৩:২৮ এএম, ২৮ মে ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৫ শাওয়াল ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

পঙ্গু পরিবহন শ্রমিকের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার পাঠালেন উদ্ভাবক মিজান

১৯ মে ২০২০, ১০:০৮


সোহেল রানাঃ এবার কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের এক অসহায় পঙ্গু পরিবহন শ্রমিকের জন্য খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার পাঠিয়ে আরো একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের শার্শা উপজেলার কৃতি সন্তান দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান মিজান।  

পঙ্গু পরিবহন শ্রমিকের নাম নুরুল ইসলাম পারভেজ।  সে টাঙ্গাইল জেলার বিল্লাল হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় এসএ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গোডাউন ব্রীজ সংলগ্ন পুরাতন বাসষ্টান্ড টাঙ্গাইলে পারভেজের পরিবারের জন্য এ খাদ্য ও ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন। 

উদ্ভাবক মিজান বলেন,নুরুল ইসলাম পারভেজের সাথে আমার ফোনে পরিচয়।  তার সমস্যার কথা তিনি আমার সাথে শেয়ার করেন।  আমি সেই মোতাবেক তাকে যতটুকু সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেছি এবং এরপর আমি আরো সাহায্য করব তাকে এ অঙ্গীকার করেছি। 

তার জন্য আমি যে খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপহার পাঠালাম তার মধ্যে চাল ১৫কেজি,আলু৭ কেজি, ডাল ৩কেজি, তৈল ১কেজি,পেঁয়াজ২ কেজি,সেমাই,চিনি,নুডুলস, গরম মসলা বাদাম কিসমিস ইত্যাদি। ঈদে যা লাগে আমি হয়তো সবকিছু দিতে পারিনি তবে কিছুটা দেয়ার চেষ্টা করেছি এবং পরবর্তীতে তাকে আরও কিছু সহযোগিতা করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ। 

এ বিষয়ে মুঠোফোনে নুরুল ইসলাম পারভেজের সাথে কথা হলে তিনি বলেন,আমি অতি গরীব ঘরের সন্তান। আমার বাবা একজন চায়ের দোকানদার। আমার স্ত্রী,এক ছেলেকে নিয়ে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছি।   

আমি মোটরগাড়ির ড্রাইভার ছিলাম। বিগত (১০ এপ্রিল) ২০১৭ সালে কারেন্টে শর্ট লাগার কারণে দুই হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে। আজ আমি পঙ্গু। আমার মালিক তার মোটরগাড়ি দেখাশোনার কাজের জন্য আমাকে রেখেছেন।  যার জন্য প্রতিমাসে ছয় সাত হাজার টাকা দেন আর এ দিয়ে কোন রকমে সংসার টেনেটুনে চলে যাচ্ছে।  

এমতাবস্থায় যশোরের শার্শার দেশসেরা উদ্ভাবক মিজান ভাইয়ের সাথে আমার আলাপ হয় তাকে আমি সবকিছু খুলে বলতেই তিনি আমাকে সহযোগিতা করার কথা বলে আশ্বস্ত করেন।  

আমি উদ্ভাবক মিজান ভাইয়ের মাধ্যমে দেশের বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে আকুল আবেদন করছি এবং সবাই যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আমি হয়তো আমার দুটি হাতে কৃত্রিম হাত লাগাতে পারি।   

যার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। কৃত্রিম হাত দুটি হলে হয়তো আমি আবার আমার কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারবো এবং আমার পরিবারকে নিয়ে কিছুটা হলেও সুখে থাকতে পারবো।