১:০৭ এএম, ৮ আগস্ট ২০২০, শনিবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

-সালাম গফফার ছন্দ

“মুজিবের কন্ঠ”

০৭ মার্চ ২০২০, ০৯:৩১


“মুজিবের কন্ঠ” 

-সালাম গফফার ছন্দ

কবিতা-১   

“মুজিবের কন্ঠ”

অরুণ রবির শুভ্র গলে শেখ মুজিবের কন্ঠ দোলে,

মধুর ভাষে ভাষিত আজি সত্যের ডাকে বিশ্ব ভোলে। 

অত্যাচারীর মুখোশ আজি পড়লো বুঝি খুলে,

দিকে দিকে ছুটল সবাই মৃত্যু ভয়কে ভুলে। 

এপার ওপার বাংলা বুঝি একই বাংলাদেশ,

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর চির দীনের বেশ। 

বাংলা মায়ের দুঃখ কষ্ট মোচন করতে শেখ মুজিব,

অত্যাচারের কবর দিতে তাইত তুমি হলে সজীব। 

নোতুন যুগের নোতুন আলো ছড়িয়ে দিলে দিকে দিকে,

উজ্জ্বল আলোয় ভরবে তুমি মোদের সোনার বাংলাটিকে। 

বাঙ্গালী মোরা বাংলা ভাষায় বাংলাতে তাই কথা বলি,

বাঙ্গালী জাতির মুক্তির তরে মুজিব জেলে গেলেন চলি। 

২২/০৩/১৯৭১

 

(২)

‘শেখ মুজিব’

জন্মনিয়ে এসেছিলে বাঙ্গালীর ঘরে শেখ মুজিব,

ন্যায় নিষ্ঠা স্বার্থ ত্যাগী এ যে মহান মহিমা শিব। 

ছোট্ট বেলায় তুমি ছিলে সোহরাওয়ার্দীর অতি প্রিয়,

তাই তিনি বলেছিলেন, ‘একদিন তুমি হবে স্মরণীয়। 

সেই দোয়া বুকে নিয়ে বাঙ্গালীর মুক্তির জন্য,

আজ বাঙ্গালীর মুক্তি এনে হলে যে সবার ধন্য। 

আইয়ুবের শাসন সবার তরে জ্বালিয়েছিল অগ্নি,

সে আগুন নিভাতে তুমি জ্বালিলে সংগ্রাম বর্হ্নি। 

সেদিন অন্যায়’র প্রতিবাদ দেখে ওরা তোমায় করিল বন্দি,

মুক্তি দিবে এক শর্তে যদি কর ওদের সাথে দালালির সন্ধি। 

তবুও বলেছ তুমি ‘না এ মুক্তি আমারই নয়,

সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর মুক্তি সবার জয়। 

এরপর আইয়ুব ঠেলে দিয়েছে তোমায় মৃত্যু গুহায়,

মুখে সত্য বুকে কোরআন আল্লাহ ছিলেন সহায়। 

দানবের সে কঠিন রশি পারেনি তোমা’ বেঁধে রাখতে,

তিরিশ লক্ষ বীর হয়েছে শহীদ মুক্তির সংগ্রামেতে। 

বাঙ্গালীর ঘরে তোমার মতো ফুটেছল শত কলি,

ইয়াহিয়া আয়ুব বাঙ্গালীর বুকে চালালো তাই গুলি। 

বাংলার বুকে বয়েছিল তাই রক্তের খুন স্রোত,

মুক্তি পেয়ে শহীদের তরে করেছিলে মাগফেরাত। 

তুমি ন্যায়, তুমি নির্ভিক তুমি মহান চির উদীয়মান,

এক খোদাকে ছাড়া কর’নিকো ভয় আছো দণ্ডায়মান। 

সেদিন তোমায় হত্যার লাগি ইয়া’ আয়ুব দানব,

শত শত চেলা দিয়ে মৃত্যু জাল পেতেছিল মানব। 

সে চেষ্টা তার ব্যার্থ হলো নিষ্ঠুর নীচ কুক্কুর,

তেইশ বছরে বাংলার বুকে ধরিয়েছিল ভঙ্গুর। 

তুমি তাই বঙ্গ মাকে রক্ষায় হয়ে উঠেছিলে সজীব,

বঙ্গ মাতা হেসে বলে তাই আমার ছেলে মুজিব। 

০২/০১/১৯৬৮ সাল। 

(৩)

