৪:৩৬ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

শার্শার ছেলে 'উদ্ভাবক' মিজান প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুদান পেল

১৪ জুলাই ২০১৭, ০৬:০২


বিশেষ প্রতিনিধি : অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র উদ্ভাবনকারী যশোরের শার্শার সেই মোটরসাইকেল ম্যাকানিক "মিজান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের উদ্ভাবনী প্রকল্পে সার্ভিস ইনোভেশন কর্তৃক চার লাখ দশ হাজার টাকার অনুদান পাচ্ছেন, যা দিয়ে ‘অ্যাম্বুলেন্স ভিকেইল উইথ লোকাল টেকনোলজি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে হবে।  অর্থ ছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে ২১ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী হল রুমে এটুআই এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে একটি পত্রের মাধ্যমে ওই দফতরের যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (ইনোভেশন) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন।  “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রাম কর্তৃক উদ্ভাবনী প্রকল্পে অনুদান সহায়তার জন্য পরিচালিত সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের ৯ম পর্বে তার প্রকল্পটি ১৮মার্চ কারিগরি বিশেষজ্ঞ প্যানেল অনুমোদন দেন। ” উদ্ভাবক "মিজান" বলেন, প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম কিস্তির ২লাখ ৪৬ হাজার টাকার একটি চেক আমি পেয়েছি।  প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। 
অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র উদ্ভাবনের পর যশোরের ওই মোটরসাইকেল ম্যাকানিক "মিজান" তৈরি করেন ‘ডিজিটাল সিজার’ (কাঁচি), যা দিয়ে রাজধানীতে বসেই মফস্বলের যে কোন প্রকল্পের ফিতা কেটে উদ্বোধন করা যাবে।  স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে চার চাকার জীপ গাড়ি তৈরি করে সকলকে তিনি অবাক করে দেন।  এরপর তিনি ‘পরিবেশ সেপটি যন্ত্র’ ও ‘ধুয়া রিসাইক্লিনিং যন্ত্র’ উদ্ভাবন করেছেন।  পরিবেশ বান্ধব ধুয়া রিসাইক্লিনিং যন্ত্র ব্যবহার করে ধুয়াকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।  সে ব্যাপারে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। 
মিজানুর রহমান বলেন, চলতি বছরের ৪ থেকে ৮ জুন ঢাকাস্থ শের ই বাংলা নগরে পরিবেশ অধিদপ্তরের মেলায় অংশ নিয়ে প্রশংসাপত্র ও খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তর এ বছর ‘পরিবেশ বিষয়ক গবেষনা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের’ জন্য ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমাকে শুভেচ্ছা স্মারক দিয়েছেন।  পরিবেশ রক্ষা নিয়ে এখন কাজ করছি।  মিজান বলেন, স্থানীয় ও দেশিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে চার চাকার জীপ গাড়িটি তৈরির পর সেটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরে রেখে দিয়েছি। ওই গাড়ি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা।  সরকার অনুদান দিয়েছেন ‘অ্যাম্বুলেন্স ভিকেইল উইথ লোকাল টেকনোলজি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে।  সরকার স্বাস্থ্য সেবাকে পল্লীর সাধারন মানুষের দোরগোড়াই পৌছে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।  এই প্রকল্পটি তারই একটি অংশ।  দেশিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম মূল্যে যাতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা যায় সরকারের এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে বলেন "মিজান।  দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে সাধারন মানুষের ব্যবহার করার জন্য ‘মাল্টিপারপাস মটরযান’ এর নমুনা তৈরির জন্য আমাকে বলা হয়েছে।  এ ব্যাপারেও আমি কাজ করছি বলেন-"মিজান, ইতিমধ্যে উক্ত প্রকল্পের প্রজেক্টের কাজ তিনি শুরু করেছেন। 
যশোর জেলার শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মিজানুর রহমান ("মিজান) পেশায় একজন মোটরসাইকেল ম্যাকানিক।  তিনি একের পর এক ডিজিটাল যন্ত্র উদ্ভাবন করে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায় থেকে পেয়েছেন ক্রেষ্ট সন্মাননা ও সনদ সহ নগদ অর্থ।