২:৫১ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

মিয়ানমারের সেনারা আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম ॥ গুলি করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করছে হাজারো যুবক,

রাখাইনে গণহত্যা চলছেই

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৬


রাখাইনে গণহত্যা চলছেই।  বর্মী সেনারা গ্রামের পর গ্রামে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।  মানুষ প্রাণপণ যেদিকে পারে ছুটছে।  এসময় নির্বিচারে পাখির মতো গুলি চালিয়ে হত্যা করছে অনেককে।  স্থানীয়দের মতে, গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একই গ্রামের ৭৩ জনকে।  দুই সপ্তাহের এই সহিংসতায় প্রাণ গেছে ১ হাজারের বেশি মানুষের।  মিয়ানমার থেকে আসা মানুষের সংখ্যা সাত লাখেরও বেশি।  যার মধ্যে গত দুই সপ্তাহে এসেছে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা।  জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।  তবে স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি।  গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।  মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে গণহত্যা চলছে তা মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক।  নতুন করে রাখাইনের রাথেডংয়ের অন্তত আটটি গ্রামে আগুন দিয়েছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  : যদিও এর কয়েক ঘন্টা আগে রাখাইনে এক মাসের যুদ্ধবিরতির ডাক দিয়েছে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সংগঠন, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি।  গত শনিবার এক বিবৃতিতে মানবিক সংকটের বিষয় বিবেচনা করে সেনাবাহিনীকে অভিযান বন্ধের আহ্বান জানায় সংগঠনটি।  গতকাল রবিবার থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।  তবে বিদ্রোহীদের আহ্বানে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি মিয়ানমার।  : গত ২৫ আগস্ট থেকেই জ্বলছে রাখাইনের গ্রামগুলো।  দুই সপ্তাহের এই সহিংসতায় প্রাণ গেছে ১ হাজারের বেশি মানুষের।  রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের উদার নীতির প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।  দেশটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্টের পর মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মিয়ারমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দারা।  : রাখাইনে রোহিঙ্গাদের আরো কয়েকটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে সেনারা।  এর ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  গত দুই দিনে রাথেডং প্রদেশের অন্তত আটটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে বার্মিজ সেনারা।  মিয়ানমার থেকে আসা মানুষের সংখ্যা সাত লাখেরও বেশি।  যার মধ্যে গত দুই সপ্তাহে এসেছে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা।  গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি এ তথ্য জানিয়েছেন।  নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে প্রতিমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনার সরকার রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য অনেকদিন ধরে কাজ করলেও সেদেশের সরকারের কারণে এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি।  : শাহরিয়ার আলম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, মিয়ানমার থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ৭,০০,০০০ ছাড়িয়েছে।  যার মধ্যে গত ১৫ দিনে এসেছে প্রায় ৩০০,০০০।  শেখ হাসিনার সরকার নতুনদের মানবিক সহায়তা দেবার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।  