“বাংলা ছাড়”

বাংলা মায়ের রঙিন বাগে একটি ফুল ফুটলো বুঝি,

অন্ধকারের বন্ধ হ’তে বাঙ্গালীরা পথ পেলো খুঁজি। 

দূর হতে আজ দূরান্তরে ছুটছে আজ নিশান নিয়ে,

মুজিব মুজিব কন্ঠে ধ্বনি নতুন আলোর পথ বেয়ে। 

ছাড়’ ছাড়’ বাংলা ছাড়’ কন্ঠে নিয়ে বজ্র ধ্বনি,

শোষণের কবর দিয়ে উড়িয়ে দিলে জয় কেতনী। 

ফিরে যা তোরা জীবন নিয়ে সাবধান! হানাদার!

জেগেছে আজি বাঙ্গালী জাতি নাই বুঝি নিস্তার!

ভণ্ডামির মুখোস পরেই করেছ শুধু অভিনয়,

ছাড়’ ছাড়’ বাংলা ছাড়’ মৃত্যু তোদের এসে যায়। 

এসো বাঙ্গালী ছুটে যাই রণে আমরা বিজয়ী বীর,

পশ্চিমা কুত্তা বাংলা ছাড়’ কভূমোরা নোয়াইবনা শির। 

১৭/০৮/৭১ সাল। 

(৪)

“দুর্জয় শফত”

এবার মোদের ডাক এসেছে বাঁচার সংগ্রাম করতে হবে,

দুর্জয় কপাট শৃঙ্খল ভেঙ্গে শত্রুকে খতম করতে সবে। 

সংগ্রাম আজি মুক্তির লাগি দিকে দিকে জ্বলছে আগুন,

সাড়ে সাতকোটি বাঙ্গালীরা উড়িয়ে দেব জয়ের কেতন। 

দিকে দিকে ভেসে চলে শেখ মুজিবের বজ্র কন্ঠ,

অত্যাচারীর গুড়িয়ে মাথা ধরব সে ন্যায়ের দণ্ড। 

তেইশ বছরের শাসনে মোরা পেয়েছি সব বুলেট গুলি,

বাঙ্গালীরা তা যাইনিক’ ভুলি তোমাদের সে মিথ্যা বুলি। 

আমাদের রক্তে গড়েছ প্রাসাদ কিনেছ বন্দুক কামান গুলি,

মোদের অস্ত্রে মেরেছ মোদের ভেঙেছ শত মাথার খুলি। 

সেদিন আর বেশী দূরে নয় হব’ মোরা আবার স্বাধীন,

মোরা বাঙ্গালী ভাঙ্গব কারা থাকব নাক’ আর পরাধীন। 

পঁচিশে মার্চে করেছ হত্যা লাখ লাখ বাঙ্গালী সন্তান,

শহীদের দরজা পেয়েছে তারা জ্বেলেছে দীপ্তি অনির্বাণ। 

শেখ মুজিবের অগ্নি মন্ত্রে জেগেছি মোরা বাঙ্গালী,

নব দিগন্তে উঠেছে সূর্য বিজয়ীর রঙে রাঙ্গালী। 

টিক্কা ইয়া আইয়ুব তোরা ভালো করে শুনে নাও,

তিলে তিলে মরতে হবে বাংলার আশা ছেড়ে দাও। 

জেগেছে জেগেছে বাঙ্গালী নিস্তার বুঝি নাই আর,

অত্যাচারীর ধ্বংস হবেই নাই তবু কভূ নিস্তার। 

এতোদিন যা করেছ শোষণ তার খেসারৎ দিতে হবে,

নইলে তোমরা শুনে রাখ তোমাদের চিহ্ন না রবে ভবে। 

যে পাপ করেছ তোমরা হিংস্র বর্বর পশুর অধম,

লাখ শহীদের রক্তে আজি সত্য মন নিয়েছে জনম। 

আজ মোরা তাই বাঙ্গালী জাতি গাহি বিজয়ের গান,

ত্যাগ তিতিক্ষা বিনা কোন জাতি পায়নি স্বাধীনতার মান। 

০১/০৭/৭১ সাল। 

(৫)

