৪:২৩ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

সরকার অনলাইনের মাধ্যমে কৃষকের নিকট থেকে ধান কিনবে

২৪ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:০৭


অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে এখন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে সরকার।  চলতি আমন মৌসুম থেকেই ‘কৃষকের অ্যাপস’ নামে একটি অ্যাপসের মাধ্যমে এই ধান কেনা হবে।  পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৬টি উপজেলায় এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।  পর্যায়ক্রমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বছর অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সরকারের ধান সংগ্রহে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেন কৃষকরা।  যাদের জন্য এই সংগ্রহ অভিযান সেই কৃষকরাই এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।  এই সমস্যা দূর করতেই অনলাইনে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সূত্র জানায়, এতদিন দালাল, ফড়িয়া ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে সরকারের গুদামে ধান দিতে সত্যিকারের কৃষকরা ছিলেন কোণঠাসা।  ফসল ফলিয়ে ক্রমাগত লোকসান দিচ্ছিলেন তারা।  অথচ গত এক দশক ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমে ধানের উত্পাদন ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছেন কৃষক।  চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএ বলেছে, বিশ্বে এ বছর ধানের উত্পাদন সবচেয়ে বেড়েছে বাংলাদেশে। 

গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে মোট চাল উত্পাদন হয় ৩ কোটি ৪৭ লাখ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টন আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উত্পাদন হয় ৩ কোটি ৬২ লাখ টন।  এ বছর চালের উত্পাদন রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। 

বিশ্ব ব্যাংক বলেছে, পরপর কয়েক বছর ধানের বাম্পার ফলনের ফলে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে।  কিন্তু কৃষকের জীবনমানের কোনো উন্নতি নেই।  তাদের ভাগ্য বদলাচ্ছে না। 

১৯৯৬ সালের কৃষি শুমারি অনুযায়ী ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক, মাঝারি ও বড়ো কৃষকের সংখ্যা যথাক্রমে ৭৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, ১৭ দশমিক ৬১ ও ২ দশমিক ৫২ শতাংশ।  ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ করে ফসল ফলান।  তারা ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তা বিক্রি করে দেন।  এ সময় যদি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া যায় তাহলে তারা একদম পথে বসে যান। 

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, সরকারের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ধান-চাল সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় তা কৃষকের কোনো কাজে আসছে না।  গত আমন মৌসুমে ৮ লাখ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করেও বাজারে ধানের দামে কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।  এরপর গত বোরো মৌসুমে সরকার ১২ লাখ টন চাল কিনলেও কৃষকের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।  এজন্যই এবার সরাসরি আমন মৌসুমে অনলাইনের মাধ্যমে ধান কেনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, সরকারি গুদামে কৃষকের ধান সরবরাহে দালাল-ফড়িয়াদের দিন শেষ।  এখন থেকে অনলাইনের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। 

গতকাল নওগাঁর সাপাহারে চাষিদের মাঝে প্রণোদনার সার ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে আবেদন করে অ্যাপসের মাধ্যমে চাষিরা ঝামেলাহীনভাবে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারবেন।  তিনি বলেন, প্রকৃত কৃষক ছাড়া কারো কাছ থেকে ধান কেনা হবে না।  ধান-চাল ক্রয়ে রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালীদের স্থান দেওয়া হবে না। 

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ধান-চাল ক্রয় মনিটরিং করতে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।  টিমগুলো সারা দেশে ধান-চাল সংগ্রহ ও বাজারদর মনিটরিং করবে।  উল্লেখ্য, চলতি আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ২৬ টাকা কেজি দরে ৬ লাখ টন ধান কিনবে সরকার।  এছাড়া ৩৬ টাকা কেজি দরে সাড়ে ৩ লাখ টন সিদ্ধ চাল ও ৩৫ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন আতপ সংগ্রহ করবে সরকার।  গত ২০ নভেম্বর থেকে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।  চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।