আর তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্য অনেকদিন ধরেই কাজ করছে কিন্তু মিয়ানমারের কারণে অগ্রগতি হয়নি, তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং তা আরও জোরদার করা হয়েছে।  : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে গণহত্যা চলছে তা মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক।  গতকাল রবিবার সকালে কক্সবাজারে নতুন করে আসা রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন রিয়াজুল হক।  এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের বিচারের দাবিও জানান।  : মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালীসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে যান।  এ সময় তিনি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মুখ থেকে মিয়ানমারে গণহত্যা ও বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের বর্ণনা শোনেন।  এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের নানা বিষয়ে খোঁজখবর নেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।  : জাতিসংঘের তথ্যমতে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে গত ১৫ দিনে সে দেশ থেকে তিন লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।  এ পরিসংখ্যান লাফিয়ে দিনে প্রায় ২০ হাজার করে বাড়ছে।  জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র জোসেফ ত্রিপুরা বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় দুই লাখ ৯০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।  : জাতিসংঘ কর্মকর্তারা জানান, আগে হিসেবে ধরা হয়নি এমন কয়েকটি গ্রাম ও এলাকাতেও সংস্থা আরো অনেক রোহিঙ্গাকে পেয়েছে।  অধিকাংশ রোহিঙ্গা মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৮ কিলোমিটার (যার এক-চতুর্থাংশ জুড়ে রয়েছে নাফ নদী) বিস্তৃত সীমান্ত দিয়ে পায়ে হেঁটে বা নৌকায় করে আসছে।  জাতিসংঘ জানায়, গত বুধবার থেকে রোহিঙ্গা আসার সংখ্যা হুট করে খুব বেড়ে যায়।  এদিন তিনশর বেশি নৌকা বাংলাদেশে এসেছে।  : দুই রাখাইনের লোমহর্ষক বর্নণা : মিয়ানমারের বর্বরতা বর্ণনা দিলেন আরকান রাজ্যের মংডু মেরুল্লার গুলিবিদ্ধ যুবক জাফর হোছন (৩০)।  : তার বর্ণনামতে ২৫ আগস্ট ভোর রাত ৩টা।  হঠাৎ গোলাগুলির প্রচন্ড শব্দে শব্দে ঘুম ভাঙ্গে।  কাছেই বর্ডার গার্ড পুলিশ ক্যাম্প।  সেদিক থেকেই আসছে গোলাগুলির শব্দ।  চারদিকে ছোটাছুটি আর আগুন।  এর মধ্যেই জাফর হোছন এগিয়ে গেলেন ক্যাম্পের দিকে।  দেখলেন তার গ্রামের শতাধিক যুবক লাঠিসোটা ও দা-কিরিছ নিয়ে লড়ছে।  : এসময় বিজিপির গুলিতে তার চোখের সামনে ১০ জনের মতো আহত লোক ছটফট করতে থাকে।  প্রায় সবাই তার গ্রামের পরিচিত মুখ।  এক পর্যায়ে পিছু হটে যুবকরা।  যে যেদিকে পারে প্রাণ বাঁচাতে পালাতে থাকে।  হতবিহ্বল জাফর হোছেনও পালাতে থাকে তাদের সাথে।  এসময় এক বর্মী পুলিশের লাঠির আঘাতে জ্ঞান হারান।  সকালের দিকে যখন তার জ্ঞান ফিরে নিজেকেই একটি ঝোপের ভিতর আবিষ্কার করে।  গ্রামের দিকে তাকিয়ে দেখতে পান দাউ দাউ করে জ্বলছে গ্রামের অনেকগুলো বাড়ি।  গ্রামের নারী-পুরুষ প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ের দিকে ছুটে যাচ্ছে।  : অপরদিকে গ্রামে সেনা ও পুলিশের টহল দেখতে পান।  আহত জাফর হোছেন কোন রকমে গড়িয়ে খুঁড়িয়ে এক কিলোমিটার দূরের পাহাড়ে আশ্রয় নেয়।  পরে খুঁজে বের করে স্ত্রী রুবিনা আক্তার (২১) ও দুই শিশু ফাহেদ (৩ মাস) ও মোঃ শাহেদ (১৯ মাস)।  কিন্তু জাফর হোছেন তার বাবা-মাকে খুঁজে পায়নি এখনো।  আস্তে আস্তে সেনা ও পুলিশকে এড়িয়ে পাহাড়ি পথে এগুতে থাকে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে।  ১২ দিন পায়ে হেঁটে অনাহারে-অর্ধাহারে পৌঁছে যায় রাখাইনের নাইক্ষ্যংদিয়া নামক দ্বীপে।  