৫:০৮ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার | | ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

৩৩৩-এ ফোন করলে বৃদ্ধ কৃষককে পেটালেন চেয়ারম্যান!

১৫ এপ্রিল ২০২০, ০৮:০২


নাটোরের লালপুর উপজেলায় দরিদ্র প্রতিবেশীদের জন্য ত্রাণ সহায়তা চেয়ে সরকারি সহায়তার হটলাইন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের মারধরের শিকার হয়েছেন শহিদুল ইসলাম (৬০) নামে এক কৃষক।  মারধরের পর চেয়ারম্যান তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক। 

গত রোববার উপজেলার বরমহাটি ইউনিয়নের আঙ্গারিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।  ওই কৃষক আহতাবস্থায় বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

এ ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।  চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্থানীয়রা। 

ভুক্তভোগী শহিদুল জানান, আঙ্গারীপাড়া এলাকার ২০০ থেকে ২৫০ জন দরিদ্র দিনমজুর গত ২০ থেকে ২৫ দিন থেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।  তার নিজেরও আপাতত কাজ নেই।  এমন অবস্থায় প্রতিবেশীদের হয়ে সহায়তা চাইতে গত শনিবার বিকেলে তিনি ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেন।  পরদিন রোববার দুপুরে গ্রামের চৌকিদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এসেছেন আপনার সঙ্গে কথা বলবেন।  কথামতো ইউপি কার্যালয়ে যাওয়ার পর সেখানে ইউএনও-কে দেখতে পাননি তিনি। 

তার অভিযোগ, ইউপি কার্যালয়ে যাওয়ার পর কোনো কথা না শুনে চৌকিদারের হাতে থাকা লাঠি নিয়ে তাকে বেদম মারধর করেন বরমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুস সাত্তার।  এতে তার শরীরের পেছন দিকে ও পায়ে জখম হয়।  মারধরের পর বের করে দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান বলেন, ‘৩৩৩ নম্বরে কেন ফোন দিয়েছিস তার জন্যই এই শাস্তি।  একথা কাউকে বললে তোর অবস্থা আরও খারাপ করে দেবো। ’

বাড়িতে ফিরলে প্রতিবেশীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। 

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান সাত্তার জানান, বিষয়টি নিয়ে সোমবার বিকেলে ইউএনও তাকে ডেকেছিলেন।  সেখানেই মিমাংসা হয়েছে। 

তবে কোনো ধরনের সমাধান হয়নি জানিয়ে ইউএনও উম্মুল বাণীন দ্যুতি বলেন, ‘৩৩৩ নম্বর থেকে জানানোর পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছিলে।  কৃষক শহিদুলকে মারপিট করাটা ঠিক হয়নি। ’

ইউএনও আরও বলেন, ‘ঘটনার জন্য চেয়াম্যানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।  জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’