“বাংলা মায়ের ডাক”

আজকে মোদের ডাক এসেছে বাংলা মায়ের থেকে,

মাতৃভূমি রক্ষা করো সবারে বলছে ডেকে ডেকে। 

পশ্চিমা ওই সব দস্যু সেনার খতম করতে হবে,

নইলে মোদের জাতিটাকে ধ্বংস যে করবে সবে। 

আর থেক’না ছেলেরা মোর থেক’না আর বসে,

বজ্র হাতে অস্ত্র ধরো সবাই নিশান ধর’ কষে। 

দেখবে তখন দস্যু সবে পালাবে সব তেড়ে,

কঠিন সাহস বক্ষে তোঁদের চলিস কেতন নেড়ে। 

সত্য ন্যায়ে বিশ্বে সেরা বাঙ্গালীরা এক জাতি,

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খৃস্টান সবাই মানব জাতি। 

দেখিয়ে দেবে বিশ্বকে আজ তোমরা বীর্য ধারী,

দিকে দিকে সত্যের বান ডাকছে শোন ভেরী। 

বাংলাদেশের কাঁদা মাটি তোদের পানে চায়,

যুদ্ধ তোদের মুক্তির পথ তাই যুদ্ধ করবি আয়। 

০৯/০৮/৭১ সাল। 

(৬)

“রণাঙ্গনা বাংলাদেশ’

বিশ্ববাসী দেখবে এসো বাংলা মায়ের রুপ,

পশ্চিমা কুত্তার অত্যাচারে বান ডেকেছে

শহীদ ছেলের রক্ত স্রোতে নেশায় যেন-

ফাগুন ছোটে টগবগিয়ে ভরিয়ে দিতে বুক। 

স্বাধীনতা আনবে বলে লক্ষ কোটি দামাল ছেলে,

জীবন দিতে ছুটছে সবে ঝড়ের বেগে দলে দলে। 

আকাশে বাতাসে শত্রু হননের দুর্জয় নেশা-

দস্যু সেনা হচ্ছে খতম পায়না খুঁজে দিশা। 

অনির্বাণ ছোটে দিকে দিকে দুরন্ত গতিতে,

সংগ্রামে সব শত্রু সেনা ভেসে যায় সে স্রোতে। 

লাখ শহীদে জন্ম নিয়ে কোটি কোটি মুক্তি সেনা,

বজ্র কন্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে শোনায় মুক্তি বীণা। 

ছুটে চলে সবে জীবন নেশায় টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া,

স্বাধীনতা সূর্য দু’হাতে করে আনিবে তাই জীবন দিয়া। 

ও আমার বাংলা মাগো জননী রণাঙ্গনা বাংলাদেশ,

জীবন দিয়ে তোমার বুকে ঘুমাব আজি মনে খায়েশ। 

১৮/০৮/৭১ সাল। 

(৭)

“জেগেছে বাঙ্গালী”