সেখানে আরও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে  ঢোকার জন্য অবস্থান করছে।  : শনিবার ৯ সেপ্টেম্বর ভোরে সাগর পথে টেকনাফের লেঙ্গুরবিল সৈকত দিয়ে এদেশে ঢোকে।  জাফর হোছেন আরও জানান, রোহিঙ্গাদের উপর সেনা পুলিশের অত্যাচার দীর্ঘদিনের অতিষ্ঠ হয়ে বছর খানেক ধরে সংঘটিত হচ্ছিল রোহিঙ্গা যুবকরা।  অন্যদের সাথে জাফর হোছেনও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল।  ২৫ আগস্টে সেনা ও পুলিশের হামলা ঠেকাতে এ যুবকরাই চেষ্টা চালিয়েছিল।  তাদের অনেকেই প্রাণ হারান।  আবার অনেকে রাখাইনে অবস্থান করছে।  কেউ কেউ আহত হয়ে অথবা প্রাণ বাঁচাতে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে আসে এপারে।  : আহত জাফর হোছেন পরিবার নিয়ে দিশেহারা খাদ্য, পানি, চিকিৎসা সংকটে।  ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে টেকনাফ পৌর এলাকার পল্লান পাড়ায় আলাপকালে এসব বর্ণনা দেন তিনি।  এসময় কয়েকজন সাহায্যকারী পৌঁছলে স্ত্রী রুবিনা খাদ্যের জন্য ছুটে যান রোহিঙ্গাদের ভিড়ে।  তার বর্ণনায় চোখের সামনে বৃষ্টির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে একই গ্রামের ৭৩ জনকে।  তিনি জানান, গ্রামের চারদিকে হঠাৎ করেই গুলির বিকট (টুসটাস) শব্দ।  চমকে উঠে ঘর থেকে উঠানে বের হই।  দেখি পাশের গ্রামের বাড়িগুলো দাউ দাউ করে জ্বলছে।  অগ্নি শিখা ও ধোঁয়ার কুন্ডলী আকাশে উড়ছে।  মানুষ দিগি¦দিক ছোটাছুটি করে পালাচ্ছে।  : এসময় নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে বর্মী সেনারা।  চোখের সামনে জুলেখাসহ পরিবারের ছেলে মেয়ে, নাতনিসহ ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে।  ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছে জয়নাল ও আবুলের কিশোর পুত্র।  আন্জুল হোছেনের পুত্র বাইট্টাকে সরাসরি গুলি করেছে।  বানু নামে এক মহিলাকে ঘরের ভিতর রেখে জ্বালিয়ে হত্যা করেছে।  : ২৫ আগস্টের সকাল বেলার এসব বর্ণনা করতে গিয়ে নিজেই কেঁদে উঠেন ডাঃ আবদুল আজিজ।  তিনি মংডু থানার দক্ষিণ শিলখালী গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের পুত্র।  ১৯৭৮ সালেও শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন তিনি।  পরবর্তীতে মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত হন।  তিনি আরও বলেন, চোখের সামনে এভাবে হত্যার দৃশ্য দেখে আমি এক মুহূর্তও বাড়িতে অবস্থান করিনি।  পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে অন্যান্য পরিবারের মতো আমিও পাহাড়ের দিকে ছুটেছি।  ওদিকে বর্মী সেনারা গ্রামের পর গ্রামে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে।  মানুষ প্রাণপণ যেদিকে পারে ছুটছে।  এসময় নির্বিচারে পাখির মতো গুলি চালিয়ে হত্যা করছে অনেককে।  পালানোর ওই সময়ে কে মরছে দেখার ফুসরত ছিল না।  একই গ্রামের ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার পাহাড়ে অবস্থান নেয়।  পরের দিনে সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য রেখে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হতে থাকি।  এভাবে প্রায় ১৪ দিন অর্ধাহারে অনাহারে লুকিয়ে পাহাড়ি পথ দিয়ে হাঁটার পর দলবদ্ধভাবে বৃহস্পতিবার ৭ সেপ্টেম্বর নাইক্ষ্যংদিয়া সীমান্তে পৌঁছে শুক্রবার ৮ সেপ্টে¤র রাতে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকি।  : ডা. আবদুল আজিজ জানান, খবর নিয়ে জেনেছি উত্তর শীলখালী গ্রামে এক রাতেই ৭৩ জনকে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে।  যুবতী মহিলাদের ধরে নিয়ে গেছে।  আর ফিরে আসেনি।  পথে ও ধানক্ষেতে নারী শিশুর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।  