৫:১৭ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

রবীন্দ্রযুগের পরে উন্মোচিত হলো বাংলা সাহিত্যের জাগ্রতযুগ!

১৩ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫১


ফরীদ আহমাদঃ তুমিই রাজা কেউ পারেনি যা/ তুমি করে দেখাবে/ তুমি আজব এক এমন মানব/ ইতিহাস লেখাবে/ পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ জন্মেছেন, যাঁরা সমগ্র জীবনধরে চেয়েছেন তাঁদের সুকর্মদ্বারা ইতিহাস রচনা করতে, মানুষের অন্তরে যুগ-যুগ বেঁচে থাকতে! স্বীয় মেধা নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দৌড়েছেন আমরণ! কেউ সফল হয়েছেন কেউবা বিফল! জানি এখানে বিফল কথাটি একদম-ই যোক্তিক নয় কারণ; যারা বিফল হয়েছেন তাঁরা উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন অসফল হবার অনেক নব্য কারণ! যাঁদেরকে আজো আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে থাকি।  ভালোবাসি প্রাণভরে।  ইতিহাসে যাঁদের নাম স্বর্নাক্ষরে লেখা হয়, যদিও তাঁরা মানুষ! কিন্তু তাঁরা পৃথিবীর সকল মানুষ হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন! আর সেটা নির্ভর করে তাঁদের উদ্ভাবিত, আবিষ্কৃত কর্মের উপর।  যাঁদের কীর্তি সার্বজনীন, তাঁদের কীর্তি হয় অমর! বলা হয় অমর কীর্তি!


একবিংশ শতাব্দিতে এসে আমরা তেমন-ই একটি সার্বজনীন অমর কীর্তির সাক্ষ্যি হলাম।  সাক্ষ্যি হলাম দারুণ এক রোমাঞ্চকর মুহুর্তের..সাক্ষ্যি হলাম অমর এক ইতিহাসের।  যা ইতোপূর্বে ছিলো অকল্পনীয়! এখন আর অবিশ্বাস্য নয়! এটাই সত্যি.. স্পষ্ট দিবালোকের ন্যায়! অনুসন্ধানমতে, সম্প্রতি এই প্রথম কোনো ব্যাক্তি, পৃথিবীর বুকে মহাবিশ্বের মহাবিষ্ময় পবিত্র আল কুরআনুল কারীম এর পুরো ৩০ পারার বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও মানোত্তীর্ণ কাব্যানুবাদ সম্পন্ন করে গোটা বাংলাদেশ তথা সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন! যে ইতিহাসের মহানায়ক একজন বাংলাদেশী কবি।  নিঃসন্দেহে এটা বাঙালী এবং বাংলাদেশের জন্য গর্বের। 

যাঁকে নিয়ে বিষ্ময়ের কোনো অন্ত নেই। 
যিনি কাউকে কখনও নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবেন না।  প্রতিনিয়ত রত থাকেন নিজের মত নিজের সাধনায়।  আর ছাড়িয়ে যান নিজেকেই বারবার।  তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন আলেম, দার্শনিক, রাষ্ট্রচিন্তক, জাগ্রতযুগের প্রবর্তক, জাগ্রতকবি আল্লামা মুহিব খান হাফিজাহুল্লাহ।  বাংলাভাষায় সমগ্র আল কুরআনের বিশুদ্ধ কাব্যানুবাদ বর্তমানে ইলেকট্রিক ও প্রিণ্ট মিডিয়ায় সতেজ সংবাদ।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার,ইউটিউবসহ সকল সাইটে ভাসছে এই আলোকনিজ! এই আনন্দে মুখরিত গোটা মুসলিম বিশ্ব! এর আগে বিদ্রোহী কবি খ্যাত আমাদের জাতীয়কবি, শ্রদ্ধেয় কাজী নজরুল ইসলাম কাব্যে আমপারা অর্থাৎ ৩০ নম্বর পারার প্রথম কাব্যানুবাদ রচনা করেন।  আমরা জানি! পৃথিবীতে পবিত্র আল কুরআনুল কারীমের বহু তাফসির গ্রন্থ আছে.. আছে কোনো সুরা, কোনো পারা অথবা কোনো আয়াতের খণ্ডিত কাব্যিক অনুবাদ।  অথবা পুরো কুরআনের অনির্ভরযোগ্য বা মান-অনুত্তীর্ণ কিছু কাজ।  কিন্তু এটাই প্রথম যে, কেউ পুরো কুরআনের বিশুদ্ধ, নির্ভরযোগ্য ও মানোত্তীর্ণ কাব্যানুবাদ রচনা করলেন। 

উল্লেখ্য ২০০৬ সালে কবি কুরআনের প্রথম ১০ পারার বিশুদ্ধ ও মূলানুগ কাব্যানুবাদ গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ করেন।  ৩০ পারার পূর্ণাঙ্গ বিশুদ্ধ ও বাংলা কাব্যানুবাদের তথ্য ; কবি তাঁর ভিরিফাইড ফেজবুকে পেইজে সেপ্টেম্বরের ২৮ তারিখ একটি পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করেন।  পোস্ট করার পরপর-ই সংবাদটি দ্রুতগতিতে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।  পরবর্তী দিন অর্থ্যাৎ ২৯ সেপ্টেম্বরে কবি তাঁর নিজস্ব পেইজে কাব্যানুবাদ সম্পর্কে নানা তথ্যের মিশ্রণ ঘটিয়ে আরো একটি পোস্ট করেন।  কবির দেয়া সেই পোস্ট হবহু তুলে ধরছিঃ 'পবিত্র কুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ও বিশুদ্ধ কাব্যানুবাদের কাজটি শুরু হয় ১৯ মার্চ ২০০৪, জুমাবার, বাদ মাগরিব থেকে।  বিক্ষিপ্তভাবে ১০০ দিনের মত কাজ করে এর প্রথম ১০ পারা সমাপ্ত হয় এবং ২০০৬ সালের জুলাই মাসে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।  সেইসাথে দৈনিক ইনকিলাবেও ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।  ২০০৬ এর পর থেকে ২০২০ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১৪ বছরে হাজার ব্যস্ততার ভীড়ে অত্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে আর মাত্র পৌনে তিন পারার কাজ অগ্রসর হয় ।  সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল ২০২০, বাদ মাগরিব থেকে পূর্ণগতিতে কাজ শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার, শেষরাত পর্যন্ত মোট ৫ মাস ১২ দিন সময়কাল এর কাজ চলে।  এ সময়কালের ভেতর দুই ঈদসহ অনিবার্য প্রয়োজনে আরও দেড় মাসের কিছু বেশি দিনের বিরতি বাদ দিয়ে বাকি ৪ মাসেরও কিছু কম সময়ের নিবিড় সাধনায় অবশিষ্ট সোয়া ১৭ পারার কাজ দ্রুত সুসম্পন্ন হয়। 

বৈশিষ্ট :
১ : এটি কুরআনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ধারাবাহিক কাব্যানুবাদ।  আংশিক নয়।  ২ : এটি কুরআনের তুলনামূলক বিশুদ্ধ, বিপুল গবেষণালব্ধ ও নির্ভরযোগ্য কাব্যানুবাদ।  আবেগ বা অনুমানভিত্তিক নয়।  ৩ : এটি কুরআনের মূলানুগ কাব্যানুবাদ।  সারসংক্ষেপ বা ভাবার্থ নয়।  ৪ : এটি কুরআনের প্রতিটি আয়াত থেকে আয়াতের ধারাবাহিক স্বতন্ত্র অনুবাদ।  মিশ্রিত নয়।  ৫ : এটিতে কুরআনের বিশেষ বিশেষ ছন্দসমৃদ্ধ সূরা ও আয়াতসমূহের অনুবাদ সে রকম বিশেষ ছন্দ ও অন্তমিলেই করা হয়েছে।  যথা : সূরা আর রাহমান, সূরা তাকভীর ও অন্যান্য।  ৬ : এটি যথার্থ কাব্যমান এবং উচ্চতর ভাষা ও সাহিত্যমান-সম্পন্ন কাব্যানুবাদ।  ছন্দ-গোজামিল বা অনুত্তীর্ণ সাহিত্যমানপূর্ণ নয়। 
৬ : এটি দ্রুততম সময়ে সুসম্পন্ন কাব্যানুবাদ।  প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা লিখে এর প্রথম দশপারা মোট ১০০ দিনে, পরবর্তী পৌনে ৩ পারা মোট ৩০ দিনে এবং শেষ সোয়া সতের পারা মোট ১১০ দিনে সম্পন্ন হয়েছে।  অর্থাৎ সর্বমোট ২৪০ দিন বা ৮ মাসের নিবিড় শ্রম-সাধনায় পুরো কাজটি সুসম্পন্ন করা হয়েছে।  প্রতি পারায় একেবারে শুরুর দিকে ৫ থেকে ১০ দিন এবং পরে মাত্র ৩ থেকে ৬ দিন করে সময় লেগেছে।  যা আল্লাহর সিদ্ধান্ত ও সাহায্য ছাড়া কিছুতেই সম্ভব ছিল না। 

