১০:২৮ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২০, শুক্রবার | | ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

'রিফাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর মিন্নি গ্রেপ্তার'

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৫:০৬


বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  এই হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশের পরপরই মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান বাবু এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বাবু বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।  আদালত কর্তৃক রায় ঘোষণার পরপরই মিন্নিকে নিজ হেফাজতে নেয় পুলিশ।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে কারাগারে পাঠানো হবে। 

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। 

মিন্নিসহ ফাঁসির আদেশ পাওয়া অন্য পাঁচ আসামি হলেন- রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান। 

এ মামলায় ৪ আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।  খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- মুসা, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর ও কামরুল ইসলাম ওরফে সাইমুন। 

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।  এ হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।  তাতে দেখা যায়, ধারালো দা দিয়ে রিফাতকে একের পর এক কোপ দিতে থাকেন দুই যুবক।  ওই সময় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ওই দুই যুবককে প্রতিহত করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিফাতকে বাঁচানো যায়নি।  গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান রিফাত। 

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।  মামলায় মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়।  এর পর আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হলে মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে গত বছরের ১৬ জুলাই রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  পরদিন তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।  দুদিন পর মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।  তখন ১৬৪ ধারায় মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়।  পরদিন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।  এ হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। 

অবশ্য মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন শুরু থেকেই অভিযোগ করেন, নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ।  এর নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের মদদ রয়েছে। 

গত ৩০ জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মিন্নির জামিন নামঞ্জুর করেন।  তার আগে ২১ জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালত মিন্নির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।  গত বছরের ২৯ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে মিন্নির জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট।  সেই থেকে জামিনে আছেন রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া মিন্নি।