৪:৩১ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

বেলালীর ৮ ছাত্রীকে ধর্ষণের লোমহর্ষক বর্ণনা

০৮ জুলাই ২০১৯, ০৬:৩৩


নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আবুল খায়ের বেলালী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন।  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানকালীন এ পর্যন্ত তিনি ৮ কোমলমতি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ শেষে মুখ না খোলার জন্য পবিত্র কুরআন শরীফের উপর হাত রাখিয়ে শপথ করাতেন।  নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ শাহজাহান মিয়া এ সব গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। 

আবুল খায়ের বেলালী ২০১৫ সাল থেকে কেন্দুয়ার বাদে আঠারবাড়ি এলাকায় মা হাওয়া (আঃ) কওমি মহিলা মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।  ওই মাদরাসায় অপ্রাপ্তসহ মোট ৩৫ জন ছাত্রী রয়েছে।  তাদের মধ্যে ১৫ জন আবাসিক।  ছাত্রীদের দেখভালের জন্য তিনি সেখানেই অবস্থান করতেন।  সেখানে সময় সুযোগ বুঝে তিনি পছন্দমত কোন ছাত্রীকে কল করে তার কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে হাত-পা টিপে দেবার জন্য নির্দেশ দিতেন।  এক পর্যায়ে তিনি সেই অবুঝ শিশুদের উপর মধ্য যুগীয় কায়দায় যৌন নিপীড়ন চালাতেন।  মনের খায়েশ মিটিয়ে কুরআন শরীফের উপর হাত রাখিয়ে শপথ করাতেন তার এই কুকর্ম কাউকে না বলার জন্য।  নইলে পরকালে দোজকের আগুনে জ্বলতে হবে বলে ভয় দেখাতেন। 

এ ভাবে দিন, মাস, বছর গড়াতে থাকে।  প্রায় সাড়ে তিন বছরে একেক করে ৭ শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলেনি।  কিন্তু পাপ আর চাপা থাকে না।  গত শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে ১১ বছর বয়সী এক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে তার কক্ষে নিয়ে একই কায়দায় ধর্ষণ শেষে কুরআন শরীফের উপর হাত রাখিয়ে শপথ করান।  কিন্তু শিশু শিক্ষার্থী প্রচন্ড যন্ত্রনা সইতে না পেরে বাড়ি গিয়ে ডুকরে কাঁদতে থাকে।  জিজ্ঞাসাবাদে সে দোজখের ভয় না করে বাবা-মা’কে তার উপর পাশবিক নির্যাতনের সব ঘটনা খুলে বলে।  মূহুর্তে এই ঘটনা এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সকলের মাঝে প্রচন্ড ক্ষোভের সঞ্চার হয়। 

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষক ওই হুজুরকে আটক করে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে থানায় সোপর্দ করেন।  হুজুরকে আটকের সংবাদ জানার পর ওই দিন শুক্রবার নির্যাতিত অপর এক শিক্ষার্থী তার অভিভাবক সাথে নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ করে।  এতে ধর্ষক হুজুরের বিরুদ্ধে দুইটি ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করা হয়।  শনিবার বিকেলে জুডিসিলায় ম্যাজিষ্ট্রেট সোহেল এর আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত মাওলানা বেলালী ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।  পরে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন।