৮:৪৫ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ৩ রমজান ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা ব্যাংকে লেনদেন চলবে

০৬ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫০


করোনা মহামারির সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এক সপ্তাহের জন্য ব্যাংক লেনদেনের সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে।  সোমবার থেকে আগামী রবিবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্যাংকে লেনদেন করা যাবে।  তবে ব্যাংকে কর্মীদের অবস্থান করতে হবে দুপুর ২টা পর্যন্ত।  সাপ্তাহিক ছুটির দিন এ নিয়ম প্রযেজ্য হবে না।  অর্থাৎ ব্যাংকে কোনো লেনদেন হবে না। 

ব্যাংকের স্বাভাবিক লেনদেন সময়সীমা সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা।  কর্মীদের উপস্থিত থাকতে হয় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।  তবে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের হাত থেকে বাঁচতে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত করে আনতে রবিবার ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।  

নতুন সময়সীমার মধ্যে ব্যাংকের গ্রাহকরা নগদ টাকা জমা, উত্তোলন, ডিমান্ড ড্রাফট বা পে অর্ডার ইস্যু, ট্রেজারি চালান, সরকারের সামাজিক কার্যক্রমের ভাতা, রেমিট্যান্সের টাকা তোলা, আভ্যন্তরীণ ও আন্তঃশাখা অর্থ স্থানান্তর, সঞ্চয়পত্র মেয়াদপুর্তিতে নগদায়ন ও কুপন পেমেন্ট, গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল দেওয়াসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের চালু রাখা বিভিন্ন পেমেন্ট সিস্টেম বা ক্লিয়ারিং ব্যবস্থার লেনদেন সুবিধা পাবেন।  

তবে এই সময়ে ব্যাংকের সব শাখা চালু থাকবে না।  সিটি করপোরশেন ও জেলা সদরে অনলাইন সেবার আওতায় থাকা ব্যাংকের দুই কিলোমিটারের মধ্যে একাধিকা শাখা থাকলে এর মধ্যে একটি চালু রাখতে পারবে ব্যাংক।   

এক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখাগুলোতে জরুরি ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় জনবলের বিন্যাস ও উপস্থিতির বিষয়টি ব্যাংকগুলোর হাতে ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

তবে জনস্বার্থে ব্যাংকিং সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও অফিসের কর্মপরিবেশে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ সংক্রান্ত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে।      

সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং চলাকালে আগের মঞ্জুরি করা বা বিতরণের অপেক্ষায় থাকা ঋণের অর্থ ছাড় করা, প্রণোদনার ঋণ বিতরণ এগিয়ে নেয়া, শ্রমঘন শিল্প এলাকায় শ্রমিকদের বেতনভাতা পরিশোধ ও রপ্তানি বিল কেনা অব্যাহত রাখতেও নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।   

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অথোরাইজড ডিলার শাখাগুলোতে লেনদেন অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে।  বন্দর বা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে  সমুদ্র, স্থল, ও বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা, বুথ সার্বক্ষণিক খোলা রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।   

ব্যাংকের শাখায় না গিয়েও যাতে গ্রাহকরা নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে পারে এ জন্য এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক টাকা মজুত রাখা, এটিএম বুথে স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   

তবে এজেন্ট ব্যাংকিং লেনদেন করা বা না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সোমবার ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সার্বিক কার্যাবলী বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করে।  তাতে সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়।  সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরী কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে খোলা রাখতে বলা হয়।   

এরপরপরই ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত করার নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ।