৪:৫১ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২০, শুক্রবার | | ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

Developer | ডেস্ক

ঢাকা-সিলেট ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং

২৪ জুলাই ২০২০, ০৭:৫৭


ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে সিএনজি, সিএনজিচালিত যানবাহন ও রেন্ট-এ-কারের স্ট্যান্ড।  ফলে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।  মাঝে মাঝে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে হেঁটে চলাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে আধুরিয়া পর্যন্ত মহাসড়কের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে বিশ্বরোড, বরাব, রূপসী, বরপা, কর্ণগোপ, ভুলতা, গোলাকান্দাইল প্রায় ১৫ থেকে ২০টি সিএনজি ও অটোস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে।  এমনকি ভুলতা থেকে গোলাকান্দাইল পর্যন্ত মহাসড়কের এক অংশ দখল করে রেন্ট-এ-কারের স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়। 

ভুলতা ফ্লাইওভার চালু হওয়ার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দূরপাল্লার গাড়িগুলো ফ্লাইওভার দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে যানজট অনেকটাই কমে গেছে।  কিন্তু ভুলতা-মুড়াপাড়া সড়কের প্রবেশমুখ ও মহাসড়কের অনেকটা জায়গা দখল করে সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ড গড়ে তোলায় সারা দিনই এখানে যানজট লেগে থাকে।  মহাজমপুর বরপা সড়কের বরপা বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন সিএনজি ও অটোস্ট্যান্ড। 

মহাসড়কের একাংশ দখল করে বরপা থেকে যাত্রাবাড়ী আসা যাওয়ার গ্রিনবাংলা নামক সার্ভিসের স্ট্যান্ড।  ঢাকা-সিলেট রোডের গোলাকান্দাইল, ভুলতা ও সাওঘাট এলাকার মহাসড়কের চিত্র হলো ভিন্ন।  অনেক সময় সিএনজি অটো, ইজিবাইক ও রেন্ট-এ-কার গাড়ির কারণে মনে হয় এখানে গাড়ির হাট বসেছে।  তারা প্রায় মহাসড়কেই স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে।  সারিবদ্ধভাবে রাস্তার ওপর রাখা হচ্ছে বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইক, লেগুনা, মহাসড়কের এক পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বিআরটিসি বাস কাউন্টার।  রাস্তার দুই পাশে রাখা এসব বাসের কারণে সরু হয়ে গেছে গোলাকান্দাইল ও ভুলতা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও গাজীপুর-চট্টগ্রাম এশিয়ান হাইওয়ে সড়কজুড়ে। 

অন্যদিকে, ফ্লাইওভারের নিচের অংশগুলোতেও বাস, মিনিবাস, লেগুনাসহ সব ধরনের যানবাহনের স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে।  এ নিয়ে ট্রাফিক পুলিশ বা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির কোনো নজরদারি নেই।  এখানে গড়ে ওঠেনি কোনো বাস টার্মিনাল।  আর বাস টার্মিনাল না থাকায় মহাড়ক দখল করে রাখে এসব বাস।  মালিক-শ্রমিকরা ট্রিপ শেষে বিভিন্ন রাস্তার ওপর পার্ক করে গাড়ি রাখেন। 

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, শুধু গোলাকান্দাইল ও ভুলতা ঢাকা-সিলট মহাসড়ক ও গাজীপুর-চট্টগ্রাম এশিয়ান সড়কের যানজটের কারণেই দিনে গড়ে নষ্ট হচ্ছে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা।  তবে সংশ্লিষ্টদের হিসাবে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা আরো বেশি।  যানজটের কারণে বাস চলাচলের গতিও কমেছে।  বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ট্রাক স্ট্যান্ড।  এই ট্রাক স্ট্যান্ডের কারণে অনেক সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।  বরাব বাস স্ট্যান্ডের দুই পাশেই মহাসড়কের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে অটোস্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। 

রূপসী, কর্ণগোপ, আধুরিয়া প্রতিটি শাখা রাস্তায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশ মুখ বন্ধ করে মিলিতভাবে একটি চক্র এ অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে তোলে।  জেলা পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মাহাবুব শাহ বলেন, কারোনার মধ্যেও যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সব সময় আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে থাকে।  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রবেশ মুখ বন্ধ করতে না পারে সেজন্য স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।