জেগেছে আবার নতুন করে মুক্তির তরে বাঙ্গালী,

জাতীয় মুক্তি এনেছি আমরা অরুণ রঙে রাঙালি। 

বজ্র সম আঘাত হেনে শত্রুকে সব করবে জখম,

মৃত্যুর ভয় করিনা’ক আর দানবেরে করব খতম। 

দিকে দিকে দাউ দাউ করি জ্বলছে শুধু অগ্নি,

বাঙ্গালী মুক্তির বিজয় কেতন উড়িয়ে দি’ছে ভগ্নি। 

আকাশে বাতাসে উঠিছে এবার ঝড়ের কাঁপন,

জয় জয় বাঙ্গালীর জয় ধ্বনি ছিড়িছে বাঁধন। 

দিকে দিকে তাই শত্রু সব ব্যস্ত ত্রস্ত পালাতে,

ধরে ধরে মারব সবাই ঝুলাব ওঁদের ফাঁসিতে। 

দেখব তখন কোথায় পালায় মানবরুপী শয়তান,

বাংলাকাশে উঠিছে সূর্য এ যেন মুক্তির আহবান। 

শত্রুরা ত্বরা প্রস্তুত হও পাপের শাস্তি নিতে,

মিথ্যে কথায় বার বার চেয়েছে ধোঁকা দিতে। 

পারবে না পারবে না সত্য যে জেগে রবে,

শুনে নাও পাপের শাস্তি তোদের নিতে হবে। 

মিথ্যে কখনো টিকিয়া থাকেনা এ পৃথিবীতে,

ইসলাম তার প্রমান দিচ্ছে পবিত্র কোরানেতে। 

জয় আমাদের সুনিশ্চিত বাঙ্গালীর হবে জয়,

মুক্তি যুদ্ধ এ জগতে কি কোন দিন বিফল হয়?

০৭/০৮/৭১ সাল। 

 (৮)

 “বঙ্গ জননী”

বঙ্গ জননী বাংলা মাগো-

জন্মেচ্ছি তোমার বুকে। 

পেটের ক্ষুধা মিটিয়েছ  সূধা,

ধন্য মোরা তাই সুখে। 

বিচিত্র রঙে রঙিন তুমি,

সোনার মতন মুখ। 

মা’তোর স্নেহ মমতা দিয়ে-

ভরিয়েছ মোদের বুক। 

রম্য শ্যাম্য শষ্য শ্যামলা,

আমার বঙ্গ ভূমি। 

মাগো, তাই মোরা আশির্বাদ পাই-

তোমার পদ চূমি। 

ভোর বেলায় পাখীর কূজন

পল্লী সুর ভাটিয়ালী। 

শরতের রোঁদ ডানা মেলে-

ঢেউ খেলে যায় সোনালী। 

০৪/০৩/৭১ সাল। 

(৯)

 “বাংলা মাগো”

ও আমার বাংলা মাগো

তোমায় কতো ভালোবাসি। 

তোমার কোলে হেসে খেলে

বাঁজাই সুরে বাশী। 

সকাল দুপুর কোকিল ডাকে

কুহু কুহু সুরে। 

কুলু কুলু ছন্দে নদী

বয়ে চলে দূরে। 

সুন্দর তুমি গগন চূমি

(মাগো) মিষ্টি তোমার হাঁসি। 

শত দুঃখ কষ্টে আমি-

তোমায় ভালোবাসি। 

দোয়েল কোয়েল শ্যামা ঘুঘু

তোমা’ পানে চায়। 

মানব দানব সবে মিলে

তোমারই গান গায়। 

রম্য সৌম্য শষ্য শ্যামল

মিষ্টি মুখের হাসি। 

স্নেহে তোমার জড়িয়ে দিলে

তাইতো ভালোবাসি। 

তোমারই ডাক পেলে মাগো-

ঘরে ফিরে আসি। 

ভূবন জুড়ে শ্রেষ্ঠ মাগো-

তোমার মিষ্টি হাসি। 

০৬/০৩/৭১ সাল। 

(১০)

 “বঙ্গ নারী”

একটি নারীর মুখ দেখেছি

জানিনা মানব কিংবা পরী। 

জোছনা রাতের রুপের ছটা

সেযে সর্গের অপসরী। 

দূর থেকে দেখেছি তাঁরে

শুধু এক নজরে। 

প্রতিজ্ঞা তাই মনে মনে

বধূ করে তুলব ঘরে। 

পঁচিশে মার্চ চোখে শুধু

জ্বলছিল অগ্নি শিখা। 

রক্ত দিয়ে বাঙ্গালীর বুকে

লিখেছিল রক্ত লেখা। 

বাংলার বুকে রক্তের স্রোত

বহিয়ে দিয়েছিল। 

পশ্চিমা কুত্তা সে আগুনে

ভস্ম হয়ে গেল। 

এরপরে আর দেখিনি তাঁরে

কোথায় সে চলে গেছে। 

বঙ্গ জননীর বুকে সে আজ

শান্তিতে শুয়ে আছে। 

০৫/০১/৭১ সাল। 

(১১)

 “রক্ত প্রাসাদ”

তোমরা গড় শ্বেত পাথরের প্রাসাদ

বাঙ্গালীর রক্ত শোষণ করে। 

ভরেছ পিন্ডি করাচী ইসলামাবাদ

দেখিয়া বিশ্ব কাঁদিয়া মরে!

