৮:৫১ পিএম, ১৫ এপ্রিল ২০২১, বৃহস্পতিবার | | ৩ রমজান ১৪৪২

Developer | ডেস্ক

লকডাউনে শ্রমিকদের জন্য মাসিক সরকারি অনুদানের দাবি জানালেন মির্জা ফখরুল

০৭ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৪২


চলমান লকডাউনে শ্রমিকদের জন্য মাসিক সরকারি অনুদানের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি এ দাবি জানান। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মরহুম জাফরুল হাসানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।  ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ শ্রমিক নেতা জাফরুল হাসান। 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই কোভিড-১৯ কালে অবশ্যই শ্রমিকদেরকে সাবসিডি দিতে হবে।  শ্রমিক কর্মী ভাই যারা আছেন তাদেরকে অবশ্যই সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ সহযোগিতা করতে হবে।  এই মুহূর্তে এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় দাবি। ’

তিনি বলেন, ‘আমরা এ দাবি করছি যে, দেশে ইনফরমাল সেক্টারে যত শ্রমিক আছেন, আমাদের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে যত শ্রমিক আছেন, অন্যান্য কলকারখানার সাথে যেসব শ্রমিক যুক্ত আছেন তাদের প্রত্যেককে মাসের একটা অনুদান অবশ্যই দিতে হবে, যেটা অন্যান্যদেরকে দেয়া হয়েছে। ’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘করোনাকালে শুধুমাত্র মালিকদেরকে সহায়তা দিলেই হবে, শুধুমাত্র ব্যাংক থেকে ঋণ দিলেই হবে না।  আসুন আমরা শ্রমিকদের আন্দোলন গড়ে তুলি যে, আজকে এই সময়ে তাদের ইনসেনটিভ দিতে হবে, তাদের ত্রাণ দিতে হবে, তাদের সহযোগিতা দিতে হবে। ’

দলের অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমাদের দলের অনেক কষ্ট, অনেক দুঃসময়।  অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি।  আমাদের প্রধান যিনি আমাদের নেতৃত্ব দেন যার কথায় আমরা অনুপ্রাণিত হই, আমরা ঝাঁপিয়ে পড়ি সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিন বছর ধরে আজকে কারাগারে।  এটা ভাবা যায় না, কল্পনা করা যায় না।  আজকে যিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব তিনি ৮ হাজার মাইল দূরে নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। ’

‘৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা।  নতুন করে আবার শুরু হয়েছে এই কয়েক দিনে ২০ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।  আমাদের খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সেলিমা আপা (সেলিমা রহমান), রুহুল কবির রিজভী থেকে শুরু করে অনেকে আজকে অসুস্থ হয়ে, কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে।  আমাদের মওদুদ ভাই (মওদুদ আহমদ) আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, আমাদের রুহুল আলম চৌধুরী চলে গেছেন, আমাদের ইয়াং একজন নেতা খন্দকার আহাদসহ অনেকে চলে গেছেন।  এই অবস্থা আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে, আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে দেখুন, গ্রোথ হচ্ছে মালিকদের।  তারা গাড়ি কিনছেন, বাড়ি কিনছেন, বিদেশে প্রপার্টি তৈরি করছেন।  আর আমার শ্রমিক ভাইয়েরা, বোনেরা তারা বস্তিতে একটা ঝুপড়ির মধ্যে বাস করেছে, দুইবেলা ঠিক মতো তারা খেতেও পায় না।  দিস ইজ দি রিয়েলিটি।  কেউ কথাও বলছি না এই বিষয়ে। ”

জাফরুল হাসানের কর্মময় জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে জাফরুল ভাই চলে গেছেন।  আমার বার বার তার কথা মনে পড়ে এজন্য যে, সত্যিকার অর্থে আজকাল এ ধরনের নেতা আর কোথায়? এক নজরুল ভাই (নজরুল ইসলাম খান) আছেন।  বাতি জ্বালিয়ে আর তো আমি দেখতে পাই না।  কারণ কোথায় কে জোরেশোরে কথা বলবেন, কার কথায় উজ্জীবিত হবে- এ বিষয়ে বোধহয় শ্রমিক আন্দোলনের সাথে যারা জড়িত আছেন, শ্রমিক রাজনীতির সাথে যারা জড়িত আছেন তাদের এই বিষয়গুলো দেখা উচিত। ’

দীর্ঘদিনের সহকর্মীর বর্ণাঢ্য জীবনকর্ম তুলে ধরতে গিয়ে আবেগআপ্লুত কণ্ঠে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আসুন জাফর ভাইয়ের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার প্রতি এই শ্রদ্ধা নিবেদন হোক, এই শপথই আমরা করি যে, আপনি নাই কিন্তু আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য আমরা যারা বেঁচে আছি, যতদিন বেঁচে আছি আমরা ততদিন সংগঠনের জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবো। ’

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক মঞ্জরুল ইসলাম মঞ্জুর পরিচালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল হাসান জুয়েল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক স্কপ নেতা ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম, কেন্দ্রীয় নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন, সালাহউদ্দিন সরকার, মিয়া মো: মিজানুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, আবুল খায়ের খাজা, এম জি ফারুক, আসাদুজ্জামান বাবুল, কোহিনুর মাহমুদ, মফিদুল ইসলাম মোহন, কাজী আমীর খসরু, খন্দকার জুলফিকার মতিন, মরহুম নেতার মেয়ে নাসরিন হাসান টিমা বক্তব্য রাখেন।