১:৩১ পিএম, ২৩ জানুয়ারী ২০২১, শনিবার | | ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জে রিমান্ডে ভয়-ভীতি দিয়ে স্বীকারোক্তি মিলেছে সত্যতা

০৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:১২


নারায়ণগঞ্জে মৃত স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় করা বিচারিক তদন্তে পুলিশ হেফাজতে (রিমান্ডে) থাকাকালে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের মারধর, ভয়-ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। 

‘ধর্ষণ ও হত্যার’ শিকার পঞ্চম শ্রেণীর ওই ছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনার বিষয়ে বিচারিক অনুসন্ধান করে নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা ফেরদৌসের দেয়া প্রতিবেদন মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে উপস্থাপন করা হয়। 

পরবর্তী আদেশের জন্য ১৩ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত।  এর আগে ৪ জানুয়ারি বিচারিক অনুসন্ধানের প্রতিবেদন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেয়া হয়েছিল।  হাইকোর্টে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।  রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: সারওয়ার হোসেন। 

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা এবং মামলা পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা, যৌক্তিকতা ও মামলার নথি তলব চেয়ে গত ২৫ আগস্ট পাঁচ আইনজীবী হাইকোর্টে আবেদন করেন। 

পরে ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে ছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় সাবেক তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে হাইকোর্ট।  মামলার নথিসহ হাজির হতে নির্দেশ দেয় বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে।  ওই নির্দেশ অনুযায়ী হাজির হয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর ব্যাখ্যা দেন।  এরপর আদালত ২৪ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। 

পরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিচারিক অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আদেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট।  পরবর্তী সময়ে অনুসন্ধানের জন্য ১৯ নভেম্বর আরো এক মাস সময় চান নারায়ণগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।  ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সময় দিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ৫ জানুয়ারি দিন ঠিক করেছিল আদালত। 

মঙ্গলবার আদালতে উপস্থাপন করা প্রতিবেদনের মতামত অংশে বলা হয়, ’তবে পুলিশ হেফাজতে (পুলিশ রিমান্ডে) থাকার সময় তদন্ত কর্মকর্তা মো: শামীম আল-মামুন, এসআই নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার বিরুদ্ধে আসামিদের মারধর, ভয়-ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করার অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। ’

হাইকোর্টে আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন আইনজীবী মো: আসাদ উদ্দিন, মো: জোবায়েদুর রহমান, মো: আশরাফুল ইসলাম, মো: আল রেজা আমির ও মো: মিসবাহ উদ্দিন।  গত ২৪ আগস্ট ‘ধর্ষণের পর লাশ ফেলে দেয়া স্কুলছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তনের’ খবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। 

ঘটনার বিবরণে শিশির মনির জানান, গত ৪ জুলাই পঞ্চম শ্রেণীর ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়।  গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।  মামলার পর পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে।  তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

স্বীকারোক্তিতে তারা বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। ’

জবানবন্দি নেয়ার পর আসামিদের জেলে পাঠানো হয়।  কিন্তু ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া যায়।  এখন প্রশ্ন উঠেছে, আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, যেখানে ওই ছাত্রী অক্ষত অবস্থায় ফেরত এসেছে?

আবেদনে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, বাদি এবং আসামিদের বিবাদি করা হয়।