তেইশ বছরে দাওনিক’ অধিকার

দিকে দিকে শুধু জ্বালিয়েছ আগুন!

প্রতিষ্ঠিত হয়নিক’ মোদের স্বাধিকার

শুধু বাংলাকাশে উড়িয়েছ শকুন। 

তোমাদের প্রাসাদ ভাঙব এবার

মানবনা কোন বাঁধার ধারা। 

আমাদের তাজা রক্তের স্রোতে

নিয়ে যাবে অগ্নি কারা। 

দেখ দেখ চেয়ে দেখ রক্ত প্রাসাদ মোদের

কোনদিন ওরা ক্ষমা পাবেনা। 

জ্বালিয়ে পুড়িয়ে নিঃশেষে তোদের

ভবে এতোটুকু চিহ্ন রাখবেনা। 

তাই বলি ফের কুত্তা তোদের

প্রাণ নিয়ে ফিরে যা দেশে। 

লাখ শহীদের রক্তের প্রাসাদ মোদের

মৃত্যু তোদের মারবে পিষে। 

শোন ওরে শোন সিংহের হুঙ্কার

বিশ্ব সেরা আমরা বাঙ্গালী জাতি। 

প্রাসাদ তোদের ধূলিসাৎ করে

 মোরা,কুটির গড়ি নিশিত রাতি। 

 ২১/০৮/৭১ সাল। 

(১২)

“অমর ৮ই ফাল্গুনী”

চিৎকার শুনি চারিদিকে একি সব কান্না

ঢাকা থেকে গ্রামাঞ্চলে সবার মনে বেদনা। 

নয়নের জল মুছে ফেলে মোরা হই আগুয়ান,

ওরা নিষ্ঠুর মানব দানব হিংস্র পশু শয়তান। 

বঙ্গ মায়ের বীর সন্তান শত জন্ম নিয়ে এ বুকে,

জীবন দিয়ে রক্ত দিয়ে ঘুমিয়ে আছে যে সুখে। 

সালাম, জব্বার, রফিক, শফিক আর ভাই বরকত,

অম্লান হয়ে জেগে আছে ওরা বুকে নিয়ে যে ক্ষত। 

অমর ৮ই ফাল্গুনী শিহরী উঠি ভয়ঙ্কর একি দৃশ্য,

আকাশে বাতাসে দলিত মথিত শয়তানসব ভস্ম। 

ভাষা আমার ভাষা তোমার বাংলা মাতৃভাষা,

তোমাদের বুকের রক্তে সেদিন হয়েছিল জয়ীর আশা। 

রক্তের স্রোত বয়েছিল সেদিন ঢাকার বুকে,

মানবের সাথে ফিরিস্তারা কেঁদেছিল দুঃখে। 

সেদিন দানব বলেছিল উর্দুই হবে রাষ্ট্র ভাষা,

সংগ্রাম চলেছিল রক্ত ঝরিয়েছিল সর্বনাশা,

পিচঢালা পথ হয়েছিল লাল উঠেনি রবি ঊষা। 

চারিদিকে শুধু ত্রাসের ফনা চেয়েছিল কাল নেশা। 

ক’দিন আসবে তোমরা মোরা আজো কাল গুনি,

অমর সে শহীদের রক্তে এ যে আটই ফাল্গুনী। 

ওগো সালাম, জব্বার, রফিক, শফিক, ভাই বরকত,

চেয়ে দেখ চারিদিকে সব তোমাদের ভাই মহব্বত। 

মরণী তোমরা মরণী আজো জেগে আছো মম অন্তরে,

বিশ্ব ইতিহাস এঁকেছে সে ছবি বাঁধা কালো অক্ষরে। 

০২/০১/৭১ সাল। 

(১৩)

“রক্ত চাই! রক্ত চাই!”