উল্লেখ্য যে, পবিত্র কুরআনের যে কোন অনুবাদ বা কব্যানুবাদ নিঃসন্দেহে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর কাজ।  এ কাজ প্রকৃত অর্থে নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণীয় হতে হলে উপরোল্লেখিত শর্ত, বৈশিষ্ট ও মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া অত্যাবশ্যক।  সে সব বিচারে এটি দেশ ও বিশ্বে পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম মানোত্তীর্ণ কাব্যানুবাদ।  মনে রাখতে হবে, এর প্রথম পর্ব প্রকাশ হয়ে পাঠকের হাতে পৌছে যায় ২০০৬ সালেই।  এ যাবত আর কোন দেশে বা আর কোন ভাষায় যথাযথ মানদণ্ডে তা হয়েছে বলে জানা যায় না। ' সবশেষে তিনি লিখেছেন, 'মহান রাব্বুল আলামীন দয়া করে এই কাজটুকুকে পৃথিবীর সমস্ত কুরআনপ্রেমী মানুষের দুনিয়াবী কল্যাণ ও আখেরাতের নাজাতের ওয়াসীলাহ হিসেবে কবুল করে নিন। '

উক্ত পোস্ট করার পরপরই কবির ভক্ত-শিষ্য, দর্শকশ্রোতা সবাই কবির প্রশাংসায় পঞ্চমুখ।  নতুনরুপে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন কবি।  মুহিব খান মানেই যেন চমক! পাঠক এবং দর্শকশ্রোতা উভয় মহলে যাঁর রয়েছে কোটি-কোটি ভক্তানুরাগী।  সারাদেশজুড়ে রয়েছে হাতেগড়া বহু ছাত্র।  দেশ এবং দেশের বাইরে রয়েছে অগনিত রুহানী ছাত্র।  তাঁর প্রতিষ্ঠিত এবং তার-ই পরিচালনায় পরিচালিত হয় 'ইসলামিক কার্লচারাল ইন্সটিটিউট'।  ২০১৬ সালের ১৬'ই ডিসেম্বর গণমানুষের অধিকার আদায়ে ; ন্যায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৬ দফা দাবী নিয়ে যাত্রা শুরু করে তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল 'ন্যাশনাল মুভমেন্ট'।  'দ্য গার্ড অব ট্রুথ' শ্লোগানকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে উন্মূক্ত করেন 'হলি মিডিয়া' নামে একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল।  কবির আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার কারণে, মাত্র ১৮'টি কন্টেন্ট দিয়ে রাতারাতি লাভ করেন সিলভার বাটন।  মুহিব খান একাধারে কবি, লেখক, গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, চিত্রশিল্পী, উপস্থাপক, কলামিস্ট, জার্নালিস্ট ও উদারপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষক।  পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন, বাংলা, আরবী, ইংরেজি, উর্দূসহ বিভিন্ন ভাষায়।  বহু গুণে গুনান্বিত একজন মানুষ! এ যেন একের ভেতর সব! কবি তার কবিতা, গান, সংগীতে দেশ প্রেম, মানবতাবাদ, বিশ্ব শান্তি-সম্প্রীতি, জাতীয় সংহতি, ধর্মীয় ও আধ্যাতিক চেতনায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত।  কবির দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাড়া জাগানিয়া সঙ্গীতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 'ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি', 'আবার যুদ্ধ হবে', 'হে যুবক', 'বাঙ্গালী মুসলমান', 'এটা বাংলাদেশ', 'দাস্তানে মুহাম্মাদ' ইত্যাদি।  

