১২:৫২ এএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৫ রবিউস সানি ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

ভারত ৩০ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠালো

২৬ জুলাই ২০১৯, ০৬:৩১


বিভিন্ন সময়ে ভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ৩০ বাংলাদেশিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।  সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এসব বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করা হয়।  

ভারতের করিমগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবজিত নাথ ও ইন্সপেক্টর আব্দুল ওয়াকিল আহমদ তাদের জকিগঞ্জ ইমিগ্রেশন অফিসার এসআই রফিকুল ইসলাম ও জকিগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন। 

ফেরত পাঠানো ৩০ বাংলাদেশি হলেন কক্সবাজারের নুরুল আলম, আরিফুল হাকিম, বগুড়ার আবুল কালাম আজাদ, ব্রাহ্মবাড়িয়ার ওয়াহিদুল হক, নাটোরের বাবুল সর্দার, ইউনুছ আলী, কুমিল্লার মোহাম্মদ জাবেদ, মুমিন আলী, কার্তিক চন্দ্র শীল, আবুল খায়ের, ফরিদপুরের মোজাহার মোল্লা, সাহেলা আক্তার, কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, পাবনার ফজর আলী মোল্লা, সাতক্ষীরার আজবাহার পিয়াদা, চাঁদপুরের নুর মোহাম্মদ গাজী, নেত্রকোনার সুচিত্রা বিশ্বাস, আবুল কাশেম, ময়মনসিংহের আসমা বেগম, সিলেটের আব্দুল কুদ্দুস, খাগড়াছড়ির নুরুল আমিন, জামালপুরের চাঁন্দ মিয়া ওরফে কাওছার আহমদ, পঞ্চগড়ের ইলিয়াছ আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুরের জাহাঙ্গীর আলম শম্ভু, সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণ চক্রবর্তী, খুলনার আবুল কালাম মোল্লা, চুয়াডাঙ্গার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, চট্টগ্রামের আশীষ দাস। 

আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারত ফেরত প্রত্যেককে তাদের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।  স্বজনদের কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

সাজা ভোগকারী নেত্রকোনার আবুল কাশেমের মা হাসিনা বেগম ও বড় ভাই জয়নাল আবেদীন জানান, ৬ বছর আগে আবুল কাশেম নিখোঁজ হয়।  আমরা তার আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম।  সরকারের তৎপরতায় তাকে ফেরত পেয়ে আমরা খুবই আনন্দিত। 

ভারতের গোয়ালপাড়া কারাগারে সাজা ভোগকারী কুমিল্লার আবুল খায়ের বলেন, শখের বশে অবৈধভাবে ভারত ঘুরতে গিয়ে জীবনের দীর্ঘ সময় নষ্ট করেছি।  আমি যে ভুল করেছি অন্য কেউ যেন এমন ভুল না করে। 

জামালপুরের চাঁন্দ মিয়ার বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এসএম আব্দুল মান্নান বলেন, ৭ বছর পরে ছোট ভাইকে কাছে পেয়ে আমি খুশি।  অবৈধভাবে কেউ প্রবাসে গিয়ে নিখোঁজ হলে পরিবারে দুঃখের সীমা থাকে না। 

জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় জানান, ভারত থেকে ফেরত পাঠানো বাংলাদেশিরা ২ থেকে সর্বোচ্চ ২৩ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন।  সঠিক নাম-পরিচয় না থাকার কারণে আটকদের অনেকে দীর্ঘদিন সাজা ভোগ করেছেন।  ভারতের হাইকমিশনের মাধ্যেমে নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।