৮:৪৯ এএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

চাটগাঁর ইতিহাসের স্মারক

ভেলুয়া সুন্দরীর দীঘি

২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:১২


অপরূপা ভেলুয়ার রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে লুট করে নেয় এক সওদাগর।  যুদ্ধ করে লুটেরা বণিকের কব্জা থেকে যখন ভেলুয়া সুন্দরীকে উদ্ধার হয় তখন তিনি ছিলেন স্বামী শোকে মৃতপ্রায়।  ঠিক একই পরিণতির পথে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ভেলুয়া সুন্দরীর দীঘি উদ্ধারে নেমেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। 
রেলের কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধারের পর ভেলুয়াকে বাঁচানো না গেলেও দীঘিটিকে রক্ষা করা হবে।  দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে ৫০০ বছরের ইতিহাসের স্বাক্ষী এই দীঘি সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেয়া কথাও জানান তারা। 

অবশেষে দীঘিটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করে রেলওয়ে।  গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো টানা অভিযানে দীঘির পাড়ের ৪৫৭টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।  দখলমুক্ত করা হয়েছে সাড়ে তিন একর জমি।  দুই দিনের অভিযানে সাড়ে আট একর জমি উদ্ধার হয়।  আর এজন্য এক হাজারের বেশি অবৈধ পাকা, সেমিপাকা ও কাঁচা ঘড়বাড়ি ও দোকান, গুদামসহ বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে হয়েছে।  ১৪ একর আয়তনের মূল দীঘির চারপাশে প্রায় ১২ একর জমির পুরোটাই দখলদারদের কব্জায় চলে গেছে।  পুরো দীঘি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) নাসির উদ্দিন আহমেদ দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ পাহাড়তলীর ভেলুয়ার দীঘি দখলমুক্ত করা হচ্ছে।  অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর দীঘিটি সুরক্ষা করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।  দখলদারদের প্রতিটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান তিনি।  তিনি বলেন, রেলের সম্পত্তি দখল করে রাখার দিন শেষ হয়ে গেছে। 
রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মাহবুবউল করিম বলেন, মূল দীঘিকে ঘিরে চারপাশের পাড় থেকে শুরু করে দীঘিও দখল করে নেয়া হয়েছে।  দীঘির চারপাশে দখল করে নেয়া জমির পরিমাণ প্রায় ১২ একর।  দখলদার উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১১শ’ এর মত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সাড়ে আট একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।  আরও এক হাজারের মত ছোট বড় স্থাপনা রয়েছে। 
আগামী রোববার থেকে ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।  তিনি বলেন, দখলমুক্ত করার পর রেলওয়ের জমি ফের দখল হয়ে যায় এমন অপবাদ থেকে রেল মুক্ত হতে চায়।  আর এ কারণে দখলমুক্ত জায়গায় দখলদারদের আর ভিড়তে দেয়া হবে না।  অভিযানে এলাকাবাসী সহযোগিতা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে দখলদাররা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। 

এলাকাবাসী জানায়, চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিত দীঘিটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল এলাকার লোকজন।  তবে দখলদারদের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে রেল কর্তৃপক্ষ কখনও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি।  চলমান অভিযানে অবস্থা বেগতিক দেখে দখলদাররা পিছু হটতে শুরু করে।  উচ্ছেদ অভিযান হবে এমন খবর পেয়ে দখলদাররা নিজেদের উদ্যোগে অনেক স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে।  প্রসঙ্গত ভেলুয়া সুন্দরীর দীঘিকে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে এটি সংরক্ষণের তাগিদ দেয়া হয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিডিএর ডিটেলস এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ)।  এতে দীঘিটি সংরক্ষণ করে বিনোদনমূলক উন্নয়ন করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করার কথাও বলা আছে।  ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও নগরীর পানির উৎস হিসেবে এ দীঘি সুরক্ষায় তাগিদ দেয়া হয়। 

এদিকে রেলওয়ের জমি উদ্ধারে গতকাল পর্যন্ত দেড় মাসের অভিযানে ১৬ হাজারের বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।  উদ্ধার করা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৪০ একর জমি।  চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলের সাত হাজার ৭০০ একর জমির ২২৩ একর বেদখল হয়ে যায়।  এ জমি উদ্ধারে গেল অক্টোবর থেকে নিয়মিত অভিযান চলছে।