৮:৫৭ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার | | ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

ইতিহাস ঐতিহ্য-

‘শার্শার এক ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর লক্ষ্মণপুর স্কুল এন্ড কলেজ’-১

১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৫


ইতিহাস ঐতিহ্য-

‘শার্শার এক ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর লক্ষ্মণপুর স্কুল এন্ড কলেজ’-১

। । গেফার সালেম। । 

ইতিহাস বড় অপ্রিয় অসত্যবাদীদের কাছে আর বড় প্রিয় সত্যবাদীদের।  এটা কিন্তু মোটেও অবাস্তব নয়।  কথাটা শুনতে বড় খারাপ লাগছে কারো কাছে আবার অনেকের কাছে ভিন্ন।  কিন্তু কেন বলা সেটা যদি মন প্রাণ দিয়ে একটু উপলব্ধি করার চেষ্টা করেন তাহলে আমার এ কথাটা কারো মনে এতোটুকু কষ্ট দেবে না।  ভনিতা প্রসংগ এ পর্যন্ত থাক।  এবার আসল কথায় আসা যাক।  আমি আজ যে ইতিহাস নিয়ে দেশবাসীর সাথে কথা বলব সে বিষয়টা আপনাদের অনেকেরই কম বেশী জানা।  আবার অনেকেরই কাছে আবার অজানা।  অজানা কেন বলছি।  কোন ঘটনা যদি বইয়ের পাতায় ঠাই না পায় তাহলে একদিন তা কালের পাতা থেকে বিলীন হয়ে যায়, যেতে বাধ্য।  কিন্তু কি ভাবে?-সে কথাটি বলব।  আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে কত বছর? তা পঞ্চাশ বছর হতে চলল।  কথাটা কি মিথ্যে না সত্যি! অবশ্যই সত্য।  ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে রক্তক্ষয়ী নয় মাস শেষে স্বাধীন হয় ১৬ই ডিসেম্বর’৭১।  ত্রিশ লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে আর দুই লক্ষ মা’ বোনের সম্ভ্রম ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।  এ সত্য দিবালোকের ন্যায়।  আমি ওই প্রসংগ ছেড়ে আর একটা সত্য ঘটনার উপস্থাপন করতে চাই।  দেখতে দেখতে আমাদের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী আসন্ন প্রায়।  সারসা একটি ঐতিহাসিক জনপদ।  এ জনপদের শব্দ নামের বানানও আবার ধ্বনি আঙ্গিকে দুরকমে সিদ্ধ।  সে বিষয়ে অন্য সময়ে আলোচনা আনব। 

আমাদের দেশ তখন ইংরেজ শাসনামল।  তথা পাক ভারত সবই তাঁদের অতর্গত।  শার্শা তথা সারসা যে বানানেই ডাকি না বা লিখিনা কেন মূলত এটা আজ থানা, উপজেলা।  আর এই পরিচয়ই আমাদের সত্য ইতিহাস।  ইংরেজ শাসকরা খুব খারাপ ছিল তাই না? কেও বলেন হ্যাঁ, আবার কেও বলবেন না।  থাক সে তর্ক।  আমি তর্কের উর্দ্ধে থাকতে চাই।  শার্শা বা সারসা উপজেলা আমাদের যশোর জেলার দক্ষ্মিণ পশ্চিম দিকের ভারত সীমান্তের অঞ্চল।  এগারটি ইউনিয়ন নিয়ে এটি গঠিত।  এর প্রাগৈতিহাসিক দিক না যেয়ে ঐতিহাসিক দিক নিয়ে আলোচনা করব তাও এর শিক্ষার বিষয়ে।  বেনিয়া ইংরেজরা ভারত বর্ষ শাসনের তাগিদে এদেশে প্রথম যে কাজটি করে সেটি নিঃসন্দেহে শিক্ষা ব্যবস্থা।  কেননা তাঁরা উপলব্ধি করেছিল ইংরেজদের ভাষা কৃষ্টি কালচার এদেশের (ভারত বর্ষের) মানুষের মাঝে ঢুকিয়ে দিতে হবে।  আর সেই চিন্তা পরিকল্পনা থেকে এদেশে বিভিন্নাঞ্চলে একে একে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বাতিঘর প্রতিষ্ঠা করে।  আর এর থেকে আমাদের গর্বিত এ শার্শা তথা সারসা উপজেলা উপজেলাও তাঁদের দিয়ে অনেক অনেক বাতিঘর পেয়েছে।  তাও উপজেলারই কিছু আলোক বর্তিকার হাত দিয়ে।  সে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা বাতিঘরের একটি উত্তর শার্শা তথা সারসার ‘লক্ষ্মণপুর স্কুল এন্ড কলেজ’।  বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে রুপান্তরিত।  হ্যাঁ, এবার আসি এর ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণে।  সময়টা ব্রিটিশ আমল।  মানে-ইংরেজ শাসনামল। 

এ অঞ্চলের জন মানুষকে শিক্ষিত করতে ১৯৩৮ সালে বা খৃস্টাব্দে লক্ষ্মণপুর জনপদে জমিদারদের প্রচেষ্টায় প্রথম স্থাপিত হয় একটি নিম্ন মাধ্যমিক বা জুনিয়র হাই স্কুল।  এটি তখন ধুঁকে ধুঁকে চলতে থাকে।  কিন্তু হলে কি হবে সেটি ইংরেজ শাসকদের নেক নজরে বেঁচে থেকে সরকারী সহায়তায় বিদ্যালয়টি ভবন পায় টিন শেডের।  যা কিনা ছিল খুবই উন্নতমানের।  ছিল লোহার এ্যাঙ্গেল ফ্লাডবার দিয়ে তৈরি।  ভবনটি ছিল অত্যন্ত মজবুত।  লম্বায় ছিল পুব পশ্চিম।  পাক-ভারত স্বাধীনতা সময় পর্যন্ত এটির নিয়ন্ত্রণ হতো বনগাঁ মহকুমা সদর থেকে।  আমাদের যশোর জেলাও ছিল সে সময় বনগাঁ মহকুমার অধীন।  আটত্রিশ, চল্লিশ, পঁয়তাল্লিশ- সাতচল্লিশের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে জন্ম নিল আবার দুটি দেশ।  এক পাকিস্থান, দুই ভারত।  ১৪ আগস্টে পাকিস্থান আর ১৫ আগস্টে ভারত পেল স্বাধীনতা।  ভাগ হলো দুটি দেশ।  পুর্ব বাংলা হলো পূর্ব পাকিস্থান আর পশ্চিম বাংলা হলো ভারত।  লক্ষ্মণপুর গ্রাম জনপদটি শার্শা তথা সারসা থানার অন্তর্গত, ইংরেজদের বিদায় পরবর্তী পাকিস্থানের অংশ হলে প্রথমে এ শিক্ষা বাতিঘরটি হোঁচট খায়।  ১৯৪৮সালে পূনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে এবং প্রথম জুনিয়র স্কলার্শিপ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।  (চলবে---)