দুর্জয় বেগে ছুটে চলেছে মুক্তি সেনানী দল,

বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে আজি হইয়াছে চঞ্চল। 

দিন দুনিয়ার নিয়ম ত্যাজি ছুটছে সব নতুন গানে,

পিপাসা সব মিটবে আজি শত্রুর তাজা রক্ত পানে। 

আকাশ বাতাস কাঁপছে আজি মায়ের মুক্তি সংগ্রামে,

বিশ্ব মাতার আঁচলখানি উড়ছে আজি ডানে বামে। 

দিকে দিকে ছুটছে সবাই দুর্বার দুর্জয়,

মোদের বাংলা ছাড়তে হবে ইতিহাস কয়। 

রক্ত দিতে শিখেছি মোরা থাকব না’ক বসে ঘরে,

দস্যু সব করব খতম কামানের পর কামান মেরে। 

মোদের দেখে বিশ্ববাসী কাঁপছে ভয়ে থর থর,

শাসনে শোষণে হৃদয় মোদের করেছে জর জর। 

ভুলি নাই ভুলি নাই কভূ জীবন থাকিতে এ দেহে,

গড়েছি দুর্গ মোরা আজি তাই প্রতিটি গৃহে গৃহে। 

এসেছে এসেছে সময় এবার রক্ত চাই রক্ত চাই,

দিগন্তে ঐ নব সূর্য রক্ত দেব শুধু স্বাধীনতা চাই। 

১৯/০৮/৭১ সাল। 

(১৪)

“জন্ম ভূমি”

জন্মভূমি মাগো! নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে

দিয়েছে জীবন; তোমার পবন। 

উজ্জ্বল নিষ্পাপ সুন্দর মুখ দেখেছি আমি

তোমার বুকে শিখেছি খেলাধুলা,

শিখেছি দুর্গম পথ চলা,

তোমারই কোমল স্নিগ্ধ কোলকে করেছি-

উজ্জ্বলময়।  শিশু কালের ধাপ পেরিয়ে

তোমার বুকে মাথা রেখে আপন মনে-

ঘুমিয়েছি।  তোমারই চোখের অশ্রু নীরে

হয়েছি পূণ্যবান।  তোমারই চরণে-

এ প্রাণ করেছি দান, তোমারই-

বৃক্ষের ফল করেছি ভক্ষণ, তোমারই

পুষ্প দিয়ে গেঁথেছি মালা।  সম বয়সী

সাথীদের সাথে করেছি আহলাদ। 

তোমারই বুকেতে আমি-

রেখেছি জীবন মেলা। 

হাত জোড় করি চাহিয়াছি ক্ষমা,

শিখিয়েছ লিখিয়েছ তোমারই ভাষা,

যৌবনের পথে এলাম আমি

শৈশব ত্যাগ করে। 

ঘুরাতে তোমারই বুকেতে মোরে-

তৃপ্তিতে তাই ভরলো এ মন;

আমার পূর্ব পূরুষ জন্ম নিয়েছে

তোমারই বুকে।  কচি পেরিয়ে আমারই মত,

তোমারই দেহের লাবন্য দিয়ে

গড়েছিলে সবাইকে। 

বাংলা মাগো! তুমি শুধু

একা আমার মা’ নও,

বিশ্বে সবার জননী মা,

তোমার শ্যামল বুকেতে আমার

পিতামহরা শান্তিতে শুয়ে আছে,

তাঁদের নিষ্পাপ মন আজি-

রয়েছে তোমার মাঝে। 

তোমার বুকের রক্ত দিয়ে তৈরি

আমার দেহ, সবকিছু রেখে

চলে যাব আমি গৃহ ফেলে-

তোমার মাঝে একাত্ম হয়ে। 

২৯/০৮/৭১ সাল। 

(১৫)

 “প্রতিজ্ঞা”