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দেশের মানুষকে একত্র করার মানষে; তাঁর কথা ও সুরে বিটিভিতে প্রচারিত একটি গানে কণ্ঠ দেন আইয়ুব বাচ্চু, হায়দার হোসেন, শাকিলা জাফর, বেবী নাজনীন, আগুন, কনকচাপা, মততাজ, শুভ্র দেবসহ একাধীক শিল্পী।  তাঁর কথা,সুর ও কণ্ঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে, 'ইঞ্চি ইঞ্চি মাটি' বিটিভিতে প্রচার হওয়া সর্বাধিক প্রচারিত দেশের গান।  'ইঞ্চি-ইঞ্চি মাটি' গানটি তাঁকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা।  বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি বাহিনীর দলীয় গানটিও তার লেখা।  তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'লাল সাগরের ঢেউ', 'অচিন কাব্য', 'প্রানের আওয়াজ', 'নতুন ঝড়', 'আমার গান', 'মোরাকাবা' প্রেম বিরহের মাঝে' ইত্যাদি। 

২০১১ সালে ইস্ট লণ্ডনের মুসলিম সেন্টারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবিকে 'ন্যাশনাল পোয়েট অব মুসলিম উম্মাহ' মুসলিম উম্মাহর জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।  উক্ত অনুষ্ঠানে কবির সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম খান।  অনুষ্ঠানে ইউরোপের জনপ্রিয় বাঙালী আলেম মুফতী ছদরুদ্দীনসহ গণ্যমান্য অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।  ওই প্রোগ্রামের পরে চ্যানেল আই এবং এনটিভি ইউরোপ শাখার আয়োজনে দীর্ঘ 'ফোনো লাইভ' প্রোগ্রামে অতিথী হিসেবে উপস্থিত হন।  যে অনুষ্ঠানটি একযোগে প্রচার হয়েছিলো গোটা ইউরোপজুড়ে। 

কিশোরগঞ্জ জেলার ঐতিহাসিক এক দীনী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই কবি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ও ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া থেকে বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক ক্লাসিক্যাল শিক্ষা দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স সমমান) সম্পন্ন করেন।  এরপরে কবি বিভিন্ন গবেষণাকর্মে রত থাকেন।  বাংলাদেশের বহুলালোচিত জাতীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক লিখনী পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।  ছিলেন ইসলামিক টিভির অনুষ্ঠান প্রধান। 

একজন মুহিব খান, যিনি আল্লাহ প্রদত্ত প্রতিভার সদ্ব্যবহার করে, ব্যতিক্রমতাকে অতিক্রম করে ফিরিয়ে এনেছেন সাহিত্যের স্বর্ণালী যুগ।  বাংলাভাষা বিশ্বের একটিমাত্র ভাষা, যে ভাষার জন্য হয়েছে রক্তাক্ত সংগ্রাম।  ঝরেছে জীবন।  বিশ্বের বুকে একমাত্র বাংলাদেশীরাই গর্বের সাথে বুক টান করে বলতে পারেন, 'আমরা ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি! আমরা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি! ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি! ভাষার জন্য আমরাই হয়েছি শহীদ!! পৃথিবীতে 'ভাষাসৈনিক' শব্দটি আবিষ্কার হয়েছে আমাদের-ই জন্য!!!' সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন বাংলাদেশী কবি হিসেবে বাংলাভাষায় সমগ্র কুরআনের বিশুদ্ধ ও সরল কাব্যানুবাদের মাধ্যমে তিনি বাংলাভাষাকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।  নির্দ্বিধায় এটা বলা যায় রবীন্দ্রযুগের অবসান হয়ে, উন্মোচিত হলো সাহিত্যের জাগ্রতযুগ! উল্লেখ্য জাগ্রতকবি আল্লামা মুহিব খান কবি হিসেবে জাতির সামনে আত্মপ্রকাশ করেন ২০০১ সালে 'লাল সাগরের ঢেউ' কাব্যগ্রন্থ দিয়ে এবং সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আবির্ভূত হন ২০০২ সালে 'সীমান্ত খুলে দাও' এ্যালবামের মাধ্যমে।  তাঁকে যে বিশেষণে বিশেষায়িত করা-ই হোক না কেন, মূলতঃ তিনি দেশ এবং দেশের বাইরে জাগ্রতকবি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। 

লেখক : কবি,সাংবাদিক ও মুহিব খান গবেষক*