৯:১৫ এএম, ২৮ জানুয়ারী ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

রায়হান হত্যার আরো দুই পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত!

২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২০


সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যার ঘটনায় আরও দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  তারা হলেন নগরীর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র এবং এসআই আবদুল বাতেন। 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আরাফ উল্যাহ তাহের জানিয়েছেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে এ দুজনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।  রায়হান হত্যা মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন কোতোয়ালি থানার এসআই বাতেন।  তদন্তে গাফিলতি ও প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়ার পালিয়ে যেতে সহায়তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

বরখাস্ত দুজনের মধ্যে সৌমেনকে রংপুরে ও বাতেনকে সিলেট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  এ নিয়ে রায়হান হত্যার ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হলো।  এ ছাড়া গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার পুলিশ সদস্যকে। 

এর আগে গত ১০ অক্টোবর রাতে নগরীর নেহারীপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান আহমদকে ধরে নেওয়া হয় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে।  ১১ অক্টোবরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।  সেখানে মারা যান রায়হান। 

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে আহত হন রায়হান, পরে হাসপাতালে তিনি মারা যান।  কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়।  রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে ১২ অক্টোবর মামলা দায়ের করেন। 

অভিযগের পরিপ্রেক্ষিতে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।  অনুসন্ধানে ফাঁড়িতে নির্যাতনের সত্যতা পায় কমিটি।  ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। 

গত ১৩ অক্টোবর থেকে লাপাত্তা হয়ে যান আকবর।  ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে আকবরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  রায়হান হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  এ ঘটনায় কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, হারুনুর রশিদকে দুই দফায় আট দিন করে এবং এএসআই আশেক এলাহীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

এদিকে, রায়হানকে ছিনতাইকারী হিসেবে অভিযোগকারী শেখ সাইদুর রহমানকে গত ১৫ নভেম্বর প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পিবিআই।  পরে তাকে নেওয়া হয় তিন দিনের রিমান্ডে।