আমাদের কঠিন মুষ্টাঘাতে

ভাঙব মোরা কারার কপাট। 

বন্দীকে সব মুক্তি দিয়ে

করব মোরা নোতুন শপত। 

তোমার বুকে রুলার হেনে

এগিয়ে যাব সম্মুখ পানে। 

সব কিছু গুড়িয়ে দেব

বাঁধব এমন সুরের তানে। 

এতো দিন যা সহ্য করেছি

আর কভূ সহ্য করিবনা। 

দুর্জয় বেগে এগিয়ে যাব

কভূ বিপদের ভয়ে টলিব না। 

জীবন প্রভাতে এনেছি আজি

রঞ্জিত হলো রক্ত লাল। 

অন্যায়কে আজ গুড়িয়ে দেব

আমরা বাঙ্গালী কিশোর দল। 

১৯/০৮/৭১ সাল। 

(১৬)

 “একটি ফুটন্ত ফুল”

দেখেছি সেদিন বাংলা মায়ের বুকে

ফুটন্ত একটি ফুল। 

ফুলের সৌরভে বিশ্ব মাতোয়ারা

সোহাগে মশগুল। 

রক্তের দিনে রক্তিম কণা

রক্তে রঞ্জিত হলো। 

নিখিল বিশ্ব মায়ের বুকে

রক্তিম টিপ উজ্জ্বল। 

ছিড়তে সে ফুল ইয়া’ আয়ুব

বাড়িয়েছিল দু’হাত। 

অমনি তাই সত্য এসে

করেছিল সংঘাত। 

তবুও ওদের মেটেনি লালসা

রক্তের স্রোত বহিয়ে দিয়ে। 

মৃত্যু তাদের এসেছে দুয়ারে

তারা সেদিন পড়েছিল নুয়ে। 

বাংলা মায়ের শ্রেষ্ঠ সে ফুল

সোনার ছেলে শেখ মুজিব। 

লাখ শহীদের রক্তে ভিজে

তাইতে হলো সবাই সজীব। 

১৮/০৮/৭১ সাল। 

(১৭)

 “মুক্তির আহবান”

বীর বাঙ্গালী আজ কান পেতে শোন

শত্রুর বিরুদ্ধে কঠিনতম বজ্র হানো। 

তেইশ বছর করেছে শোষণ আর-অবিচার

প্রতি পদে বাঙ্গালীরা পাইনিক’ অধিকার। 

তাই আজি মুক্তির তরে অস্ত্র নিয়ে

শত্রুকে হুঁশিয়ার করি দামামা বাজিয়ে। 

শোন শোন শোন আজি হে বিধাত্রীর

ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে বাঙ্গালী বিজয়ী বীর। 

কে আছো তোমরা কোথায় হও আজি আগুয়ান

দেখিয়ে দেব রণক্ষেত্রে মোরা দীপ্ত অনির্বান। 

অত্যাচারীর খড়্গ তাই ভাঙব মোরা আজি

মৃত্যু ভুলে তাইতো মোরা রণ রঙ্গিণী সাজি। 

মৃত্যুকে আর করিনা এতোটুকু মোরা ভয়

রক্তের বদলে রক্ত দিয়ে বিশ্ব করিব জয়। 

বাংলাকাশে উঠবে আজি নতুন সূর্য আলো

মিথ্যের আলো নিভিয়ে সত্যের আলো জ্বালো। 

১৮/0৮/৭১ সাল। 

(১৮)

 “মিছিল”

