৭:৪৪ এএম, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

যেভাবে ‘বাগান বিলাস’-এর নামকরণ করলেন রবীন্দ্রনাথ

০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:৫৯


বাগান বিলাস ফুলের ছবিটি যশোরের ঝিকরগাছা থেকে তুলেছেন শাহারিয়া অপু 

বর্ণিল রঙের অধিকারী ফুল ‘বাগান বিলাস’-এর উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে।  ফরাসি আবিষ্কারক লুই অটোইন ডি বোগেনভিল-এর নাম অনুসারে এ গাছের নামকরণ করা হয় বোগেনভিলিয়া।  তিনি ব্রাজিলের বনে এই উদ্ভিদটি প্রথম দেখেন।  কিন্তু এই ফুলের নাম ‘বাগান বিলাস’ দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  

আকর্ষণীয় এই বিদেশি ফুল গাছের দেশি নামের পেছনে বিশেষ এক কারণ রয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।  আমাদের দেশে প্রথম এই ফুল যখন আনা হয়, তখন এটি কেবলমাত্র এদেশের অভিজাত শ্রেণির লোকদের বাড়িতেই শোভা পেতো।  অভিজাত শ্রেণিতে তখন এটি ইংরেজি নাম বোগেনভিলিয়া হিসেবেই পরিচিতি ছিল।  

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক বিলাসী ও অভিজাত লোকের বাড়িতে এই ফুল প্রথম দেখেন।  ফুলের রূপ রঙে কবি মুগ্ধ হলেও এর ইংরেজি নামটি তার মোটেও মনে ধরেনি।  তখন তিনি তার কবি মনের মাধুরী মিশিয়ে এটির নাম দেন ‘বাগান বিলাস’।  যেহেতু শুধুমাত্র অভিজাত ও বিলাসী লোকেদের বাড়িতেই তখন এই ফুল দেখা যেত।  তাই তিনি এই নামকরণ করেন।  রঙিন কাগজের মতো বিভিন্ন রঙের ফুল ধরার কারণে একে কাগজ ফুলও বলা হয়।  এছাড়া এটি বাড়ির গেটে স্থান পাবার সুবাদে গেটফুল নামেও পরিচিত। 

এ উদ্ভিদটির প্রায় ১৮ প্রজাতি রয়েছে।  উল্লেখযোগ্য প্রজাতিগুলো হচ্ছে- Bougainvillea glabra , Bougainvillea peruviana, Bougainvillea spectabilis, Bougainvillea spinosa।  এর অধিকাংশই বিশ্বের সর্বত্র গরম আবহাওয়ায় ছায়াচ্ছন্ন পথ তৈরি ও বারান্দার শোভা বর্ধনে চাষ করা হয়।  আবার শীতকালীন পরিবেশে গ্রিনহাউজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ গাছ উৎপ্ন্ন করা যায়।  গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে লতা, গুল্ম অথবা ছোট আকারের গাছ হিসেবে এটি পরিচিত।  

বাগানবিলাস একটি চির সবুজ কাষ্ঠল লতান উদ্ভিদ।  খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে আর ফুলও আসে খুব সহজেই।  সমগ্র পৃথিবী জুড়েই এদের বিচরণ দেখা যায়।  বাড়ির প্রধান ফটকে অথবা ডুপ্লেক্স ভিলা বা শহুরে বারান্দায় ঝুলে থাকতে দেখতে বেশ লাগে।  বাগানবিলাস মূলত গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের উদ্ভিদ।  এর আদি নিবাস হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল, পেরু ও আজের্ন্টিনায়। 

এর জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  উষ্ম আবহাওয়ার উদ্ভিদ হলেও দিনের আলো কম থাকা অবস্থায় এবং রাতের অন্ধকার বাড়লে বাগান বিলাসের ফুল আসে।  সারাবছর এর ফুল দেখা গেলেও শীত থেকে বসন্ত পর্যন্ত ফুল ফোটার মৌসুম।  এ সময় গাছে পাতা দেখা যায় না।  শুধু ফুল আর ফুল।  যেন একটি গাছই পুরোটুকু জায়গা জুড়ে একটি গোটা বাগান তৈরি করে রাখে। 

অনেকগুলো প্রজাতিই কণ্টকময়।  একমাত্র কাঠজাতীয় লতা প্রকৃতির বাগানবিলাস সকলের মনোযোগ আকর্ষণসহ বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।  বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতে এই ফুলের দেখা পাওয়া যায়।  এর বৈচিত্র্যপূর্ণ রঙিন মঞ্জরিপত্র ফুলের চারপাশে বিদ্যমান।  তিনটি মঞ্জরিপত্রের মাঝখানে ফুটন্ত ফুলগুলো সাদা রঙের, ঘণ্টাকৃতির ও ছোট প্রকৃতির হয়।  

Bougainvillea glabra প্রজাতির বাগানবিলাসে উজ্জ্বল রঙের কাগজের মতো মঞ্জরিপত্র রয়েছে যা অস্পষ্ট ফুলের চারদিকে ঘিরে থাকে।  এ প্রজাতির গাছগুলো ২০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়।  উষ্ণ আবহাওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় ফুলে সুশোভিত থাকে।  এ প্রজাতির ফুলগুলো ‘কাগজের ফুল’ নামে পরিচিত।  

মঞ্জরিপত্রগুলো বেগুনি, নীলচে, হলুদ, সাদা, গোলাপি অথবা গাঢ় লাল রঙের হয়ে থাকে।  এক ইঞ্চি বা ততোধিক লম্বাকৃতির পাতা হয়।  এক ধরনের বাগানবিলাস গাছ রয়েছে যারা সহায়ক গাছ কিংবা খুঁটিতে চড়ে কখনো কখনো এক শ ফুট লম্বাও হতে পারে।  Bougainvillea spectabilis প্রজাতির বাগানবিলাসে অনেক ক্ষুদ্রাকৃতির মঞ্জরিপত্র থাকে।  স্বাভাবিকভাবেই এর ফুলগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়।