞানে তাড়িত হয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবরে পদত্যাগপত্র দাখিলপূর্বক প্রতিষ্ঠান দুটির সুনাম অক্ষুন্ন রাখা। 

বছরান্তে আমরা যখন নতুন বছরে পদার্পণ করি তখন অতীতের ব্যর্থতা, গ্লানি, দুর্বলতা প্রভৃতি দূরে ঠেলে নতুন প্রত্যয়ে সাফল্যের লক্ষ্য স্থির করে অগ্রসরের চেষ্টা করি।  এ যাত্রায় আমরা সফল না বিফল তার হিসাব মেলানোর আগেই নতুন বছর উঁকি দেয়।  তাই হিসাব মেলানোর পুঞ্জীভূত বিফলতাই যেকোনো অর্জন ও সফলতাকে ম্লান করে দেয়। 

কথাটি আমাদের অবশ্যই স্মরণে আসা প্রয়োজন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেকবোধসম্পন্ন কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়নে কালাতিপাত করবো, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সমৃদ্ধির চাকা সামনে এগিয়ে চলার পথে প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে।  তাই বছরান্তে নতুন বছরের সূচনায় আমরা যদি পুরোনো বছরের ব্যর্থতা, গ্লানি ও দুর্বলতা অনুধাবন করে হিসাবের খাতার নব কেতন ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেকবোধসম্পন্নদের হাতে ধরিয়ে দিতে পারি; তাহলে নিশ্চিত করে বলা যায়, সাফল্য শত প্রতিকূলতার মাঝেও পরিশেষে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। 

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রায় ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলেও আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জনে ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে অবস্থান করছি।  এর মূল কারণ বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তা পর্যায়ে শীর্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা অবস্থান করছেন, তাদের কিছু সংখ্যক অযোগ্য, অদক্ষ, অসমর্থ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও কনিষ্ঠ হওয়ায় স্পষ্টত তাদের মধ্যে ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও বিবেকের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের অনুপস্থিতি বিরাজমান।  অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ, যোগ্য, দক্ষ, সামর্থ্যবান ও সৎ কর্মকর্তারা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই অন্যায়ের শিকার হয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত হওয়ায় তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।  এমন পরিস্থিতিতে অযোগ্য, অদক্ষ, অসমর্থ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও কনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের আইন ও বিধি-বিধানের ব্যত্যয়ে শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করানোতে বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা নীতিজ্ঞান ও নৈতিকতাবিবর্জিত মেরুদ-হীন প্রাণীতে পরিণত হয়েছেন।  তারা পদ হারানোর ভয়ে সব সময় এত শঙ্কিত থাকেন যে, নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সৎ, যোগ্য ও দক্ষদের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে আগমন প্রতিহত করার মানষে প্রতিনিয়ত অমূলক ও ভিত্তিহীন বেনামি চিঠি লেখার কাজে ব্যতিব্যস্ত থাকেন।  যে সময় তারা বেনামি চিঠি লেখা ও পরচর্চায় ব্যয় করেন তখন সরকারি কাজে নিয়োজিত থাকলে দেশ ও জাতি কিছুটা হলেও উপকৃত হতো।  সরকারের শীর্ষ নির্বাহী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় আসীন শীর্ষ নির্বাহীরা এবং বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা এদের দুরভিসন্ধি অনুধাবন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সৎ, দক্ষ ও যোগ্যরা যথার্থই মূল্যায়িত হয়ে উপযুক্ত পদে আসীন হবেন।  অন্যথায় এর পরিণতি যে ভয়াবহ বিপর্যয় তা অসততা ও অযোগ্যতার মোড়কে আবৃত কিছু নির্বোধ উপলব্ধি করতে না পারলেও ব্যক্তিত্ববান, যোগ্যতাসম্পন্ন ও বিবেকবান কর্মকর্তারা ঠিকই উপলব্ধি করতে পেরেছেন।  তাই যোগ্যদের আগমন ও অযোগ্যদের নির্গমনই হতে পারে সমস্যা উত্তরণে প্রকৃষ্ট পন্থা। 

লেখক : সাবেক জজ, সংবিধান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক

E-mail: iktederahmed@yahoo.co