মিছিল সবে বেরিয়েছে আজি,

দিক্বিদিকে উঠিছে বাজি

শান্ত শিষ্ট নম্র পরিবেশ,

শহর থেকে গ্রামাঞ্চলেও নাই শেষ। 

দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘন্টা,

নেই তার বিরাম এ যেন ঝঞ্ঝা। 

দিকে দিকে ভেসে আসে শ্লোগান,

কঠিন কর্কশ নয় এ যেন মহিয়ান। 

নির্যাতিত মানুষের দাবীর ভাষা,

এতেই সবার মুক্তির আশা। 

এপথ ওপথ সেপথ শেষে

সবাই এতে যোগ দিয়েছে এসে। 

দাবী মোদের দাবী মানতে হবে,

নইলে শোনো মোদের সংগ্রাম চলবে। 

তাকিয়ে দেখ লাখ লাখ জনতা,

মৃদু হেটে কন্ঠে শ্লোগান, নেই বারতা। 

এমনি করে মিছিলেরই তরে-

দাবী আদায়ে চলবে জীবন ভরে। 

শুধু মিধিল আর মিছিল, তাকিয়ে দেখ মিছিল,

দিকে দিকে তার সুরে সুরে পথ হয়েছে পিচ্ছিল। 

১৮/০৮/৭১ সাল। 

(১৯)

“সব্যসাচী”

দেখেছি সেদিন এক বটবৃক্ষের ছায়ে

জড়সড় হয়ে ভিজছিল একটি মানুষ,

পরের দুঃখে সে সম দুঃখী

কাঁদে সে নিরালায় বসি। 

গরীবের ব্যাথায় সম ব্যাথি,

তার নামটি কি জানো? না না জাননা,

আমি বলছি, নামটি তাঁর বন্ধু,

সে যে সেই সব্যসাচী,

চমকে উঠি! চলেছে কোথায়-

আনমনে, মাথায় কিসের বোঝা!

বুঝেছি নির্যাতিত নিপীড়িত লাঞ্ছিত

মানুষের সেবা করাই ওঁর কাজ। 

তারপর আর দেখিনি তাঁকে

কয়েক মাস ধরে-

কোথায় গেছে বলতে পারকি তোমরা?

না, কেও পারেনি জবাব দিতে,

কেমন করে দেবে বলো?

হঠাত একদিন জঙ্গল থেকে

বেরিয়ে এলো লোকটি,

দিকে দিকে বেজেছে যুদ্ধের দামামা,

হারিয়ে গেল সব্যসাচী,

চারদিকে শুধু রক্ত আর রক্ত!

রাতের অন্ধকারে কে যেন-

হেটে চলেছে একমনে-

রাতের পিছল রাস্তা দিয়ে,

তাঁর অনির্বান দুটি চোখ,

রাতের অন্ধকারে শুভ্র

তারকার ন্যায় জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। 

সে চোখে যেন প্রতিশোধের নেশা-

হত্যার বদলে হত্যা! বিশ্বকে-

করবে বুঝি পুড়িয়ে ছারখার,

হায়েনার অপরাধের শাস্তি দিতে

তার অতৃপ্ত আত্মারে দিতে

এতোটুকু স্বস্তির নিঃশ্বাস!

১৮/০৮/৭১ সাল। 

(২০)

 “নব বর্ষায়”

আজি এ বরষায় চারিদিকে গেছে ভরে

বাংলা থেকে শত্রুরা আজ পালাচ্ছে তেড়ে। 

দিকে দিকে শুধুই দেখি অথই পাথার,

মুক্তির সংগ্রাম মোদের নাই ওদের নিস্তার। 

বিদ্যুৎ সম হানবে আঘাত শত্রুর বুকে,

মায়ের বুক ভরিয়েছে রক্তে ওরা দিবালোকে। 

একটি সবুজ কলি চেষ্টা করে উপরে উঠবার,

একবার নয় দুবার নয় করে চেষ্টা বারবার। 

অবশেষে হার মানায় সেযে মেঘ জল বৃষ্টিকে,

বিদ্রোহে ঠিক এমনি করে ভাঙে সব কিছুকে। 

বাংলা মায়ের সকল ছেলে চায় যে মায়ের মুখ,

 জীবনে কখনো চায়নিক’ ওঁরা জমিদারী সুখ। 

টুকরো টুকরো করবে আজি শত্রুর রাজপ্রাসাদ,

শেষ তৃষ্ণা মিটিয়ে নাও তোর জীবনের আস্বাদ। 

আর নয় আর নয় শোন এই নব বরষায়,

ভেঙে তোদের গুড়িয়ে দেব হুঙ্কারে তাই। 

১৮/১৮/৭১ সাল। 

(চলবে)