১:২৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারী ২০২০, রোববার | | ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

লবণ কম দামে বিক্রি হচ্ছে

২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:০৮


লবণের দাম বাড়বে- এমন গুজবে গত মঙ্গলবার নিত্য এ পণ্যটি কেনার হিড়িক পড়ে যায় সারাদেশে।  তবে এক দিনেই সে গুজবের সমাপ্তি হয়েছে।  গতকাল বাজারে লবণ বিক্রি কম হয়েছে।  আবার প্যাকেটের গায়ে নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা কম দামেও বিক্রি করেছেন অনেক দোকানি।  কারণ ক্রেতা ছিল কম। 

এদিকে যারা গুজবে কান দিয়ে বেশি দামে অতিরিক্ত পরিমাণ কিনেছিলেন, তারা ঠকেছেন।  হুজুগে যারা মঙ্গলবার বেশি দামে লবণ কিনেছিলেন, তারা কেউ কেউ আবার তা ফেরত দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন।  তবে দোকানিরা তা ফেরত নেননি।  এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছে বিভিন্ন দোকানে। 

এদিকে বাজার স্বাভাবিক রাখতে কম দামে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন।  সংস্থাটি গতকাল রাজধানীর বাজারে ট্রাকে করে কম দামে লবণ বিক্রি শুরু করে।  ভোক্তাদের সুবিধার জন্য বিসিক রাজধানীর চারটি স্থানে খোলা বাজারে লবণ বিক্রি করে।  এই স্থানগুলো হচ্ছে- উত্তরা বিজিবি মার্কেট, ধানমন্ডি ৯/এ, মিরপুর-১ ও লালবাগ শ্যামা সল্ট মিল প্রাঙ্গণ।  বাজারদরের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৫ টাকা কমে সরু লবণ (ভ্যাকুয়াম) ৩০ টাকা এবং ১১ টাকা কমে মোটা লবণ ১৪ টাকা দরে ট্রাকে বিক্রি করা হয়। 

মিরপুর ১নং শাহআলী বাজারের সামনে ট্রাকে ওই লবণ কম দামে বিক্রি হয়।  ফলে আশপাশের দোকানিদের কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজিতে লবণ বিক্রি করতে দেখা গেছে।  এই বাজারের দোকানি নাসির উদ্দিন জানান, লবণ বিক্রি কমে গেছে।  হাতেগোনা কয়েকজন ক্রেতা দু-এক কেজি লবণ কিনেছেন।  কিন্তু বাজারের সামনে ট্রাকে কম দামে লবণ বিক্রি হওয়ায় তারাও দাম কমিয়ে দিয়েছেন।  দাম কমিয়ে সরু লবণ ৩০ টাকা ও মোটা লবণ ২০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন।  এর পরেও ক্রেতা পাচ্ছেন না।  উল্টো গুজবে বেশি পরিমাণে বিক্রি হওয়া লবণ অনেক ক্রেতা ফেরত দিতে এসেছেন। 

মোহাম্মদপুর টাউন হলের এক দোকানি জানান, হুজুগে বাঙালি ১৫০ টাকা দিয়ে লবণ নিয়ে গেছেন।  আর এখন আসছেন ফেরত দিতে।  গতকাল তার দোকানে লবণ নিয়ে আসা চারজন ক্রেতাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন।  তিনি বলেন, আমি কোনো ক্রেতাকে জোর করে লবণ দিইনি।  ফলে ফেরতও নিইনি। 

উত্তর পীরেরবাগের মন্টু মিয়ার দোকান থেকে মঙ্গলবার বিকেলে ক্রেতারা ২০ টাকা কেজি দরে লবণ কিনেছেন।  গতকাল ওই দোকানে এক ক্রেতা ১০ কেজি লবণ ফেরত দিতে আসেন।  কিন্তু তা ফেরত নেননি।  উল্টো ক্রেতাকে দোকানি বলেছেন, কেনার সময় অতিরিক্ত লবণ দিতে চাইনি।  এর পরেও জোর করে নিয়েছেন।  এখন কেন ফেরত দিতে আসছেন।  পীরেরবাগ বাজারে দোকানিরা প্রতিকেজিতে ২ টাকা কমে লবণ বিক্রি করেছেন।  এই বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, যারা গুজবে লবণ কেনেননি, তারা এখন লবণ কিনছেন।  নিয়মিত এই ক্রেতাদের সন্তুষ্টির জন্য দু-চার টাকা কমে লবণ বিক্রি করেছেন। 

ছয় মাসের লবণ মজুদ :গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠান শেষে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সাংবাদিকদের জানান, দেশে বর্তমানে ছয় মাসের লবণ মজুদ রয়েছে।  গত মৌসুমে ১৬ লাখ ৫৭ হাজার টন চাহিদার বিপরীতে ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে।  গতকাল বুধবার পর্যন্ত লবণ মিল ও চাষি পর্যায়ে ছয় লাখ ১১ হাজার টন লবণ মজুদ রয়েছে। 

তিনি বলেন, দেশে মোট লবণ মিলের সংখ্যা ২৭০।  এর মধ্যে বর্তমানে ২২২টি মিল চালু রয়েছে।  চালু মিলগুলোর দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার ৫২০ টন।  অন্যদিকে, ভোজ্য লবণের দৈনিক চাহিদা দুই হাজার ৪৫৪ টন।  ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কম থাকায় মিলগুলো উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক তিন হাজার টন লবণ উৎপাদন করছে।  তিনি বলেন, গত বুধবার মিলগুলো থেকে বাজারে তিন হাজার ২০০ টন লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।  নতুন মৌসুমে উৎপাদিত লবণও ইতোমধ্যে বাজারে আসতে শুরু করেছে।  পর্যাপ্ত মজুদের ফলে শুধু ছয় মাস নয়, আগামী এক বছরেও লবণের কোনো ঘাটতি হবে না। 

আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।  পদ্মা সেতু, রামু, ভোলা ও নাসিরনগরের ঘটনা, যানবাহন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে তারা এ ধরনের মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে।  ওপেন ডাটা অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এসব জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রকে শনাক্ত করা হয়েছে।  দেশবিরোধী এসব সাইবার ক্রিমিনালদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। 

শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে লবণের সংকট নেই।  উল্টো বাড়তি মজুদ থাকার পরেও গুজব ছড়িয়ে গত মঙ্গলবার দেশজুড়ে লবণের দাম বাড়িয়েছে অসাধু চক্র।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোনে ছড়ানো গুজবে আতঙ্কিত হয়ে সারাদেশে একশ্রেণির ক্রেতা গতকাল প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ কেনা শুরু করে।  এর ফলে কোম্পানি নির্ধারিত প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরের লবণ কয়েকগুণ বেশি দরে বিক্রি করে বড় অঙ্কের মুনাফা করেছেন ব্যবসায়ীরা।  গুজবে অস্থির হয়ে যে যেভাবে পেরেছেন লবণ কিনেছেন।  ফলে একপর্যায়ে অনেক দোকান লবণশূন্য হয়ে পড়ে।  তবে গতকাল পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়।