২:১৫ পিএম, ১৫ আগস্ট ২০২০, শনিবার | | ২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

১০ বছরে উচ্চতর গ্রেড দাবি এমপিওভুক্তির পর

২৫ জুলাই ২০২০, ০৭:০৮


শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির ১০ বছরের মধ্যেই উচ্চতর গ্রেড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেবৃবৃন্দ।  এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, গত ১২ জুলাই উচ্চতর গ্রেড বিষয়ে যে আদেশ জারি করা হয়েছে তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।  একই সাথে এমপিওভুক্তি থেকে ১০ বছর হিসেবে উচ্চতর গ্রেড প্রদান করার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করতেও জোর দাবি জানান তারা। 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের মুখপাত্র মো: নজরুল ইসলাম রনি এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো: মেজবাহুল ইসলাম প্রিন্স যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অবিলম্বে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড প্রদানের জন্য গত ১২ জুলাই তারিখের আদেশ প্রত্যাহার করে এমপিওভুক্তি থেকে ১০ বছর হিসেবে উচ্চতর গ্রেড প্রদান করার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। 

নেতৃবৃন্দ বলেন, বিএড হলো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এবং শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার মানকে উন্নত করতে আলাদা একটা ডিগ্রি অর্জন করেন।  অনেকেই বিএডসহ এমপিওভুক্ত হোন, অনেকেই আবার পরে বিএড ডিগ্রি নেন।  ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালায়ও বলা আছে চাকরিতে যোগ দানের পাঁচ বছরের মধ্যে বিএড অর্জন করতে হবে।  কাজেই বিএড থেকে ১০ বছর হিসেবে উচ্চতর গ্রেড প্রদানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত যুক্তিযুক্ত নয় বরং এটি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পরিপন্থী।  উল্লেখ্য, উচ্চতর গ্রেড কখন থেকে দেয়া হবে তার পক্ষে-বিপক্ষে মতামতের জন্য বিগত ২২ জুন তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অণুবিভাগে চিঠি দেয়া হলে গত ১২ জুলাই বিএড স্কেল থেকে হিসাব করে ১০ বছর পরে একটি উচ্চতর গ্রেড প্রদান করার আদেশ দেন এবং আদেশে বলা হয় শিক্ষকরা কেউ দুইটির বেশি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। 
শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম রনি বলেন, শিক্ষকদের সারা জীবনের একটি মাত্র টাইমস্কেল ২০১৫ সালের পর থেকে বন্ধ।  অষ্টম জাতীয় পেস্কেল বাস্তবায়নের পর শিক্ষকদের দু’টি উচ্চতর হ

গ্রেড প্রদানের কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।  বিএড স্কেলকে উচ্চতর গ্রেড ধরে ১০ বছর হিসেবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রদান করলে অনেক শিক্ষক অর্থনেতিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তেমনি শিক্ষকতা থেকে অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিবে। 

তিনি বলেন, ১২ জুলাইয়ের আদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন এই শিক্ষক নেতা।  বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বাশিস) পক্ষ থেকে শিক্ষকদের ২৫ শতাংশ ঈদ বোনাসের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা প্রদানসহ মুজিববর্ষেই সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসাথে জাতীয়করণ ঘোষণায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান শিক্ষক নেতৃবৃন্দ। 

সমিতির পক্ষ থেকে করা আবেদনে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের দুইটি উচ্চতর গ্রেড প্রদানসহ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের অবিলম্বে এমপিওভুক্ত, কলেজশিক্ষকদের অনুপাত প্রথা বাতিল এবং পদোন্নতি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ঐচ্ছিক বদলি প্রথা চালু, দারুল আহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ধানমন্ডি শাখার বিএড সার্টিফিকেটধারীদের এমপিওভুক্তকরণ, প্রধান শিক্ষকদের বেতন কোড সংশোধন করে ৭ এর পরিবর্তে ৬ কোডে বেতন প্রদান, অবিলম্বে এমপিও নীতি মালা ২০১৮ সংশোধনসহ শিক্ষক হয়রানি বন্ধ করতে জোর দাবি জানান শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।