২:৫৩ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৪ সফর ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

শার্শায় 'পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদাসিনতা গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা'

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:০৩


খোরশেদ আলম : যশোরের শার্শায় গ্রামীণ সড়ক গুলি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।  বেড়েছে জন দূর্ভোগ!

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদসিনতার কারণে বরাদ্ধ স্বল্পতা ও রক্ষনা বেক্ষণের অভাবে প্রতি নিয়ত সড়কে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।  উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর থেকে এ সকল সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণা বেক্ষণ করার কথা অথচ বরাদ্ধ স্বল্পতার কারণে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে।  প্রতি বছর এ উপজেলা থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হয়।  অথচ শার্শা উপজেলায় উন্নয়ন হয় খুবই নগন্য। 

উপজেলার ১১৮৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে এ বছরই ১৮০ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জরুরী প্রয়োজন।  কিন্তু এ বছর তদস্থালে মাত্র ১৭ কিলোমিটার সড়কের মেরামতের বরাদ্ধ পাওয়া গেছে।  উক্ত উপজেলায় ( শার্শা ) ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে শার্শা সদর ইউনিয়নে ১০১.৭৬, ডিহি ইউনিয়নে ৭৩.৯৩, বাহাদুরপুর ইউনিয়নে ৯৮.১৭, বেনাপোল ইউনিয়নে ৮৫.৪১, বাগআঁচড়া ইউনিয়নে ৬৬.৫, গোগা ইউনিয়নে ৭৭.৯০, কায়বা ইউনিয়নে ৬৬.৭৮, লক্ষণপুর ইউনিয়নে ৬০.৭৫, নিজামপুর ইউনিয়নে ৯৩.৫৩ ও পুটখালী ইউনিয়নে ৭৫.৬৯ কিলোমিটার কাঁচা পাকা সড়ক রয়েছে।  প্রতিটি গ্রামীন সড়কে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে কোন দিক নির্দ্দেশনা মূলক সাইন বোর্ড না থাকায় সড়কের ধারণ ক্ষমতার চাইতে ১০ গুণ ভারী পণ্য পরিবহন করছে যানবাহন গাড়িগুলো।  দেখভাল করার কেউ না থাকায় সরকারে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা সড়ক উন্নয়নে ব্যয় বরাদ্ধ বিফলে যাচ্ছে। 

উপজেলা সংযুক্ত সড়ক শার্শা হতে কাশিপুর সড়ক দিয়ে প্রতিদিন গভির রাতে কখনো দিনের বেলা ৫০-৬০ টন মালামাল পণ্য নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।  অথচ ঐ সড়কের ধারণ ক্ষমতা ৬-৭ টন।  তা ছাড়া প্রতিটি সড়কের একই অবস্থা।  এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকার তত্তাবধায়ক, প্রকৌশলী (প্রশাসন) গত ১৪/১২/২০১৭ তারিখে দেশের প্রতিটি উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তাকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি পত্র প্রেরণ করেন যাহার নথি নং- ৪৬.০২.০০০০.৬০২.৩০.০০৩(অংশ-৩).১৬-৯৯৬ তারিখÑ ১৪.১২.২০১৭। 

ঐ পত্রে বলেন দশম জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১২.০৯.২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত ১৮ তম বৈঠকে গৃহিত সিদ্ধান্ত হয় যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন সকল প্রকার গ্রামীণ সড়ক উবংরমহ ঝঃধহফধৎফ অনুযায়ী ১০ টনের অধিক পণ্য বোঝাই যানবাহন চলাচল করতে না পারে।  সে ব্যপারে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং বিআরটিএর কর্মকর্তা গণের সাথে আলোচনা পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দ্দেশ দিলেও আজও সে নির্দেশ আলোর মূল দেখেনি।  এছাড়া রাজনৈতিক দূরবৃত্তায়ণের ফলে গ্রামীণ পাকা সড়ক ও কাচা সড়ক পুকুর পাড়ে ভেড়ীও তৈরী হচ্ছে।  যা আইনের পরিপন্থি।  আইন থাকলেও বাস্তবায়ন নেই।  সড়কের ঢালে ঘরবাড়ী দোকান, পাট, তৈরী করায় প্রতিনিয়ত সড়ক ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে। 