একটি ঝুড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে পায়ে ও হাতে গুলিবিদ্ধ আবদুল করিমকে পাহাড় জঙ্গল ডিঙ্গিয়ে খাল বিল পার হয়ে এপারে আনতে গিয়ে নিজেরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে।  এসময় খাবার ও পানির সংকটে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটান তারা।  আবার সেনাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘ সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে পৌঁছেন তারা।  : রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চলছে : সমাবেশে কানাডার এমপি : মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চরমপন্থী বৌদ্ধদের নির্যাতন ও গণহত্যার প্রতিবাদে কানাডার সাসকাটনের মুসলিম সম্প্রদায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।  গত শনিবার বিকালে কানাডার সিটি হলের বাইরে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যার প্রতিবাদ জানান।  তারা অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধের জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।  : কনজারভেটিভ এমপি কেভিন ওয়াফ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মিয়ানমারে যা হচ্ছে তা একটি পরিকল্পিত গণহত্যা।  তিনি এবং নিউ ডেমোক্র্যাট এমপি শেরী বেনসন উভয়ই বিষয়টি পার্লামেন্ট অধিবেশনে উত্থাপনের অঙ্গীকার করেন।  সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে উপ-প্রধানমন্ত্রী ডন মরগান বলেন, মিয়ানমারকে অবিলম্বে এই সহিংসতা ও হত্যাকান্ড বন্ধ করতে হবে।  রাশিয়া ও চীনের হস্তক্ষেপের জন্য সমাবেশের উদ্যোক্তা ড্যানিয়েল কুহেলেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিরিস্তিয়া ফ্রিল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানান।  আয়োজক স্থানীয় ‘ইসলামি এসোসিয়েশন’ রোহিঙ্গাদের জন্য ইতোমধ্য ২৫ হাজার ডলার সহায়তা করেছে বলে কুহেলেন জানান।  : একটি পৃথক সাক্ষাৎকারে ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র মাটিন রাজি বলেন, সমস্যা সমাধানে দুই পক্ষকেই সংযম প্রদর্শন করতে হবে।  মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ ও শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে কানাডা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি জানান।  সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কানাডায় প্রবেশ করতে অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।  :  মোমেনা মওলা নামে একজন প্রতিবাদকারী বলেন, তারা (রোহিঙ্গারা) সত্যিই অসহায়, নিপীড়িত এবং তাদের ওপর যে নির্যাতন চালাচ্ছে তা এক কথায় অবিশ্বাস্য।  তিনি সাসকাচোয়ানের একমাত্র বার্মিজ মুসলিম হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।  তিনি রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের জন্য অর্থ সংগ্রহের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।  এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১,৩০০ ডলার সংগ্রহ করেছেন।  তার লক্ষ্য ৪০,০০০ ডলার সংগ্রহ করা।  এই অর্থ তিনি ব্যক্তিগতভাবে শরণার্থীদের নিয়ে আসার পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান।  সেখানে আহমদীয়া মুসলমান সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে অংশ নেন।   আহমদীয়া সম্প্রদায়ের প্রেসিডেন্ট লাল খান মালিক শুক্রবার ওয়েস্টার্ন কানাডা থেকে সাসকাটনের এই র‌্যালিতে অংশ নেন।  তিনি বলেন, বেশিরভাগ আহমদীয়া মুসলমান পাকিস্তান থেকে এসেছেন; যেখানে তারাও অত্যাচারিত হয়েছেন।  এ কারণে আমরা রোহিঙ্গাদের ককে অনুভব করতে পারি।  তিনি আরো বলেন, অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এটাই আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের নীতি।