৮:২৪ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

'শ্যালিকা হাফসানাকে ধর্ষণ, খুন! অতঃপর ভগ্নিপতী কাশেম গ্রেপ্তার'

০৯ জুলাই ২০২০, ১০:৪৪


নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিখোঁজের একদিন পর হাফসানা আক্তার (১৪) নামের এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই কিশোরীর ভগ্নিপতি আবুল কাশেমকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল বুধবার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে আবুল কাশেম এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। 

আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান। 

পুলিশ জানায়, খুন হওয়া হাফসানা আক্তার উপজেলার দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের দিনমজুর আবু ছালেকের মেয়ে।  সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত।  গত ১ জুলাই সকালে পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়।  সম্ভাব্য সবখানে খুঁজেও হাফসানাকে না পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশকে জানানো হয়।  পরদিন ২ জুলাই স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে পাহাড়ের গর্তের মুখে কাপড় গোঁজা অবস্থায় একটি মরদেহ পড়ে আছে।  খবর পেয়ে থানা পুলিশ ২ জুলাই রাত ৯টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে।  পরে ৩ জুলাই সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। 

ঘটনার পর থেকেই ওসি মো. মিজানুর রহমান, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের দিক-নির্দেশনায় পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহবুব ও থানার অন্য অফিসারদের সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে গতকাল বুধবার রাতে কিশোরীর বোন জামাই আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করে। 

১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে কাশেম জানায়, ১ জুলাই দুপুরে হাফসানা পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গেলে কাশেম দূর থেকে তা দেখতে পায়।  কাছে গিয়ে নানা অজুহাতে শ্যালিকাকে পটায়।  তাকে বিয়ে করে দূরে কোথাও চলে যাবে মর্মে তাকে ধর্ষণ করে।  দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেলে হাফসানাকে আপাতত বিয়ে করবে না বলে জানায় কাশেম।  ওই কিশোরী বিষয়টি বুঝতে পেরে ধর্ষণের বিষয়টি বাড়িতে জানিয়ে দেবে বললে উত্তেজিত হয়ে কিশোরীর গায়ের ওঁড়না পেঁচিয়ে, মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে কাশেম।  পরে ওই দিন রাতে কিশোরীর লাশ পাহাড়ের গর্তে ফেলে স্থান ত্যাগ করে সে। 

এ নিয়ে মেয়েটির বাবা থানায় একটি অভিযোগ করলে আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।  আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ মামলা রুজু করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পাঠানোনো হয়।  বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আবুল কাশেমকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।