প্রতি বছর গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন রাস্তার রোড আইডি নম্বর সহ বরাদ্ধ চেয়ে প্রধান প্রকৌশল দপ্তরে প্রেরন করা হচ্ছে।  অথচ এক শ্রেণীর স্বার্থন্বেশি মহল বহু গ্রামীণ সড়ক যাতে রোড আইডি নম্বর না হয় সে তৎপরবতাও চালাতে থাকে।  ফলে ঐ সকল সড়ক গুলি রোড আইডি নম্বর যুক্ত হয় না।  শার্শা উপজেলায় অবস্থিত বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর ও বেনাপোল কাষ্টমস হাউজ, রাজস্ব আয়ের দিক থেকে দেশের ১ম স্থানে অবস্থান করছে।  অথচ শার্শা উপজেলা গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের বেহাল দশা দেখলে হতবাক হওয়ার মতই। 

শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী এম.এম মামুন হাসান এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের বলেন, শার্শা উপজেলায় ৫২৭টি সড়ক আছে।  যাহার দৈর্ঘ ১১৮৩ কিলোমিটার।  এর মধ্যে কাঁচা সড়ক ৮০৮ কিলোমিটার এবং পাকা সড়ক ২৯১ কিলোমিটার এবং এইচবিবি সড়ক ৮৪ কিলোমিটার।  গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১৭.২৭৮ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ৬ কোটি ৫৯ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা বরাদ্ধ পাওয়া গেছে এবং সড়ক উন্নয়ন খাতে ৩০.৬৮৬ কিলোমিটার উন্নয়নের জন্য বরাদ্ধ পাওয়া গেছে  ৬ কোটি ২৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। 

এ ব্যাপারে জেলা প্রকৌশলী মির্জা ইখতেখার আলী তিনিও এক প্রশ্নের জবাবে বলেন প্রতিটি সড়কের শুরুতেই যাতে দিক নির্দেশনা মূলক  সাইন বোর্ড স্থাপন করা হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  শার্শা উপজেলা আওয়ামীলিগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু এক স্বাক্ষাতকারে বলেন বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের দিক থেকে এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত, স্থল বন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানী রপ্তানীপণ্য থেকে প্রতিবছর রাজস্ব আয় হয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।  সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে শার্শা উপজেলায় উন্নয়নের জন্য চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনী অর্থ বরাদ্ধ দেওয়া হয় না। 

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অদুরদর্শিতা ও এক চোখা নিতীর ফলে শার্শা উপজেলায় যে ভাবে উন্নয়ন হওয়ার কথা তা হচ্ছে না।  তা ছাড়া শার্শা উপজেলায় যে পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তা খুবই সামান্য।  এভাবে উন্নয়ন হলে এসডিজি অর্জনে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।  এছাড়া উপজেলায় প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাঙের ছাতার মত বিধি বহির্ভূত ভাবে ইট ভাটা নির্মিত হওয়ায় গ্রামীণ জনপদের জন্য নির্মিত গ্রামীণ সড়ক গুলি নির্মাণের ২ বছরের মধ্যে বিনষ্ট হচ্ছে।  অবৈধ ভাটা বন্ধ না করা হলে কখনই গ্রামীণ সড়ক টেকসই বা উন্নয়নের শিখরে পৌছান যাবে না। 

এদিকে এলাকাবাসী ও অভিযোগে জানান, এই উপজেলার শার্শা- কাশিপুুর সড়কের।  কাশিপুর বাজার এলাকায় রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ ন্যান্স নায়েক নুর মোহাম্মদ শেখ এরঁ সমাধীস্থল অথচ অতিরিক্ত লোডের যানবাহন চলাচলের কারনে কিছুদিন যেতে না যেতেই এই সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।  (আসছে ধারাবাহিক ফলোআপ নিউজ...অপেক্ষায় থাকুন)...............