৪:০৫ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

কেশবপুরের ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রী লাভলুর উদ্ভাবিত সার্চ লাইট

২৩ জুন ২০১৭, ০৪:৫৪


 কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুর উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রী জাহাঙ্গীর আলম লাভলু নিজের উদ্ভাবিত সূর্য্য চালিত সার্চ লাইটে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় দিন রাত শ্রম দিয়ে চলেছেন।  যেখানে বিভিন্ন নামী দামী কোম্পানীর একটি সার্চ লাইট কিনতে ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হয, সেখানে তাঁর উদ্ভাবিত সার্চ লাইটের দাম মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা।  তাঁর সার্চ লাইটটি বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ঘের, এনজিও, ভাটাসহ বিদ্যুৎ বিহীন ছোট বড় বাজার, মোড়ে ব্যবহার করা যাবে।  কিন্তু লাখ লাখ টাকা না থাকায় তার এ অদম্য ইচ্ছা ¤¬ান হতে চলেছে।  প্রাথমিকভাবে বেসরকারি সংগঠন আশা তাঁর এ কাজে উৎসাহ যোগাতে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। 

উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের বুড়িহাটি গ্রামের মৃত শাহাদাত সরদারের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম লাভলু এইচএসসি পাশ করার পর অর্থাভাবে আর লেখাপড়া করতে পারেননি।  সামান্য পড়াশুনায় ভালো চাকরী না পাওয়ায় অবশেষে সংসার চালাতে এক যুগ আগে গ্রামের বুড়িহাটি মোড়ে একটি দোকানঘর ভাড়া নিয়ে ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রীর কাজ করতে থাকেন।  কিন্তু এতে তাঁর সংসারে সচ্ছলতা আর আসে না।  এর পাশাপাশি তিনি অন্য কিছু করতে চাইলেও অর্থাভাবে তা পারেন না।  এ সময় তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় বেসরকারি সংগঠন আশা। 


আশার ঋণ নিয়ে তিনি ইলেকট্রিশিয়ান মিস্ত্রীর কাজ করার পাশাপাশি স্যালো মেশিনের মিস্ত্রীর কাজও করতে থাকেন।  কিন্তু তাঁর অদম্য ইচ্ছা নিজের উদ্ভাবিত অন্য কিছু করে স্বাবলম্বী হওয়া।  এ সময় তিনি ফেসবুকে সার্চ লাইটের ছবি দেখে উদ্বুদ্ধ হন।  তিনি সিদ্ধানন্ত নেন নিজের দক্ষতায় সূর্য্য চালিত সার্চ লাইট নির্মাণ করে বাজারজাত করার।  কিন্তু ইচ্ছা থাকলেও অর্থাভাবে তিনি ব্যর্থ হন।  বিষয়টি তিনি আশার সাগরদাঁড়ি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নজরুল ইসলামকে জানান।  এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে আশা এনজিও তাকে তৃতীয় বারের মত ৬০ হাজার টাকা ঋণ দেয়।  গত ১ মার্চ থেকে তিনি সূর্য্য চালিত সার্চ লাইট নির্মাণ কাজ শুরু করেন। 


গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় লাভলুর সাথে।  তিনি জানান, একটি সূর্য চালিত সার্চ লাইট নির্মাণ করতে হলে ১৬ ফুট উচ্চতার পিলার, চার্জার ব্যাটারী, প্যানেল ও ৩০ এম্পিয়ার বাল্বের প্রয়োজন হয়।  তিনি নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় পিলার তৈরীর জন্য ১৬ ফুট লম্বা স্টিলের পাইপ কিনে তার মাঝামাঝি চিরে নাট সিষ্টেম করে ডাইস তৈরী করেছেন।  এই ডাইসের ভেতর ৮ মিলি ৩ টি রড, বালু, সিমেন্ট ও পাথর দিয়ে জমাটবদ্ধ করে তিনি মজবুত পিলার তৈরী করেন।  এ ছাড়া তিনি ঢাকা থেকে মানসম্পন্ন কোম্পানীর চার্জার ব্যাটারী, প্যানেল ও ৩০ এম্পিয়ার বাল্ব কিনে এনে কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাড়িতে বসে সার্চ লাইট নির্মাণ করেন। 


সব মিলিয়ে তাঁর একটি সার্চ লাইট তৈরী করতে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়।  তাঁর উদ্ভাবিত প্রতিটি সার্চ লাইট ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করবেন বলে তিনি জানান।  কিন্তু তাঁর এ ব্যবসায় সফলতা আনতে হলে লাখ লাখ টাকার প্রয়োজন।  অর্থাভাবে বর্তমান তিনি কাজ করতে পারছেন না।  তিনি দাবি করে বলেন, সরকারি বা বেসরকারিভাবে যদি তার সার্চ লাইট ক্রয় করা হয় তাহলে তিনি একাজ করেই স্বালম্বী হবেন।  বর্তমান তাঁর সার্চ লাইটের আলোই বুড়িহাটি বাজার আলোকিত হয়েছে।  ভবিষ্যতে তিনি স্বল্প খরচে কিভাবে সৌর বিদ্যুতের সাহায্যে নলকুপ থেকে পানি ওঠানো যায় তার জন্যে কাজ করবেন বলে তিনি জানান। 


তাঁর স্ত্রী ঝরণা বেগম বলেন, পৈত্রিক সূত্রে বাস্তভিটা ছাড়া তাঁর স্বামীর আর কোনো জমি নেই।  দাম্পত্য জীবনে মরিয়ম খাতুন (৭) ও আছিয়া খাতুন (৩) নামের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।  স্বামীর যৎসামান্য আয়ে তাদের সংসার ঠিকমত চলে না।  তারপরও তিনি স্বামীর এ কাজে সহযোগিতা করে আসছেন। 


এ ব্যাপারে আশার কেশবপুর অঞ্চলের রিজিওনাল ম্যানেজার নাজমূল আলম বলেন, তাঁর সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ছোট ছোট উদ্যোক্তা সৃষ্টিসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে যে কোনো কর্মসংস্থানমূলক কর্মকান্ডে ঋণ দিয়ে থাকে।  জাহাঙ্গীর আলম লাভলু তাঁর সংস্থার একজন পুরনো সদস্য।  সুযোগ পেলে আমি নিজেই তাঁর কাজ দেখে আরও সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।