৩:৫৫ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি 'ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে বিচার চলবে '

১০ মে ২০২০, ০১:১৭


আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণের ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে চলবে আদালতের বিচার কার্যক্রম।  করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভুত পরিস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ ও নিম্ন উভয় আদালতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ শনিবার (৯ মে) জারি করা হয়েছে। 

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো.আব্দুল হামিদ আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ জারি করেন।  পরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। 

এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী অডিও-ভিডিও বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মামলার বিচার বা বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় প্রদান করবেন বিচারকরা।  পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণ বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।  অর্থাৎ মামলার পক্ষগণ বা আইনজীবীকে সশরীরে আদালত কক্ষে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নাই।  অডিও-ভিডিও বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যম আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণ আদালতের বিচার কাজে অংশ গ্রহণ করলে তা ভার্চুয়াল উপস্থিতি হিসেবে গণ্য হবে বলে ওই অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত হলে তা সশরীরে আদালতে উপস্থিতির শর্ত পূরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।  তবে আইনজীবী ও মামলার পক্ষগণের ভার্চুয়াল উপস্থিতি ছাড়া মামলার অন্যান্য কার্যক্রম ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যবিধি অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়। 

করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ থেকে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জনগণকে সুরক্ষা দিতে আদালতে বিচারকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।  কিন্তু এতে নানা সমস্যার পাশাপাশি বাড়ছে মামলা জট।  এ পরিস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সিংসহ অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বিচার কাজ পরিচালনা করা যাবে এমন সুযোগ রেখে ৬ মে ‘আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রীসভা।  পরে তা অধ্যাদেশ আকারে জারির জন্য রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়। 

হাইকোর্ট রুলস সংশোধনে কমিটি উচ্চ আদালতের বিচারকাজে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের লক্ষ্যে হাইকোর্টের রুলস সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।  পাঁচ সদস্যের ওই কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে সভাপতি করা হয়েছে।  কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি জেবিএম হাসান, বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান।